হাজীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের মাছের প্রজেক্টে সরকারের ৮টি স্টিক লাইট!

জহিরুল ইসলাম জয় :
হাজীগঞ্জের ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর মাছের প্রজেক্টে সরকারের ৮টি স্টিক লাইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব হাটিলা দক্ষিণ বিলে জনস্বার্থের ইউপি চেয়ারম্যান, একে একে সরকারি আটটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্টিক লাইট ব্যক্তিস্বার্থে স্থাপন করেছেন। উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান দুলাল তার মৎস্য চাষের সুবিধার্থে বেড়িবাঁধের চারপাশে আটটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্টিক লাইট স্থাপন করেন। এই বেড়িবাঁধ আলোকিত করতে গিয়ে এখন ইউনিয়নের সর্বত্রে সমালোচিত হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

দেখা গেছে, পূর্ব হাটিলা-গঙ্গানগর ফসলি মাঠে চেয়ারম্যানের বাড়ীর দক্ষিণ পাশে বড় মৎস্য বেড়িবাঁধ। তিনি গত দুই বছরের মধ্যে সরকারি বরাদ্দকৃত আটটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্টিক লাইট ওই বেড়িবাঁধের চারপাশে স্থাপন করেছেন। সর্বশেষ গত পহেলা জুলাই সরকারের পিআইও অফিসের বরাদ্দকৃত ৪টি লাইট প্রজেক্টেরর এরিয়াতে স্থাপন করেন। অথচ এই লাইটগুলো ইউনিয়নের জনস্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত স্থলে বসানোর কথা ছিল।

জানা গেছে, সরকারি এই লাইট গুলোর আনুমানিক মূল্য ৪/৫ লাখ টাকা সমমূল্যের।

পূর্ব হাটিলা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির ইমাম, জহির, শাহাদাৎ বলেন, চেয়ারম্যান এর মাছের প্রজেক্টি ৮নং ও ৩নং ওয়ার্ড জুড়ে প্রায় ৩০ একর। প্রজেক্টের দুই পাশে গত ১ জুলাই পিআইও অফিসের বরাদ্দের ৪টি স্টান লাইট লাগানো হয়েছে।
ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল মজুমদার বলেন, জনস্বার্থে ব্যবহৃত সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্টিক লাইট ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা জানাই। সংসদ মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের জরুরী হস্তক্ষেপে ওই লাইটগুলো জনস্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানোর আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি, চেয়ারম্যান সরকারি লাইটগুলো বেড়িবাঁধের পাড়ে স্থাপন করেছেন। সরকারি বরাদ্দের লাইট গুলো সেখানে স্থাপন করা ঠিক হয়নি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাকির হোসাইন বলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি প্রায় ১৫০ টি সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্টিক লাইট বসানো হয়েছে। তার মধ্যে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিনটি দেওয়া হয়েছে। তিনি কোথায় স্থাপন করেছেন, তা জানা নাই। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানোর কথা। কিন্তু তিনি যদি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন তাহলে বিষয়টি ঠিক করেননি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, লাইটগুলো তদারকির দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের। তারপর ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান মির্জা দুলাল বলেন, ‘সবগুলো লাইট সরকারি রাস্তার উপরে জনস্বার্থে লাগানো। আমার বেড়িবাঁধের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নয়। প্রয়োজনে ভাল করে সরেজমিনে দেখুন কার স্বার্থে লাগানো হয়েছে।

 

82 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়