editorial chandpur report

যানবাহনের বেপরোয়া গতি রোধ করুন

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ০৯ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৪ মুহররম ১৪৪২ হিজরি, সোমবার

সম্পাদকীয় …

নিয়ন্ত্রণ হারালে কোনো কিছু রক্ষিত থাকে না। দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতেই হয়! আমরা অতীতে এমন যানবাহনের দুর্ঘটনার খবর অনেক শুনেছি। এভাবে শুনে চলেছি দিনের পর দিন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর।

প্রিয় সময়ে ‘মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে এক পরিবারের ৮ জন নিহত’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি ছিলো অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক একটি ঘটনা। একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওযার ঘটনা আমাদের কাঁদিয়েছে। কেঁদেছে ঘটনাস্থলের অনেক মানুষ! কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

আমাদের যাতায়াতের রাস্তাগুলোতে চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর পুরোনো অভ্যাস চলমান আছে। কোনো চালক নেশা করেও গাড়ি চালিয়ে থাকে। কেউ কেউ সীমাহীন গতি বাড়িয়ে রাস্তায় যানবাহন চালায়। তারা ট্রাফিক আইন মানতেই চায় না। তাছাড়া ভুয়া লাইসেন্স গ্রহণকারী চালকদের দাপট তো রয়েছেই। গাড়ি ভালো চালাতে না পারলেও তারা রাস্তায় গাড়ি নিয়ে চালাতে থাকে। কোনো কোনো চালক আবার অবিরাত বিশ্রাম গ্রহণ না করেই গাড়ি চালায়। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালানোর কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে যায়। ময়মনসিংহের ফুলপুরে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে শিশুসহ এক পরিবারের ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকেরই কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমরা মনে করি।

নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো একটি পরিবার। যদি আরেকটু সতর্ক থাকা যেতো তাহলে এভাবে একটি পরিবার ধ্বংস হতো না। যদি এ দুর্ঘটনার কারণ খোঁজা যেতো তাহলে হয়তো পাওয়া যেতো অনেক রহস্য, অনেক কারণ অথবা একটি কারণ। একটি স্বপ্নের পরিবার, সুন্দর পরিবার মুহূর্তের মধ্যে অসাবধানতার কারণে হারিয়ে গেলো পৃথিবী থেকে। এভাবে অনেক পরিবারই অতীতে ধ্বংস হয়ে গেছে এভাবেই। অথবা কোনো কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনায় সারা জীবন যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ পঙ্গুত্বকে বরণ করে নিয়েছে।

আরেকটা বিষয় বলা যায় যে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা অনেক দেরিতে পৌঁছায়। তাছাড়া স্থানীয় জনগণও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় না। ফলে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে উদ্ধার কাজ চালানো কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। যদিও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা হয়ে থাকে তবুও আমরা বলবো যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যদি উদ্ধার কার্যক্রমের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় তাহলে অনাকাক্সিক্ষত যে কোনো দুর্ঘটনায় তারাও সঠিকভাবে ও যতœসহকারে সাহসের সাথে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। অনেক সময় শুধুমাত্র ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপরই নির্ভর করা হয়, যা মোটেও যথেষ্ট নয়। তাদের পাশাপাশি যদি এলাকার মানুষও এ কাজে এগিয়ে আসতে পারে এবং প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে তাহলে মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়াতে পারে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই যে, দুর্ঘটনা বন্ধ হোক। আমরা আর এভাবে মৃত্যু চাই না। প্রত্যেক মানুষ, প্রতিটি যানবাহনের চালক যেন নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। যেন কোনোভাবেই তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস হয়ে না যায়!

 

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ০৯ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৪ মুহররম ১৪৪২ হিজরি, সোমবার

88 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন