chandpur report 1022

কচুয়ার প্রতিবন্ধীর বসতঘরে হামলা-ভাংচুর : আহত ৪

কচুয়া প্রতিনিধি :
চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের হারিচাইল গ্রামে সাাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী ছাালামের বসতঘরে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছে এবং প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেন বাদী হয়ে মো. ইলিয়াসসহ ১০ জনকে আসামী করে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবন্ধী ছালামের ফুফাতো ভাই হাসিমপুর গ্রামের মনির হোসেন হারিচাইল গ্রামের শাহজাহান, আবুল বাসার ও আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে সম্পদ আত্মস্বাৎ এর অভিযোগ করে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে বিজ্ঞ আদালতের হাওলা মতে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একি মিত্র চাকমা উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার তানিয়া বেগমকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।

গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার তানিয়া বেগম ঘটনার তদন্ত করতে গেলে প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেন ও তার পরিবার মনির হোসেনের পক্ষে স্বাক্ষী প্রদান করায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেন ও তার পরিবারের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে।

এসময় তারা প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেনের বসতঘর ভাংচুর করে। এসময় প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেন, তার স্ত্রী শাহিন বেগম, মেয়ে মাহমুদা এবং ছেলে বিল্লাল হোসেন গুরুতর আহত হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ছালামের স্ত্রী শাহিন বেগম ও মেয়ে মাহমুদা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন এবং বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এঘটনায় প্রতিবন্ধী ছালাম হোসেন বাদী হয়ে হারিচাইল গ্রামের মো: ইলিয়াস, আবুল বাসার, শাহজাহান, রুবেল, আমিন, মৌসুমী, আমেনা, খোদেজা, ফারজানা ও মোস্তফাকে আসামী করে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।
এব্যাপারে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়ালী উল্লাহ (অলি) ও সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মামুন সূত্রে জানা যায়, মো. ছালাম হোসেন ও শাহজাহান আদালতে মামলা করেছেন। আদালত থেকে থানায় মামলা এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং গত ২৭ অক্টোবর ছালাম হোসেনের মামলা এফআইআর হয় এবং ২৮ অক্টোবর শাহজাহানের মামলা এফআইআর হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আদালতে চার্জশীট প্রেরণ করা হবে।

কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার তানিয়া বেগম জানান, তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার ও অনান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী ঘটনার তদন্ত করেন। এবং তিনি থাকাকালীন সময়ে সেখানে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিপক্ষ শাহজাহানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের পরিবারের কিছু সদস্য আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এবং শাহজাহান বাদী হয়ে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ১৫, তারিখ: ২৮ অক্টোবর ২০২০ইং।

প্রতিবন্ধী মো. ছালাম হোসেন জানান, আমি একজন অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষ।সরকারের কাছ থেকে ভাতা পাই। কোন রকম জীবন যাপন করছি। ঘটনার দিন আমি নিরপেক্ষ সাক্ষী দেই যা মনির হোসেনের পক্ষে যায়। সেকারণে প্রতিপক্ষের লোকজন আমি ও আমার পরিবারের উপর হামলা চালায় ও আমার বসতঘর ভাংচুর করে। আমি ও আমার ছেলে আহত হলেও আমার মেয়ে ও স্ত্রী অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের চিকিৎসা খরচ চালাতে আমরা আহত অবস্থায় ও কাজ করতে হচ্ছে। তারা মৃত্যুশয্যায় অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি তাদের চিকিৎসার খরচ চালতে হিমশিম খাচ্ছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

২৮ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১২ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, বুধবার

89 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন