হাইমচরে জোয়ারের পানি কেড়ে নিল মৎস্য চাষীদের স্বপ্ন

সাহেদ হোসেন দিপু :

হাইমচরে মেঘনার জোয়ারের পানি কেড়ে নিল মৎস্য চাষীদের স্বপ্ন। বুধবারের আকস্মিক জেয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের বাহিরে থাকা পুকুর ও জিলের সকল মাচ চাষীদের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

বেড়িবাঁধের উপর বন্ধ খালের মুখ ছুটে খালের ভিতর দিয়ে পানি ডুকে গিয়ে অনেকেরই মাছের ঘের তলিয়ে যায়।

নদীর পশ্চিমপাড়ে নীলকমল ইউনিয়ন ও হাইমচর ইউনিয়নেও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সম্মুখিন হয়েছে মাছ চাষীরা। নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে তাদের সাজানো মাছের ঘের। পানিতে ভেসে গেল তাদের সাজানো স্বপ্ন।

জানাযায়, হাইমচর উপজেলার মধ্যচররে সাহেবগঞ্জ, নিউচর, বাহেরচর মিয়ারবাজার, ঈশানবাল, গাজীপুর, চরভৈরবী, আলগী উত্তর ও দক্ষিনের ৫ শতাধিক পুকুর ও ঝিলের মাছ গতকাল বুধবার বিকেলে আকষ্মিক জোয়ারে ভেসে গেছে।

বুধবার বিকেল ৪ টা হতে ৪ টা ৩০ মিনিট, আকষ্মিক জোয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যাবধানে অস্বাভাবিক জোয়ারে লন্ডভন্ড হয়েগেছে পুকুর খামার গুলো। এতে হাইমচরের প্রায় ৪ শতাধিক মাছ চাষীর স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে, যা টাকার অংকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

নীলকমলের মধ্যচরের বাহের চরে মৎস্য চাষী মুনছুর পাটওয়ারী কান্না জড়িত কন্ঠে জানান ভাই আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমার জীবনের অর্জিত সম্পদ ও ধার দেনা করে মাছের প্রকল্প করেছি, যা সকলেই জানে, এক নিমিষেই আমার সব চলে গেল, আমার ছোট বড় ৮ ঝিলে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ ছিল, স্বাভাবিকের চেয়ে ৬/৭ ফুট বেশী উচ্চতার জোয়ারে ফলে সকল খামার ভেসে গিয়ে মাছ চলে গেছে, আমি এখন সর্বশান্ত, মাছের খাদ্য ও মাছের পোনা ক্রয়ের টাকা পরিশোধ করার কিছুই রইল না।

নীলকমল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মৎস্য খামারী বাচ্চু সরকার জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেছে।

জোয়ারের পানি আমার তিনটি মাছে জিল পানিতে তলিয়ে গিয়ে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার সাজানো ঘোচানো মাছের জিল গুলো এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন আমার এলাকার সুরুজ ছৈয়াল, , মামুন মিজি, মিনু মোল্লা, শিকদার মৎস্য খামার পরিচাল নাজমুল আলম, ফারুক গাজী, নূর মোহাম্মদ বেপারী, শাকিল খা, ফারুক খা, তোফাজ্জল মাল এদরে জিলের মাছ গুলোও পানিতে ভেসে গেছে।

আলগী উত্তরের আব্দুর রহমান, জিল্লু আখন, সফিক দেওয়ান জানান এলাকার সব মাছ ভেসে গেছে আমরা সর্ব শান্ত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক গাজী বলেন বেড়ী বাঁধ এর ভিতরে এবং বাহিরে সব যায়গায় পানি মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো মিজানুর রহমান জানান উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ১ হাজার ৬ শত পুকুর ও খামারে মাছ চাষ হয়, বুধবারের অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে ৬ ইউনিয়নে প্রাথমিক তথ্য মতে প্রায় ২৫৫ জন চাষীর ৪৩০ টি পুকুুর ঝিলের মাছ ও অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে, যা টাকার অংকে ৬ কোটি টাকার বেশী হবে। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে।

148 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়