‘মাসুদ রানা’র ব্র্যান্ডিং আনোয়ার হোসেনের হলেও ২৬০ বইয়ের লেখক হাকিম

নিউজ ডেস্ক :

সেবা প্রকাশনীর পাঠকপ্রিয় স্পাই-থ্রিলার সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র লেখক শেখ আবদুল হাকিম, ‘কাজী আনোয়ার হোসেন’ নয়। একইভাবে সেবা প্রকাশনীর আরেক জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ ‘কুয়াশার’ও ৫০টি বই শেখ আবদুল হাকিমের লেখা হলেও, লেখক হিসেবে নাম রয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের।

প্রায় ১০ বছর আগে নিজেকে থ্রিলার সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র লেখক দাবি করে বাংলাদেশ কপিরাইট রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযোগ জানিয়েছিলেন শেখ আবদুল হাকিম। বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব পায়নি। গতবছর আবার অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১৪ জুন) একবছরের বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই শেষে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর ফলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব পেতে যাচ্ছেন আবদুল হাকিম।

সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মাসুদ রানা’র লেখক হিসেবে সবাই মূলত কাজী আনোয়ার হোসেনকেই চেনেন। কিন্তু এ সিরিজের প্রথম ১৮টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক তিনি নন। এর লেখক শেখ আবদুল হাকিম। অথচ একটি বই বাদে কোনোটিতেই কপিরাইট স্বত্ব নেই তার। একইভাবে সেবা প্রকাশনীর আরেক জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ ‘কুয়াশা’রও ৫০টি বই আবদুল হাকিমের লেখা হলেও লেখক হিসেবে নাম রয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের।

গতবছরের ২৯ জুলাই আবদুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে রোববার রায় দেয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত আবেদনকারীর দাবি করা ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হলো। এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করা প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রীত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয়মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী জানান, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পর অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি হয়। শুনানিতে আবদুল হাকিম লিখিতভাবে নিজেই তার যুক্তি তুলে ধরেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী।

জাফর রাজা বলেন, আনোয়ার হোসেন চাইলে ৯০ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকে ২০টি সিরিজের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন। কাজেই বলা যায়, ‘মাসুদ রানা’র ব্র্যান্ডিং কাজী আনোয়ার হোসেনই করেছেন, আবিষ্কারকও তিনি।

মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের লেখক হিসেবে স্বীকৃতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শেখ আবদুল হাকিম বলেন, এ দুর্যোগের সময়ও খবরটি আমাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে, আমি খুশি। “মাসুদ রানা”র ২৬০টি এবং “কুয়াশা”র ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে আমি স্বীকৃতি পেয়েছি।’

যোগাযোগ করা হলে সেবা প্রকাশনীর পক্ষে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি বেশ জটিল এবং দেশের প্রকাশনা শিল্পের ক্ষেত্রে লেখক ও প্রকাশকের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সন্তোষজনক ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে এদেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপকের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন লেখক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাসেম খান এবং সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খান। তাদের লিখিত মতামতের ওপর ভিত্তি করেই রোববার রায় দেয়া হয়েছে।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পর অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয়পক্ষ সপক্ষে নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। দাখিল করা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। প্রতিপক্ষের লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুনরায় সপক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর দাখিল করা যুক্তির বিষয়ে প্রতিপক্ষ পুনরায় লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

81 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়