chandpurreport 155

শাহরাস্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ ও অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে এক গৃহবধূর আর্তি

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু :

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নিজের জমিতে মাটি কাটার সময় ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু নিউজ পোর্টালে সরকারি জমির মাটি কাটা দেখিয়ে অপ-প্রচার, লকডাউনে সাংবাদিক -মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে লোকজন বাড়িতে গিয়ে হয়রানি বন্ধ এবং এতে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেছেন এক গৃহবধু।

উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোলদিঘী গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার সীমা শনিবার এ ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি তার বক্তব্যে জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি ভোলদিঘী গ্রামের মিয়াজী বাড়ি সংলগ্ন স্থানে খরিদা সম্পত্তিতে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। ভোলদিঘী মিয়াজী বাড়ি হতে জনগণের চলাচলের রাস্তা দখলের প্রতিবাদ করায় বেশ কয়েকবার হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে।

gif maker

প্রকৃতপক্ষে ভোলদিঘী মিয়াজী বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি সিএস ও বিএস খতিয়ানে ভোলদিঘী মৌজার ২৮৯ ও ৩০৯ দাগে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত।

উক্ত জায়গা ওই গ্রামের মৃত আঃ জাব্বারের পুত্র মোঃ সফিকুর রহমান গং দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করায় বাড়ির লোকজন সাময়িক পায়ে হেঁটে যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকারি খাস জমি হতে ১৫ গজ দূরের (বাড়ির উত্তর পার্শ্বে সরকারি রাস্তার দঃ পার্শ্বে) তাদের মালিকানা জায়গা ব্যবহার করে। যাহা তাদের নিজেদের নামে খরিদা খারিজ খতিয়ানভুক্ত ২৭৮ ও ২৬০ নম্বর দাগের জায়গা।

গত ১৫ নভেম্বর ২০১৫ সালে একই বাড়ীর মোঃ আজমুল হক, পিতাঃ মৃত আঃ সোবহান সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হালটের সীমানা নির্ধারন ও দখলমুক্ত করা প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোসাঃ জেসমিন আক্তার বানু বরাবর একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল মাসুদ ১৭ জুলাই ২০১৬ তারিখে হালটটি দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

Add all Night king

এর কয়েকদিনের মাথায় সফিকুর রহমান গং সরকারি রাস্তার জায়গা তথা হালটটি পুনরায় দখলে নেন এবং সরকারি রাস্তা উচ্ছেদের কাজে সাহায্য করায় ফৌজদারি অপরাধ আখ্যা দিয়ে আজমুল হক, তার পুত্র, স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসলাম মাস্টার ও দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়া শ্রমিকদের আসামী করে আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে।

গত ১১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে “শাহরাস্তিতে সরকারি রাস্তা উচ্ছেদের পর ফের দখল” শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে শাহরাস্তির সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিটুস লরেঞ্জ চিরানের ৮৩১ নং স্মারকের সূত্রে পৌর ও মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান সরেজমিনে দখলের সত্যতা প্রমানিত হয় মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে সরকারি রাস্তা অবমুক্ত করতে সফিকুর রহমানকে নির্দেশ দেয়।

এ ঘটনায় সরকারি রাস্তার জায়গা অবমুক্ত না করে উল্টো গত ১৮ ফেব্রæয়ারি ২০১৯ তারিখে ওই গৃহবধু সফিকুর রহমানের জায়গা দখল করে মাটি কেটে নেয়ার পাঁয়তারা করছে মর্মে শাহরাস্তি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। স্থানীয়দের সাক্ষ্য প্রমান ও কাগজ পত্রের ভিত্তিতে উক্ত অভিযোগ বানোয়াট প্রমানিত হয় ও সফিকুর রহমান জায়গার সঠিক ও বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় তাসলিমার সম্পত্তির উপর আর কোন বাধা প্রদান করবে না মর্মে থানায় অঙ্গীকারনামা দেয়।

add all nk last

এসব ঘটনার পরও সরকারি রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত না করায় আজমুল হক একই খতিয়ানে বি,এস ২৭৮,২৬০ দাগে তার মালিকানা অংশে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত স্থায়ি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যার কারনে গত ২৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ বেলা ১১টার সময় সফিকুর রহমান লোকজন দিয়ে আজমুল হককে ভোলদিঘী বাজার হতে ঔষধ নিয়ে ফেরার পথে চা দোকানে ডেকে নিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে।

গত ২০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আজমুল হক হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির গণমানুষের নেতা মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম ইসলাম বীরউত্তম এমপির নিকট একটি আবেদন করলে সংসদ সদস্য মহোদয় শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হালট উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য থানা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। যার প্রেক্ষিতে শাহরাস্তি থানায় জিডি নং- ২২০, তারিখঃ ০৫-১২-২০১৯।

এসব ঘটনার পর স্থানীয় জনগন চলাচলের স্বার্থে সরকারি জায়গা হতে প্রতিবন্ধকতা দূর করে রাস্তাটি উন্মুক্ত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেয়।

8372743d678eac053129bc2e82ef84f4

গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধু নিজ মালিকীয় ভুমিতে মাটি ফেলার সময় একই বাড়ির মৃতঃ জয়নাল আবেদীনের পুত্র মোঃ আবু সুফিয়ান, শাহজাহান, শাহজাহানের পুত্র শাহাদাৎ হোসেন রাসেল, মনির হোসেনের পুত্র মোঃ আঃ রহিম ও ফারুক হোসেন তার বসত বাড়ির পূর্ব পাশে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। তিনি গুরতর আহত হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় তিনি বিজ্ঞ বিচারক আমলী আদালত, শাহরাস্তি, চাঁদপুর বরাবর একটি মামলা দায়ের করলে শাহরাস্তি থানার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩১ মার্চ আবু সুফিয়ান, শাহাদাৎ ও রাসেলকে অভিযুক্ত করে ৩২৬, ৩২৩, ৩০৭ সহ বিভিন্ন ধারায় চার্জশীট দেয়। সরকারি হালট মুক্ত হওয়ার পর, সরকারি রাস্তা দিয়ে জনগণ ও যানবাহন চলাচল শুরু করলে ঐ রাস্তার মাত্র ১৫ গজ দূরের তাসলিমা বেগমের মালিকানা জায়গার উপর দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তার প্রয়োজনীতা না থাকায় তিনি উক্ত জায়গায় আবাদ শুরু করেন। এতে ব্যক্তিগত ক্ষোভে পূর্ব শত্রæতার বশে সফিকুর রহমান তার পুত্র আদনানকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, উস্কানিমূলক ও অরুচিকর পোস্ট এবং ভিডিও আপলোড করে।

তাকে (তাসলিমা) সামাজিক ভাবে হেয় করতে তাদের জায়গাকে সরকারি জায়গা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য সেখানে উল্লেখ করে। তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয় বলে তিনি জানান। এছাড়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে লোকজন পাঠিয়ে তাকে হয়রানি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি ভূমি, সফিকুর রহমানের দখলে থাকাকালীন নিজের ক্রয়কৃত ভূমির উপর দিয়ে লোকজনের চলাচলের সাময়িক সুবিধা দেয়ায় আজ তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের জায়গা আত্মসাৎকারী হিসেবে জঘন্যভাবে উপস্থাপন করে তার মান সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে বলে তাসলিমা বেগম উল্লেখ করেন। করোনা সঙ্কটে আশপাশের বাড়িতে লোকজন আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে লকডাউন চলাকালে বিভিন লোকজনের আনাগোনায় তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করেন।

এমতাবস্থায় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লোকজনের আনাগোনা বন্ধ এবং বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ-প্রচার বন্ধে মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

 31 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন