chandpur report 339

ছেলের ৫টি বাড়ি, তবুও বাবাকে রেখে গেলেন রাস্তায়!

 

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :
সন্তানের নির্মমতার শিকার হলেন এক বৃদ্ধ পিতা। চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের সামনে খোলা আকাশের নিচে বাবাকে ফেলে চলে যান সন্তান। ১২ দিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর এক গণমাধ্যম কর্মীর সহায়তায় বর্তমানে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. হালিম চাকলাদার। এখনও তার স্বজনদের কোনো খোঁজ মেলেনি। হাসপাতালের বেডে মুমূর্ষু অবস্থায় দিন পার করছেন তিনি।

বৃদ্ধ পিতার চোখে ঘোর অনিশ্চয়তা। অশ্রুহীন নয়নে অসহায় শরীর। লেলিয়ে পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। পরম মমতায় যে সন্তানকে বড় করেছেন, নিজে না খেয়ে যে সন্তানকে খাইয়েছেন, নির্ভরতার বটবৃক্ষ হয়ে জীবনভর দিয়ে গেছেন ভরসার ছায়া। সেই সন্তানই কিনা বাবাকে ফেলে রেখে চলে গেলো রাস্তার ধারে।

৬২ বছর বয়সী অসুস্থ এই হালিম চাকলাদারকে চিকিৎসার আশ্বাসে গত ৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে আসেন তার একমাত্র ছেলে। নিষ্ঠুর সন্তান বাবাকে চিকিৎসা তো করালই না, বরং ফেলে গেল হাসপাতালের বাইরে গাড়ী পার্কিংয়ে। এভাবে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে বারো দিন পড়ে থাকেন হালিম চাকলাদার। পরে এক গণমাধ্যম কর্মী তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, ছেলে আমাকে বলল, তোমাকে হাসপাতালে ভর্তি করব। এরপর আমাকে রেখে গেল। বড় ছেলের পাঁচটা বাড়ি আছে ঢাকায়।

একটা বয়স থাকে যখন সন্তানদের কাছে নির্ভরতা খোঁজেন বয়োবৃদ্ধ পিতা। নিজের অসহায়ত্বে আশ্রয় খোঁজেন তাদের কাছে, পুরো জীবনের বিনিময়ে তিল তিল করে গড়েছেন যাদের ভবিষ্যৎ। হাসপাতালে বেডে শুয়ে থাকা এ পিতা তাই যতটা না শারীরিক কষ্ট পাচ্ছেন, সন্তানদের নির্মম আচরণে অনেক গুণ চেয়ে বেশি মানসিক যন্ত্রণা তার।

২০ দিন কেটে গেল এভাবে হঠাৎই স্বজনহীন হয়ে পড়া হালিম চাকলাদেরর। খোঁজ নেয়নি তার বাকি দুই মেয়েও। এখনো তিনি জানেন না, চিকিৎসা শেষে কোথায় হবে তার গন্তব্য।

দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক মহুবার রহমান বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন, তারা ছেলে তাকে রেখে চলে গেছেন। এরপর আমি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তাকে ভর্তি করলাম।

হালিম চাকলাদারের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। ছেলের সাথে থাকতেন রাজধানীর মগবাজারে।

210 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন