tran chandpur report

ত্রাণ-পরিত্রাণ ক্ষোভ-বিক্ষোভের গল্প

 

মিজানুর রহমান রানা :
ত্রাণ। করোনা। আজকের বিশ্বে এ শব্দ দুটি বহুল ব্যবহ্রত। যেখানেই করোনা, সেখানেই ত্রাণ। খাদ্যের জন্যে সাধারণ মানুষের হাহাকার।

করোনায় একদিকে মানুষের হার্টবিট বন্ধ করছে, অন্যদিকে বন্ধ করছে আয়-রোজগার। তবুও ক্ষুধারা বসে নেই কোনো। তারা মানুষের পাকস্থলীমুখে এসিড ঢালে, ক্ষুধা বাড়ায়। গরিবের পেটে বেশি ক্ষুধা।

তাই বলে কি ধনীর পেটে ক্ষুধা নেই? আছে। ক্ষুধা আছে। কিন্তু সেটা প্রকাশ পায় না এই জন্যে যে, তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য অর্থ-বিত্ত¡ আছে। ধনী চাইলেই তার ক্ষুধা সহজেই নিবারণ করতে পারে। কিন্তু গরিব। সে যেদিকে যায়, সাগরও শুকায়।

তাদের নিয়ে বাণিজ্য চলে। কয়েক জেলায় গরিবদেরকে ত্রাণ দেবে বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়। তারপর তাদেরকে ঠেলে দেয় বিক্ষোভের দিকে। ত্রাণের জন্যে বিক্ষোভ।

সরকার ত্রাণ ঢালে, কিন্তু বেশিরভাগ ত্রাণ নেতা-কর্মীদের চরণে মাল্য দেয়। পকেটে ত্রাণে চাল-মুড়ি ঢালে। ত্রাণেরও পা আছে। তারা হেঁটে হেঁটে গরিবের ঘরে যেতে চায় না। যেতে চায় অন্যদিকে- চেয়ারম্যানের গোলায়! যেমন পানির স্বভাব, যেদিকে ঢাল পায় সেদিকে ত্রাণ চলে যায়।

এখন ত্রাণ নিয়ে নতুন কীর্তি, নতুন গান। কারো কারো জেল হয়, জরিমানা হয়। সরকার কঠোর হয়। তবুও ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ হয়। কারণ ‘লোম বাছতে যে কম্বল উজাড়!’

তবুও সরকারের প্রাণপণ চেষ্টা। জনগণ অসহায়। ক্ষুধা, আর ক্ষুধা। চারদিকে করোনার গান। নেই কাজ, নেই কোনো আয়। ভয়, আর ভয়- কোথায় গেলে ভবলীলা সাঙ্গ হয়।

মরছে মানুষ, নেই কোনো হুঁশ। ত্রাণের জন্য মিছিল। মৃত্যুর জন্যে সমবেত হওয়া। হায় মৃত্যু, তুমি কতটাই সহজ। করোনার হুল কখন ফুটবে গায়ে, আর ঢলে পড়ব মৃত্যুর কোলে। তবুও ত্রাণ চাই, পরিত্রাণ চাই। এখন করোনার চেয়ে যে, আমাদের ক্ষুধার কষ্ট বেশি!

কেউ ভিক্ষার টাকা দান করে ত্রাণ তহবিলে, কেউবা হজে¦র টাকা ত্রাণ হিসেবে দিয়ে দেয়। আর কেউ ভিক্ষুকের ত্রাণ কেড়ে খায়। এ যেনো ‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি’।

হায়! কবে ফিরবে আমাদের বিবেক বোধ? আমরা কবে সত্যিকার মানুষ হবো? আমরা এখনও গলাগলির জায়গায় ‘গালাগলি’তে মগ্ন। গালি দেই চোখ বুঁজে। কাকে গালি দেই তাও জানি না। কেউ ক্ষুধাকে গালি দেয়, কেউ ভাগ্যকে গালি দেয়। আবার কেউ বা খালি খালি বাতাসকেও গালি দেয়।

হুঁশ নেই বেশিরভাগ মানুষের। তারা অন্যের আবিষ্কারের দিকে চেয়ে থাকে। নিজে আবিস্কার করতে জানে না। অন্যরা করোনার টিকা আবিস্কার করবে, আর আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুষবো। আমরা ত্রাণ চুষবো। আমরা চুষতেই থাকবো।

আমরা ত্রাণের আশায় বসে থাকি। আমরা অন্যের ভ্যাকসিন আবিস্কারের দিকে চেয়ে বসে থাকি। আমাদের হাত নেই, পা নেই, নেই মগজ-বিদ্যে।

তাহলে আমরা ত্রাণ চুরি করবো না তো কি করবো? আমরা তো নিজে কিছুই করতে জানি না। জানি শুধু অন্যের বাড়া ভাতে ছাই দিতে। হায় কবে ফিরবে আমাদের আক্কেল-জ্ঞান?

আমাদের মেধাবী সন্তানগুলো আজ বিক্রি হয়ে গেছে কার কাছে?

348 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন