চাঁদপুর জেলা লকডাউন

0
36

মিজানুর রহমান রানা:
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক।

এ ব্যাপারে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক জানান, এতদ্বারা জেলার সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রামক ঝুঁকি মোকাবেলায় করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি চাঁদপুর এর সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনাক্রমে এবং সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) 2018 এর ১১(১)(২)(৩) এর ধারা মোতাবেক চাঁদপুর জেলাকে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হলো।

http://picasion.com/

এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথে অন্য কোনো জেলা হতে চাঁদপুর জেলায় প্রবেশ করতে বা এ জেলা হতে অন্য জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃ উপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

তিনি আরো বলেন, সকল ধরনের গণপরিবহণ, জনসমাগম পূর্বের ন্যায় বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিসেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতা বহির্ভুত থাকবে।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ ০৯ এপ্রিল ২০২০ খ্রি. তারিখ সন্ধা সাতটা হতে কার্যকর করা হবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চাঁদপুর জেলার সকল (৫টি) প্রবেশমুখ লকডাউন করার জন্য জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা করোনামুক্ত হলেও আশপাশের কয়েকটি জেলা বিশেষ করে নারায়নগঞ্জ করোনায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। এ অবস্থায় চাঁদপুরকে করোনামুক্ত রাখতে ও সংক্রমণ রোধ করতে জরুরী ভিত্তিতে জেলার প্রবেশমুখগুলো লকডাউন করতে হবে। যাতে করে কেউ অন্য জেলা থেকে চাঁদপুরে প্রবেশ করতে না পারে এবং এখানকার কেউ অন্যত্র না যেতে পারে। আর অতি জরুরী ক্ষেত্রে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কারো কারো আসা/যাওয়ার একান্ত প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে যানবাহন ও আসা/যাওয়া লোকদের জীবাণুনাশক স্প্রে করা, সংশ্লিষ্টদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

/

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। এক মাসের ব্যবধানে রোগী ও মৃত্যুর হার অনেক বেড়েছে সারাদেশে। তাছাড়া চলতি এপ্রিল মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আশার কথা হচ্ছে, চাঁদপুর জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি। তবে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, চাঁদপুর জেলার পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জে স্বল্পহারে এবং অদূরবর্তী মাদারীপুর, নারায়নগঞ্জ ও ঢাকায় ব্যাপক হারে করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন অনেকে। এসব জেলার সাথে চাঁদপুরের মানুষের ব্যবসা, চাকুরি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কারণে যাতায়াত দীর্ঘদিনের। এসব জেলার সাথে চাঁদপুরের যাতায়াত আগের মতো অব্যাহত থাকলে চাঁদপুরে করোনার ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। সম্ভাব্য এই ঝুঁকি ও শঙ্কা এড়াতে জরুরী ভিত্তিতে আশপাশের জেলাগুলোর সাথে চাঁদপুরের সড়ক ও নৌপথের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে গত ৭ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁদপুরকে করোনা থেকে সুরক্ষায় চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা এবং পাশের জেলাসমূহ থেকে লোক আসা ঠেকানোর যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাঁদপুরের জেলা, সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সদস্য এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনায় কর্ম হারিয়ে বেকার হওয়া রিক্সাচালক, সিএনজি অটোরিক্সাচালক, বাস-ট্রাকের চালক/হেলপার, অটোবাইকচালকসহ বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরসহ অসহায় মানুষকে সঠিক তালিকা করে সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এসব সহায়তা প্রদান ও তালিকা করার ক্ষেত্রে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। কারণ, জনগণের প্রতি নির্বাচিত জনপ্রতিধিদের জবাবদিহিতা, দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনআকাঙ্খাও রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই ভুক্তভোগী/সুবিধাভোগী লোক ও তালিকা প্রণয়ন সঠিক এবং সহজতর হবে। জনপ্রতিনিধিরাই জানেন, স্ব স্ব এলাকায় কারা সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করে আসছেন। ফলে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোককে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চাঁদপুর জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে আপনারা সবাই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করুন। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ঘরের বাইরে অবস্থান করবেন না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হলে ঘরে থেকেই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে অবহিত করুন। যে কোনো অসুস্থতা বা করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বসেই স্ব স্ব উপজেলা/জেলার সরকারি হাসপাতালের মোবাইল ফোনে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট আমরা সবাই আপনাদের পাশে আছি, পাশে থাকবো। আসুন, আমরা সবাই করোনামুক্ত থাকতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনাগুলো মেনে চলি।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
207 জন পড়েছেন
http://picasion.com/