মতলব আইসিডিডিআরবি’তে নয় দিনে তিন শতাধিক মা-শিশুর চিকিৎসা

মতলব প্রতিনিধি :

করোনার আতঙ্কে প্রায় দু মাস ধরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলো অনেকটাই রোগীশূন্য দেখা গেছে।

তবে করোনাকালে মতলবের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে গত নয় দিনে ৩শ ২ জন মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।এতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন দারুনভাবে উপকৃত হচ্ছে।

জানা যায়, করোনা ভীতির কারণে মতলবের বেসরকারী চিকিৎসকদের গা-ছাড়া ভাবে এসব হাসপাতালে যেতে রোগীদের চরম অনীহা।

এর বিপরীত চিত্র চলছে আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতালে। সেখানে মা-শিশুদের চিকিৎসা চলছে পুরোদমে। গত নয় দিনে সেখানে ৩শ ২ জন মা ও শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালটি এখন তাঁদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতনমহল।

আইসিডিডিআরবির হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে গত নয় দিনে (১ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত) প্রসবকালীন, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর চিকিৎসা নিয়েছেন ২শ ৭৮ নারী।

এ সময় সাধারণ প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) হয় ১৭ গর্ভবতী মায়ের। সর্দি, জ্বর ও আমাশয় এবং আরও বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিয়েছে ২৪টি শিশু।

এদের বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া আটটি অপুষ্ট নবজাতককে ‘ক্যাঙারু মাদার কেয়ার ইউনিটে’ এবং ছয়টি নবজাতককে বিশেষ ইউনিটে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, ওই নয় দিনে মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৩শ ২ জন মা ও শিশু। প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩৪ জন (মা ও শিশু)। এসব মা ও শিশুর বাড়ি চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ এবং ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরসহ আশপাশের এলাকার।

রোববার দুপুর একটা পর্যন্ত সেখানে চিকিসা নিয়েছে ৭০ জন মা ও শিশু। চিকিৎসা নেওয়া ওই ৩শ ২ জন মা ও শিশুর সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। রোববার ওই হাসপাতালে দেখা যায়, সেখানকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডই রোগীর ভীড়।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোর পাশাপাশি মা ও শিশু ওয়ার্ডগুলোও রোগীতে পরিপূর্ণ। করোনার সংকমণ এড়াতে চিকিৎসক ও নার্সরা ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) পরিধান করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

উপজেলার কলাদী গ্রামের প্রসূতি নারী ফেরদৌসী বেগম (২১) বলেন, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা ও সেবা নেওয়ার জন্য আজ এখানে এসেছেন।

চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়েছেন। করোনার এ সময়ে এই হাসপাতালটিই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা।

তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক সমস্যা নিয়ে এখানকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে একাধিকবার গিয়েও চিকিৎসা পাননি।

করোনার ভয়ে চিকিৎসকেরা সেখানে ভর্তি করা তো দূরের কথা ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন নি। তাঁর মতো অনেকেই এসব হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাননি।

আইসিডিডিআরবির ডাঃ চন্দ্র শেখর দাস বলেন, করোনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাঁর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত সতর্কতা ও করোনাজনিত নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই দুর্যোগে কোনো রোগী বিশেষ করে কোনো প্রসূতি মা ও শিশু যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

64 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়