mojammel hoq mohon chow

রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিদ্যালয় (শেষ পর্ব)

অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী মোহন :

প্রিয় বিদ্যালয়কে নিয়ে লিখা তিন পর্বের আজ শেষ পর্ব। শেষ পর্ব লিখার শুরুতেই মনে হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বে যেন অনেক কিছুই অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তা তো থাকবেই। কারণ, ১৯৬৬-২০২০ পর্যন্ত এই দীর্ঘ ৫৪ বছরের ঘটনাপঞ্জি এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা দেওয়া সম্ভব না। তাই, অনিচ্ছাকৃত অনেক ভুল ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কে দ্বিতীয় পর্বে অনেক কিছু লিখার পরেও অনেক কিছুই বাকী রয়ে গেছে। তাদের মাঝে সৈয়দপুরের আলী আকবর মাস্টার এবং বারে বারে বিপুল ভোটে নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি, রামপুর বিদ্যালয়ের ছাত্র ও আমার প্রিয় ছাত্র টুকু মজুমদার, আরেক প্রিয় ছাত্র আব্দুর রহমান মোল্লা, নওহাটার শাহজাহান গাজী, মরহুম রুহুল আমিন মাস্টার সাহেব উল্লেখযোগ্য।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে মরহুম সেকান্দর মিয়া আজ নেই। তার কর্মকান্ডের কথা স্কুল সংশ্লিষ্টদের মাঝে কার না জানা। একাধারে সে ছিল পিয়ন, নৈশপ্রহরী ও মেরামতকারী। যেজন্য তাকে অনেকেই নাম ধরে না ডেকে ‘মিস্ত্রি’ বলেই ডাকত। সে আমাক মামা বলে সম্বোধন করত। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে একজনের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। সে হলো নওহাটার আক্কাস মেম্বার। কর্মচারী হয়েও একাধিক বার ইউপি মেম্বার হওয়ার সুযোগ তার হয়েছে। আরও মনে পড়ে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রামপুর গ্রামের মোস্তফা ব্যাপারীর কথা। কমিটিতে থাকাকালীন অবস্থায় তার কাজের সততায় আমি তার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলাম। একটি বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই কর্মচারীদের ভূমিকাও কম নয়।

১৯৬৬ থেকে ২০০০ সাল, অনেক স্মৃতি, অনেক আন্দোলন, অনেক সংগ্রাম ও একটি ইতিহাস। স্মরণীয় ইতিহাস, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। যেই যুদ্ধে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অকল্পনীয়। যুদ্ধের প্রথম প্রহরেই যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের মাঝে উল্ল্যেখযোগ্য আনোয়ার হোসেন মল্লিক, নওহাটার জয়নাল আবেদীন, আব্দুল আউয়াল মাস্টার মার্কির আব্দুল খালেক, মোহাব্বতপুরের মোবারক, নওহাটার গাজী শাহজাহান, মাড়ামুড়ার আব্দুর রব পাটোয়ারী, ওরপুরের বাশার, এবি সিদ্দিক (খোকা), আমার গ্রামের শহিদুল্লাহ ও মফিজ সরদার, লোদপারার আবু বকর, আব্দুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম এবং তার সহোদর শহীদ জয়নাল অন্যতম। ডেপুটি কমান্ডার হাজীগঞ্জের বিএম মহসিন (নয়ন ভাই) ও রামপুর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন।

১৬ ডিসেম্বরের ৮ দিন আগে, যেদিন হাজীগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয় ওই দিনই শত্রু পলায়নকালে বুলেটের আঘাতে জয়নাল শহীদ হন। জয়নালের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসে স্মরণীয় এবং যা রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস কেও গৌরবান্বিত করেছে। মার্কির খালেক শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, স্থানীয় ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের ভূমিকাও পালন করেন তিনি। মরহুম নুরুল ইসলাম মিলিটারির সাথে লোদপারা ও শাকছিপারার গভীর অরণ্যে আমার প্রশিক্ষক ও ছিলেন খালেক।

শুধু মুক্তিযুদ্ধ কেন, সামাজিক-রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রামপুর বিদ্যালয়ের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল স্মরণ করার মত। স্বাধীনতাত্তোর কালে পরপর দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আমাদের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক আলহাজ্জ জুনাব আলী তালুকদার। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কতটুকু করতে পেরেছেন বা পারেননি সে আলোচনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তবে, রামপুর স্কুলের প্রতিষ্ঠায় তার অবদান এবং ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তার চেয়ারম্যান হওয়ার পিছনে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবু নসর পাটোয়ারী এবং একবার মোহাম্মদ হোসেন মোল্লা। উল্লিখিত দুইজনের সাথে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাদের মাঝে উল্ল্যেখযোগ্য আনোয়ার হোসেন মল্লিক, আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ওড়পুরের জিয়াউর রহমান জিয়া। এরা তিনজনই রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাক্তন ছাত্রদের মাঝে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন হাজীগঞ্জ সদরে মামুন মজুমদার এবং ৭নং বড়কুল পশ্চিমের মোহাম্মদ জামাল ভুইয়া।

লেখা প্রায় শেষ পর্যায়ে, লেখার শুরুতে লিখেছিলাম সভাপতির চেয়ে ছাত্রজীবনই ছিল সবথেকে গৌরবের। সেই গৌরবমাখা অধ্যায়ের কিছু কথা এবং বিদ্যালয়কে যারা গৌরবান্বিত করেছে সেসকল মেধাবী, কীর্তিমান ও খ্যাতিমান ছাত্রদের কথা এ পর্যায়ে তুলে ধরছি। ১৯৬৮ সালে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরিক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণ করে। বরাবরই ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জনকারী কালঁচো গ্রামের মনিরুজ্জামান এসএসসি পরিক্ষায় ও সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়।

উল্লেখযোগ্য উত্তীর্ণদের মাঝে আবিদ আলী ভুইয়া, প্রয়াত খোরশেদ মাস্টার, কালঁচোর খলিল ভাই, মুক্তিযোদ্ধা রব ভাই, সৈয়দপুরের প্র‍য়াত আবুল বাশার, গোসাইপুরের শাহজাহান, আমার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উল্লেখযোগ্য। পরের বছর দুইজন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। একজন কুমিল্লা বাগমারার মাহাবুব আলম এবং অন্যজন মিজানুর রহমান তালুকদার। মিজান ভাই পরবর্তীকালে কাস্টম কর্মকর্তা হয়ে বর্তমানে অবসরে আছেন। তৃতীয় ব্যাচটি হল আমাদের ব্যাচ (১৯৭০)। অনেক মেধাবী থাকা স্বত্তেও প্রথম বিভাগে একজনই উত্তীর্ণ হয়। তিনি ভাজনাখাল মিয়া বাড়ির শামসুল আলম মিয়া। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হয়ে তিনিও বর্তমানে অবসরে আছেন। এই ব্যাচে মেধাবীদের মাঝে অন্যতম তুষার কান্তি সাহা, আব্দুল ওয়াহাব এবং আউয়াল পাটোয়ারী।

স্বাধীনতাত্তোর প্রথম ব্যাচ থেকে আজ পর্যন্ত উল্ল্যেখযোগ্য যারা তাদের মধ্যে লোদপারার মোশাররফ হোসেন মশু (ইঞ্জিনিয়ার), কাইয়ুম চৌধুরী (আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট), শাহজাহান মজুমদার (অতিরিক্ত পিপি, জজকোর্ট, ঢাকা), প্রবাস চন্দ্র সাহা ( ডিজি, ডাকবিভাগ), সৈয়দপুরের শাহজাহান মজুমদার, মারামুরার হোসেইন মজুমদার ( বিশিষ্ট আইনজীবি হিসেবে কর্মরত, ঢাকায়), ভাটোরার আবুল বাশার বাচ্চু ভাই (ব্যাবস্থাপক, সোনালী ব্যাংক) ও ভাজনাখালের মালেক মিয়া (ব্যবস্থাপক, সোনালী ব্যাংক) অন্যতম।

পরবর্তীতে ছাত্রদের মাঝে কর্মজীবনে যারা উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌছেছে তাদের মাঝে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য মারামুরার প্রয়াত আবু বকর সিদ্দিক (পুলিশ সুপার), প্রয়াত হাবিবুর রহমান (ডাক্তার), শিহিরচোরের নুরুল ইসলাম (ব্যাংকার, ডিএমডি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক), মিজানুর রহমান তালুকদার (ভাইস প্রেসিডেন্ট, এসআইবিএল), ব্যাচ ৯১’র মোহাম্মদ দিদার হোসেন (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবস্থাপক সাবেক পেট্রো বাংলা), লোদপারার শাখাওয়াত হোসেন রাজন (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার), লোদপারার আলামিন ও আব্দুস সাত্তার। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

খ্যাতিমানদের মাঝে মতলবের ডাক্তার প্রফেসর শাহ জামাল খান (এনাম মেডিকেল), কালঁচোর আবুল বাশার মজুমদার (বিআরডিবি, কুমিল্লা, ব্যাবস্থাপক), মতলবের হাসান মাহমুদ খান (শাবিপ্রবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা), মারামুরার আজাদ মজুমদার (বাংলাদেশ বিমান), ভাটোরার আলমগীর পাটোয়ারী (অধ্যক্ষ, আইডিয়াল ল কলেজ), শাহাদাত হোসেন (বাংলাদেশ বিমান), ধড্ডার মোশাররফ হোসেন খোকন (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার), কালঁচোর মিজানুর রহমান (সহকারী অধ্যাপক, ফেনী সরকারি কলেজ), মঞ্জুর হোসেন (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার), মাতুইলের মানিক ( ব্যাংকার) ও মিল্টন ( অধ্যাপক, হাজিগঞ্জ মডেল কলেজ)।
এরপর রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে তাদের মাঝে ওরপুরের শফিকুল ইসলাম ২৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সমবায় একাডেমি কুমিল্লাতে কর্মরত, জাবের মোহাম্মদ শোয়াইব ৩৪ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমান এসি ল্যান্ড, দিনাজপুরে আছে এবং তার সহোদর ডাক্তার আবুল কাশেম ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। শেষোর্ধ দুজনই ওরপুরের সাইফুল ইসলাম সিরাজ মোক্তারের গর্বিত সন্তান। ওরপুরের আরেক কৃতি সন্তান ডাক্তার নাজমুল হক, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত। তার বাবা প্রয়াত আব্দুল মান্নান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও শিক্ষার প্রতি যে অনুরাগ দেখিয়েছে তা সকলের কাছেই অনুকরণীয়।

এতক্ষণ কেবল কীর্তিমানদের মাঝে যারা সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অবস্থান করছেন তাদের কথা লিখেছি। এই পর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে যারা দেশে এবং দেশের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন তাদের কথা তুলে ধরছি।

বুয়েট থেকে ডিগ্রি নিয়ে আলমগীর বর্তমানে আমেরিকায় প্রবাসী। আমেরিকায় আরো আছে মাড়ামুড়ারশাহাদাত হোসেন মজুমদার , মৈসাইদের মামুন মজুমদার, তার বোন লিলি ও রিনা, মৈসাইদের বাদল মজুমদার, হাবিব লন্ডনীর ছেলে মামুন চৌধুরীসহ আরো অনেকে। লন্ডন প্রবাসী হিসেবে আছে জুনাব আলী তালুকদার সাহেবের বড় ছেলে মাহমুদ তালুকদার, হাবিব লন্ডনীর ছেলে মাসুদ চৌধুরী ও তার বোন জান্নাত, ওরপুরের খোরশেদ মাস্টারের ছেলে হান্নান (লন্ডন পুলিশ বাহিনীর গর্বিত সদস্য), ভাটোরার আব্দুল মালেক এবং ভাজনাখালের সহপাঠী জলিল সহ আরো অনেকে।

কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে আছে সৈয়দপুরের মরহুম আব্দুল হালিম তালুকদারের দুই সন্তান জসিম ও আমার প্রিয় ছাত্র জাফর। ব্যবসায়ী হিসেবে তো অনেকেই সফলতা লাভ করেছে তাদের মাঝে আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিজি, মণিপুর প্রোডাক্টস-এর স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী, ঢাকা উড হাউজের মালিক মোস্তাফিজ মজুমদার, আনিস মজুমদার, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ওরপুরের ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, রামপুরের বিদেশ সাহা, রাকেশ সাহা, তেজু বাবু, নিতাই সাহা, নুরু মল্লিক এবং কাজী খালেক উল্লেখযোগ্য। দুইটি পত্রিকার সম্পাদক রামপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রানা ও রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের ৫২ বছরের কৃতী ছাত্রদের কীর্তিময় ইতিহাস ছোট পরিসরে বর্ননা করা এক দুঃসাধ্য প্রচেষ্টা। আর তাদের ক্রমবিন্যাস সঠিকভাবে তুলে ধরা তো আরো কঠিন। এখানে অবশ্যই ভুল ত্রুটি থাকবে। পাঠকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা ছাড়া আর কি বা করার আছে।

পরিশেষে, দুটো দাবির কথা লিখেই এই লিখা শেষ করব। প্রথম দাবিটি আসে এই লেখা চলাকালীন সময়ে প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের পক্ষ থেকে। তা হল প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক মরহুম আলী নওয়াজ তালুকদারের স্মৃতি রক্ষার্থে বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার/ল্যাব/ভবন/ছাত্রাবাসের নাম করণ তার নামে করা। দ্বিতীয় দাবী হলো জনতার দাবী, তা হল যথাশীঘ্র প্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়কে মহাবিদ্যালয়ে উন্নিত করা। এই দাবি প্রাণের দাবি, এই দাবি জনতার দাবি। যা আমি পারি নি, যা আমরা পারি নি, আগামী প্রজন্ম অবশ্যই তা পারবে এই প্রত্যাশা রেখেই শেষ করলাম।

আরো পড়ুন : প্রথম পর্ব

আরো পড়ুন : ২য় পর্ব

 49 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন