Editorial chandpur report 2

মায়ের প্রতি বর্বরতার শেষ কোথায়?

‘লক্ষ্মীপুরে গাছে বেঁধে সৎ মাকে পেটালেন সন্তানরা’

২৩ জুলাই ২০২০ খ্রিস্টাব্দ : বৃহস্পতিবার

সম্পাদকীয় …….

পারিবারিক সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এগুলো বেশি হয়ে থাকে সাধারণ সম্পত্তিগত কারণে। আর পরিবারের মধ্যে ছোট খাট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় বিশাল অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। এমনই ঘটনা যে মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হারা মানায়।

গত ২১ জুলাইয়ে প্রিয় সময়ে প্রকাশিত ‘লক্ষ্মীপুরে গাছে বেঁধে সৎ মাকে পেটালেন সন্তানরা’ প্রকাশিত সংবাদটিতে আমরা দেখেছি একজন মা নারীকে কীভাবে তারই নিকট আত্মীয়রা অত্যাচার করেছে। এসব ঘটনা আমাদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে ও বোঝা যায় যে, আমরা বর্তমানে কোন অবস্থানে রয়েছি। যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা বসবাস করছি, সভ্যতা আমাদের ঘিরে রেখেছে, নৈতিক শিক্ষা আমরা অর্জন করছি দিনের পর দিন-সেখানে এমন ঘটনা কোনোভাবেই আশা করা যায় না। এমন অনৈতিক কার্যক্রমের জন্যে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির কারণে হয়তো সেই নারী একজন সৎ মা। তার প্রতি এমন অত্যাচার করা মোটেও উচিত হয়নি। এমন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটার আগেই মীমাংসা করা যেতো। হয়তো মীমাংসা করার মতো ব্যক্তি বিশেষ সেখানে ছিলো না। একজন নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করা হচ্ছে সেটা কি এলাকার কেউ দেখেনি? নিশ্চয় দেখেছে। একজন নারীকে তার স্বামীসহ সন্তানরা মারধর করছে, নিশ্চয় সেখানে চিৎকার চেঁচামেচি হয়েছে। আশপাশের লোকজন নিশ্চয় শুনেছে। ঘটনার বিবরণ থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে, সেখানকার লোকজনরাও তেমন একটা সচেতন নয়। হয়তো সেই সমাজের লোকজন বিষয়টিকে তেমন একটা আমলে নেয়নি। হতে পারে সেখানকার লোকজনদের চিন্তা চেতনা এ রকমই। ঘরে ঘরে তাদের এ ধরনের সহিংসা ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। সুতরাং এসব ঘটনা ঘটা তাদের জন্যে লজ্জাজনক নয়।

আমরা অতীতে গৃহবধূ নির্যাতনের অনেক ঘটনার কথা শুনেছি। এসব ঘটনা সাধারণত স্বামী, ননদ, শ^াশুড়িরা যৌতুকের জন্যে করে থাকে। কিন্তু এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। এখানে নিজের সন্তানরাও মায়ের বিরুদ্ধে ছিলো। সেটা হয়েছে একমাত্র সৎ মা হওয়ার কারণেই হয়তো। হতে পারে দীর্ঘদিনের রেশ সঞ্চিত ছিলো। অনেক দিন থেকে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিলো। আর সুযোগ পেয়ে তারা সেই দিন ঘটনাটি ঘটিয়ে দিয়েছে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা যায় যে, সৎ মাকে মারধরের সময় সন্তানরাও ছিলো। সেই সাথে সন্তানদের বাবাও ছিলো। যেখানে বাবা জড়িত থাকে সেখানে সন্তানরা অতিরিক্ত প্রশ্রয় তো পাবেই। আর এমন সন্তানরা ভবিষ্যতে কেমন হতে পারে সেটা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এমনও তো হতে পারে যে বাবা আজ সন্তানদের সাথে সৎ মাকে মেরেছে, সেই সন্তানরাই একদিন হয়তো এই বাবাকেই মারধর করবে। কারণ, বাবাই তো সন্তানদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা প্রকাশিত সংবাদে জেনেছি যে, কাঁঠাল গাছে বেঁধে সৎ মায়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং ওই নারীর হাত-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম করেছে। কী নির্মম অত্যাচার! এখানে সরাসরি একজন বাবা তার সন্তানদের নিষ্ঠুরতা শিক্ষা দিচ্ছে। এই নিষ্ঠুরতার প্রতিদান একদিন এই বাবা পাবে-ঘটনার আলোকে সেটা স্পষ্ট!

আমরা এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই। আমরা আশা করবো, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যেন পুনরায় এ ধরনের নির্লজ্জ ঘটনা না ঘটে।

75 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন