chandpur report Humayan kabir 3

অরক্ষিত লকডাউন ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

হুমায়ুন কবির বেপারী :

যখন ৮ মার্চ ২০২০ খ্রি. সালে সরকারিভাবে টানা ১৫ দিনের লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছিল তখনি লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি শুরু হয়। হাটবাজারে শুরু হয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিযোগিতা।

আজব দেশের বেহুশ (ধনী) মানুষগুলো প্রয়োজনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি পণ্য ক্রয় করার সুযোগে ব্যবসায়ীকরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন লভ্যাংশের সংখ্যাটা একটু বড় করে। তাতে কি যার টাকা আছে তার মূল্য যাঁচাই বাঁচাইয়ের প্রয়োজন কি!

কিন্তু যার আছে সে এবং মুনাফাভোগী ব্যবসায়ী দুই-য়ে মিলে যে গরিব ও মধ্যবিত্তদের গলায় ছুরি বসিয়ে দিয়েছে, তাতে কার বা কি আসে যায়। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের বাজার এখনও নিয়ন্ত্রণহীন। ব্যবসায়ীদের অজুহাতের হাত এতই বড় যে, লকডাউন চলছে, পণ্য আসতে পারে না।

জনগণের সাথে এমন ঢাহা মিথ্যা বুলি দান শয়তান ছাড়া কেউ দিতে পারে বলে আমার জানা নাই। কিন্তু সরকার প্রধান যে পণ্যবাহী সকল পরিবহণ লকডাউনের আওতামুক্ত করেছেন সেটা হয়তো তারা জানেনা। জানেন তো ঠিকই, কিন্তু শয়তানি না করলে ব্যবসা করবেন কি ভাবে।

Nk up

যাই হোক তবু আশা ও বিশ্বাস রাখি মানুষের বিবেক সঠিক ও সৎ পথের কর্ম দ্বারা জাগ্রত হবে। মানব সেবায় হবে তাদের মূলধন।

তবুও একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি অন্যদিকে ভয়াল করোনার আঘাত। আক্রান্ত ও লাশের সারি দীর্ঘ করে তুলেছে এর শেষ কোথায়? কোন পথে? এমন নিষ্ঠুর নিয়তি সত্যিই মেনে নেয়া অসম্ভব। নিয়ন্ত্রণহীন করোনার বিস্তার যখন শুরুর দিকে সীমিত ছিলো তখন পুরো ব্যর্থতার চাদরে ঢাকা ছিল দেশের বিমান বন্দর, নৌ-বন্দর, স্থল বন্দর।

এমনকি লকডাউনের কার্যক্ষমতা। যার ফলে সারাদেশে লকডাউন হয়ে উঠে অরক্ষিত। যদিও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ ছিল যথার্থ।

প্রশাসন যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছে জনগণের মধ্যে সচেতনতা জাগিয়ে তোলার। কিন্তু নিরূপায় ছিলো তাদের হাতের লাঠি। যখন ক্ষুধার্ত মানুষের বুকফাটা কান্না আর চোখের জল সেনাবাহিনী ও পুলিশের হৃদয় নরম করে দেয় তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ ছিল সত্যিই অসহায়।

তারাও চেষ্টা করে যে যেভাবে পেরেছেন সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বাধীনতার পর এবারই দলমত ভুলে পুলিশ ছিল আগের তুলনায় যথেষ্ট দায়িত্বপরায়ণ।

add all nk last

তাই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রতি জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে সকল সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি রইলো আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।

আজ হৃদয় জু্ঁড়ে আফসোস হচ্ছে দেশ আছে, পতাকা আছে, সরকার আছে। কিন্তু জনগণের সেবা নেই। জনগণের অধিকার নেই।সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউন এক দিকে করোনার আতংক ও মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে অন্যদিকে চিকিৎসা ও খাদ্যাভাব ঘনীভূত হচ্ছে। এভাবে আর কয়েক দিন চলতে থাকলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হবে। তবুও আশা করি সু-রক্ষিত হোক লকডাউন। সহনীয় হোক দ্রব্যমূল্য।

লেখক পরিচিতি : নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সাদা কাগজ।

শেয়ার করুন