ফরিদগঞ্জে রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে পৌরসভার জনগণের অবস্থান কর্মসূচি

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। ৩০ বছর ধরে প্রতিশ্রুতির বদল হয়, বদল হয়নি রাস্তাটির ভাগ্যের।

এই যখন অবস্থা ঠিক সেই মুহূর্তে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে জুমার নামাজের পর এলাকার সর্বসাধারণ উক্ত সড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা দীর্ঘ ৩০ বছরের কষ্টের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

১৯ জুন শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ অংশের চতুরা এলাকায় দীর্ঘদিন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবস্থান কর্মসূচি তথা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ফরিদগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রহিম, বীমা সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার রুহুল আমিনসহ গণ্যমান্যরা। এ সময় তারা বলেন, চতুরা টু রহমান মিজি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন শত শত মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে এবং অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সবসময়ই জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তাটি অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। সবাই প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কেউই রাস্তাটি করে দেয় না। বর্তমানে রাস্তাটির খুবই করুণ অবস্থা। পায়ে হাঁটাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

gif maker

খবর নিয়ে জানা যায়, উক্ত রাস্তাটি নিয়ে বিগত দিনে জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় বহু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিকরা জনগণের পাশে থাকলেও যাদের থাকার কথা তারা আছেন বহু দূরে। শুধুমাত্র নির্বাচন আসলেই তাদের দেখা মিলে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও একবারের জন্য হলেও সড়কটির কপাল ঘুরেনি।

অথচ ফরিদগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সড়কটি। উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন। বিগত ১৫ বছর ধরে এ কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি তুলে আসছে ভুক্তভোগী পথচারীগণ।

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ সদরের ব্র্যাক (চতুরা) অফিসের উত্তর পাশ দিয়ে পূর্বদিকে চলে যাওয়া ব্যস্ততম সড়কটি মিলিত হয়েছে ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পাকা সড়কে। এ সড়কটির উপর নির্ভরশীল গাব্দেরগাঁও, বড়ালী, বদরপুর, বদিউজ্জামানপুর এবং রুস্তমপুরের কিছু অংশের মানুষ।

দূর গ্রামের লোকজন উপজেলা সদরে আসতে সময় বাঁচানোর জন্য সংক্ষিপ্ত এ রাস্তাটি ব্যবহার করছে। এ রাস্তাটি পাকা হয়ে গেলে ফরিদগঞ্জ সদর থেকে ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ১০ মিনিট লাগবে। অথচ নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। সময়ের দাবি এবং ফরিদগঞ্জ পৌরসভার বিগত ও বর্তমান মেয়রের প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি গেল, কিন্তু রাস্তাটি আলোর মুখ দেখেনি। সড়কটি থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় দেড় কি.মি.। এতো কাছাকছি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের কাছে রাস্তাটির গুরুত্ব নেই!

গ্রীষ্ম এবং বর্ষা, দুই কালই রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গরমে এত বেশি বালু জমে যে পথচারীকে রাস্তা ছেড়ে পাশের কৃষি জমি দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। একটি গাড়ি গেলে দেখা যায় পথচারীর চেহারা বালুতে সাদা হয়ে যায়।

বর্ষাকালের চিত্র আরো ভয়াবহ। কবি যদি তখন এ এলাকাতে থাকতেন তাহলে ‘হাঁটু জল থাকে’-এর পরিবর্তে লিখতেন ‘হাঁটু কাদা থাকে’। বর্ষাকালে রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা রাস্তা, নাকি চারা রোপণের জন্য প্রস্তুতকৃত ধানী জমি। বর্ষাকালে এত পরিমাণ কাদা থাকে যে, গাড়ি চলাতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ সময় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

বড়ালী-গাব্দেরগাঁও মিলে ‘বাঁশতলা’ এবং গাব্দেরগাঁও-বদরপুর মিলে ‘ভোট স্কুল’ এলাকার ছোট- খাটো দু’টি বাজার। এখানকার ব্যবসায়ীরা ফরিদগঞ্জ সদর, রূপসা বাজার, গৃদকালিন্দিয়া এবং রায়পুর থেকে দোকানের জন্য মোকাম করে।

বর্ষাকালে তাদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। এতে তাদের ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

বড়ালী, গাব্দেরগাঁও এবং বদরপুর গ্রামের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন রয়েছেন, যারা ফরিদগঞ্জ বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত দীর্ঘদিন। বাণিজ্য শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন এ রাস্তার মুখোমুখি হন, তখন কষ্টের শেষ থাকে না। গভীর রাতে এ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরতে হয়।

 বড়ালী-গাব্দেরগাঁও-এর মিলনস্থল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে এজি ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেন নামে কোমল-মতি শিশুদের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বাচ্চাদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকে প্রায় শত অভিভাবক। ছোট্ট- ছোট্ট শিশুদেরকেও এই কাদা অতিক্রম করে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অনেক ছাত্র-ছাত্রী কাদার ভয়ে বর্ষাকালে স্কুল যেতে চায় না। স্বাভাবিক কারণে অভিভাকদেরও এতে নীরব সম্মতি থাকে।

এছাড়া গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা-হাসমত ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চাঁদপুর মহিলা কলেজ, চাঁদপুর আল আমিন কলেজ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ, ফরিদগঞ্জ এ আর পাইলট মডেল হাই স্কুল, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা, কাছিয়াড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা, আদর্শ একাডেমি ফরিদগঞ্জ, ব্র্যাক স্কুল, মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন এবং বড়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বহু ছাত্র-ছাত্রী এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

“>
এলাকায় বেশ কয়েকটি নার্সারী রয়েছে। রয়েছে একাধিক ফিশারী এবং হ্যাচারী। এ জন্য প্রতিদিনই পিকাপ ট্রলি সহ পাওয়ার ট্রলি যাতায়াত করে। জনবহুল এলাকা হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়ে শতাধিক যানবাহন চলাচল করে।

রাস্তাটি পাকা হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং মেয়রের দ্বন্দ্বের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সংযোগ সড়কটির কাজ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পৌরসভার অংশ বলে প্রায় সিকি কিলোমিটার রাস্তা বাদ দিয়ে অর্থাৎ পৌরসভার অংশ বাদ দিয়ে ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের সীমানা থেকে রাস্তার কাজ শুর হয়। বাদ পড়ে যায় পৌরসভার অংশের রাস্তাটি।

এ ব্যাপারে উক্ত ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুল মান্নান পরানের সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে একমত পোষণ করেন বলেন, রাস্তাটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। রাস্তাটি নিয়ে আমি অনেক আগ থেকে কাজ করছি। সমস্ত কাগজপত্র ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি সহসাই কাজ হয়ে যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত চলাচলের উপযোগী করে দিতে বলি এবং কংক্রিট ফেলার চিন্তা করছি।

পথচারীরা এখনও স্বপ্ন দেখে পৌর পিতা, পিতার মতই আচরণ করবে। করবে সুষম উন্নয়ন। ভোটের নয় ভালোবাসার রাজনীতি করবেন। ভোট নড়ে-চড়ে। ভালোবাসা স্থির। ভালোবাসা থাকলে ভোট আপনা আপনি চলে আসবে।

62 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়