কুমিল্লায় ১৫ জন মিলে যুবককে রগ কেটে হত্যা অতঃপর দাফনেও বাধা

কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার কালিরবাজারে পারভেজ হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে লাঠি, হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১জুন) লাশ দাফনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাধা দিয়েছেন। পরে পুলিশের সহায়তায় ওই যুবকের লাশ দাফন করা হয়।

নিহত যুবকের মামা চাঁন মিয়া জানান, পারভেজ এক বছর আগে কালিরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকান্দর আলীর দলে কাজ করতেন। এই দল থেকে সরে আসার পর থেকে চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী তার দলের সঙ্গে থাকার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। সেই ক্ষোভ থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেয়ারম্যান সেকান্দর আলীর নির্দেশে শাহীন, সাদ্দাম, কামাল ও কাউছারের নেতৃত্বে পারভেজকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে পারভেজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবক স্থানীয় সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল মবিনের ছেলে।

স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার বিকালে পারভেজ স্থানীয় সৈয়দপুর বাজার থেকে বাড়ি আসছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তালতলা গ্রামের শাহীন, কমলাপুর গ্রামের কাউছার ও কামাল এবং সৈয়দপুর গ্রামের সাদ্দামের নেতৃত্বে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি মাইক্রোবাস যোগে ১৫ জনের একটি গ্রুপ এসে তার উপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা পারভেজকে মারধর করে মাইক্রোবাসে তুলে কমলাপুর বাজারের একটি স-মিলে নিয়ে যায়। সেখানে পারভেজকে হাতুড়ি, রড দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে পায়ের রগ কেটে দেয়।

তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় কমলাপুর দিঘিরপাড় এলাকার একটি বাগানে ফেলে দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পারভেজ মারা যান।

চাঁন মিয়া আরো জানান, তুলে নেয়ার পর পরই আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। যখন ঘটনা ঘটেছে তখন এলাকার লোকজন দেখেছে কারা নির্মমভাবে পারভেজকে পিটিয়েছে। তার দুই পা ভেঙে দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের প্রস্তুতি কাজে চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী বাধা দেন। বাড়িতে লাশ না নেয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন। পরে আমরা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশের সহযোগিতায় পারভেজের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। দাফন করা পর্যন্ত পুলিশ উপস্থিত ছিল।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী বলেন, ঘটনা আমি পরে জানতে পেরেছি। তাকে হত্যা করতে আমি নির্দেশ দিব কেন? তাকে তো পুলিশ খুঁজছিল। এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে সে মারা গেছে। আমি তার দাফনে বাধা দেইনি। লাশের সঙ্গে কিসের শত্রুতা?

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। লাশ দাফনের বাধা দেয়ার অভিযোগ পাইনি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা হওয়ার পর ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

172 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়