জাপানি ওষুধে ৭ দিনে করোনামুক্ত!

 

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে জাপানের তৈরি একটি ওষুধ আশার আলো দেখিয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এক পরীক্ষায় সাফল্য এনে দিয়েছে ‘আভিগান’ নামে একটি ওষুধ। একদল জাপানি গবেষক এমন দাবি করে জানিয়েছে, মাত্র সাত থেকে নয় দিনে একজন রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন এই ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে।

জাপানের গবেষকরা ওষুধটি ১২০ জন রোগীর ওপর এটি প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এক রোগীর ওপর আভিগান প্রয়োগ করার পর তিনি মাত্র ৭ দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

/

 

তবে আভিগানের সঙ্গে তারা আরেকটি ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। জাপানের চিকিৎসায় চলমান ওরভোসকো নামের ওষুধের সঙ্গে আভিগানের যৌথ প্রয়োগ করেন একজন মধ্যবয়সী রোগীর ওপর। তিনি মাত্র ৯ দিনে সুস্থ হয়ে গেছেন।

গবেষক দল আরও বলছে, সন্তানসম্ভবা নারীদের এ ওষুধ প্রয়োগে নেতিবাচক ফলাফল আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়নি।

ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসকরাও হতভম্ব

করোনাভাইরাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বুধবার (৮ এপ্রিল) একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড গড়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এতটাই দ্রুত ঘটছে যা দেখে চিকিৎসক ও নার্সদের চোখ কপালে উঠছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে। দেশটির শহর নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বয়স্ক ও আগে থেকে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় থাকা রোগীরাই কেবল ঝুঁকিতে না, তরুণ ও স্বাস্থ্যবানরাও রয়েছেন।

নিউইয়র্ক শহরের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের নার্স ডিয়ানা টরিস জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীকে দেখতে এই ভালো, আবার এই খারাপ হচ্ছেন। ভালো রোগীকে দেখার পর অন্য রোগী দেখে এসে আবার তাদের ভালো পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, আমার মানসিকভাবে বিকল হয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছে। তাদের কক্ষের বাইরে পা দিতেই আতঙ্ক বোধ করছি।

gif maker

ছোঁয়াচে রোগ নিয়ন্ত্রণে এমন পদক্ষেপ আবশ্যিক বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করলেও এতে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। লোকজনকে ব্যাপকহারে বেকারত্বে দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কিউমো বলেন, প্রতিটি নম্বর একেকটি মুখমণ্ডল। মারা যাওয়া লোকজনের স্মরণে রাজ্যটিজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।

কিউমো বলেন, তার রাজ্যে গতকাল ৭৭৯ জন মারা গেছেন। আর নিউজার্সিতে মৃত্যু হয়েছে ২৭৫ জনের। মৃত্যুর এই দুটো হিসাবেই আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ওয়ার্ল্ড মিটারের সবশেষ তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত চার লাখ ৩০ হাজারের মতো লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪২টি রাজ্যে ‘ঘরের থাকার নির্দেশ’ জারি করা হয়েছে, নিউইয়র্ক তাদের একটি। এসব জায়গার সব অপ্রয়োজনীয় কর্মস্থানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

627 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়