report editorial

পিতার প্রতি নিমর্মতার ঘটনা নির্মম ও লজ্জাজনক!

সম্পাদকীয়…

সমাজে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নির্মম ও লজ্জাজনক! সেই সাথে বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয়ও বটে! মান অপমান ও সম্মানবোধে আঘাত হানে আমাদের মনে! আমরা সেসব ঘটনায় চোখ কপালে তুলি ও আমাদের অন্তর কেঁদে উঠে। এসব বিষয় অনৈতিক ও অসামাজিক! সমাজকে কলুষিত করছে ও সমাজের লজ্জা নামক পর্দা সরিয়ে ফেলছে। ফলে মনুষ্যত্ববোধ হারাতে বসেছে।

প্রিয় সময়ে ‘রাজবাড়ীর পাংশায় পিতাকে নির্মমভাবে পিটালেন ছেলেরা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে এটা পরিস্কার যে, তার ছেলেরা উঠতি বয়সী অথবা যুবক বয়সে পদার্পণ করেছে। ভালো পরিবেশ ও ভালো শিক্ষা তারা পায়নি বলেই মনে হচ্ছে। নৈতিক শিক্ষার দারুণ অভাব রয়েছে। সেই সাথে তাদের ধৈয্যের অভাব, পিতামাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অভাব রয়েছে। ঘটনার বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিন তারা তাদের পিতার উপর খুব সম্ভব ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। পুঞ্জিভূত ক্ষোভ তারা এভাবেই পিতার উপর নির্যাতন করে প্রকাশ করলো। কিন্তু কী কারণে পিতার উপর এমন আচরণ করেছে সেটা একান্তই তাদের পরিবারের বিষয়। তবে যেহেতু প্রকাশ্যে পিতার উপর নির্যাতন করা হয়েছে, সেহেতু এখন বিষয়টি উন্মুক্ত হয়ে গেছে।

আমাদের সমাজের পরিবারগুলোকে আরো ধর্মভিরু হতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা তাদেরকে দিতে হবে। সমাজকে পরিবর্তনের জন্যে, সমাজ থেকে নোংরা দূর করবার জন্যে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। অপরদিকে পিতামাতাকেও সন্তানদের লালন পালনের বিষয়ে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা দেখেছি, সেই হতভাগ্য পিতার চার সন্তান রয়েছে। জীবনে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। অনেক যতœ করে পরিবারকে আগলে রেখেছেন। ছেলেদের পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। সেই পিতার একটি ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন, জীবনের কষ্ঠ অর্জিত সময় আর অর্থ দিয়ে মানুষ করেছেন। আর সেই হতাভাগ্য পিতাই ছেলেদের হাতে মার খেয়ে অপমানিত হয়ে ধুমরে ধুমরে কাঁদছেন! এমনই বুকফাঁটা আর্তনাদে পিতা ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছেন আর বলছেন, ‘জন্মই যেন আমার পাপ। কি করেছি আমি, আজ আমার নিজের ছেলেরা আমাকে মারধর করল আমি কি বাপ, না কি বাপ নামের কলংক’! এই পিতা দারিদ্রের কষাঘাত থেকে উঠে আসা পরিশ্রমী এক স্বশিক্ষিত ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছর আগে নিজ এলাকা কুষ্টিয়া জেলার গোপগ্রাম থেকে অর্থের অভাবে কাজ করে খাওয়ার লক্ষ নিয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এসে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। পরে ঐ উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা গ্রামে বিয়ে করেন। সংসারে তাদের চারটি ছেলে জন্ম নিয়েছে। আর তাদের সবচেয়ে বড় ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য! এই সন্তানকে তিনি খুবই গর্ব করেন। কিন্তু তার সেই গর্ব করা নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেদের কর্মকা-ের সমালচনা করাতে তার দুই ছেলে ও তার সহধর্মীনী হতভাগা পিতাকে মারধর করে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। এমনই অপমান ও মারধর করে নির্যাতন করলো যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো! তখন তার বুকফাটা কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

ঘটনাটিকে আমরা পারিবারিক অমীমাংসিত ঝামেলা বলেই মনে করছি। কেননা প্রকৃতপক্ষে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো সেটা আমরা জানি না। সুতরাং সেই হিসেবে কোন দিকে আঙ্গুল তুলে কাকে দোষারোপ করা উচিত সেটাও হয়তো আমাদের উচিত হবে না। তবে ছেলেরা তাদের নিজ পিতাকে অপমান করেছে সেটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। অতএব, এটা পারিবারিক সহিংসতা, পারিবারিক ঝামেলা। আমরা চাই না, এভাবে সমাজের মধ্যে ঘটনা ঘটুক। সেই দিক চিন্তা করে সুন্দর সমাধানের জন্যে সুশীল সমাজকেই এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছি।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

২৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, সোমবার

Add piles sex Diabeties all

76 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন