editorial

লোভী মানুষের কাছে ঠকে যাওয়া জীবনের জন্যে চরম আকার ধারণ করে

সম্পাদকীয়  …

‘লোভ নেই’ এমন মানুষ পাওয়া ভার! ভালো থাকার জন্যে ও উন্নতি করার জন্যে লোভ থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই লোভের কারণেই মানুষ আসল নকল অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে নিদারুণভাবে ঠকে যান। আর সেই ঠকে যাওয়াটা অনেক সময় জীবনের জন্যে চরম আকার ধারণ করে। কিছু মানুষ এ ধরনের লোভ আছে এমন মানুষকেই টার্গেটে রেখে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হাসিল করে। সে ধরনের মানুষ খুঁজে পাওয়া গেছে সুনামগঞ্জে।

এই লোক মানুষকে লোভ দেখিয়ে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। প্রিয় সময়ে ‘পাঁচ বিয়ে করে ধরা খেল সুনামগঞ্জের বিয়েপাগল লন্ডন প্রবাসী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি তার চাতুরি সম্পর্কে। কতোটা ধুর্ত প্রকৃতির হলে পরে তিনি এভাবে মানুষকে দিনের পর দিন ঠকিয়ে যেতে পারেন। তবে এই লোকটি ভিন্ন প্রকৃতির।

তার মধ্যে ভিন্ন নেশা কাজ করে। সেটি হলো বিয়ে করার নেশা। এই ব্যক্তির বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবনগর গ্রামে। বিয়েপাগল সেই মৃত উলফত উল্যার ছেলে লন্ডন প্রবাসী মকবুল হোসেন বিয়ের নেশায় পাগল এই লন্ডন প্রবাসী লাল পাসপোর্টের লোভ দেখাতে সুন্দরী মেয়েদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতেন। এরপর কৌশলে কাবিন করে বিয়ের কাজও সেরে ফেলেন। এরপর বিয়ের পরই স্বার্থ উদ্ধার হলে তার খোলস পাল্টে ফেলেন। ছুটে চলেন লন্ডনে, কিন্তু বিয়ে করা স্ত্রীদের আর খোঁজ খবর রাখেন না, ভুলে যান। তখন দিশেহারা হয়ে সেসব নারীরা। অপরদিকে তাদের লন্ডন যাওয়ার স্বপ্ন কোনোদিনই পূরণ হয় না।

একই কৌশলে সুনামগঞ্জের এক নারীকে বিয়ে করেছেন। তার সাথেও একই রকম চালাকি করেছেন। মজার বিষয় হলো, সেই নারীকে বিয়ে করে কাবিননামায় প্রথম স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সেই নারী মোটেও জানতো না যে, এর আগে এই লোকটি আরো চারটি বিয়ে করেছেন। আর বিয়ের পরই লোকটির ধুর্ততা ধরা পরে। বাধ্য হয়ে সেই মেয়ে আদালতে বিচারপ্রার্থী হলেন। বর্তমানে সেই লোক কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। এই নারী জানান, ‘২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখে বাদীকে তার বাড়িতে রেখে বিবাদী মকবুল হোসেন পরের দিন ১০ তারিখে লন্ডনে চলে যান। লন্ডনে যাওয়ার পর বিবাদী বাদীর কোনো ভরণপোষণ দেন নাই এমনকি কোনো খোঁজখবরও নেন নাই। বাদী অনেক চেষ্টা করে বিবাদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে বাদীর পিত্রালয়ে আসেন এবং রাতযাপন করেন। তাকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন লন্ডনের লোভ দেখিয়ে নিরীহ মেয়েদের বিয়ে করে জীবন তছনছ করে দিচ্ছেন এভাবেই। জানা গেছে, এভাবেই মকবুল হোসেন চারটি বিয়ে করে সংসার ভেঙেছেন।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, মকবুল হোসেন এলাকায় বিয়ে পাগল লন্ডনপ্রবাসী হিসেবেই পরিচিত। তিনি লোভ দেখিয়ে বিয়ের নামে ভোগ করেন। এই লোকের কোনো সংসারই স্থায়ী হয়নি। যখন প্রয়োজন মিটে যায়, তখন কীভাবে তালাক দিবেন সেই ফন্দি করে থাকেন। আর এদিকে নারীরাও লোকলজ্জার ভয়ে অসহায় হয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলেই চলে যায়। নীরবেই সবকিছু সহ্য করেন ও তার সংসার থেকে চলে যান। এভাবেই মকবুল সুন্দরী মেয়েদের জীবন তছনছ করে আসছেন।

আমরা মনে করে, এ ধরনের ঘটনায় সমাজের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সমাজ হচ্ছে কলুষিত। অবশ্য মেয়েদেরকে আরো সাবধান হওয়ার পাশাপাশি সতর্কতার সাথে চলা উচিত। উপরন্তু লোভ সংবরণ করেও চলা উচিত। এ ধরনের ঠকবাজদের থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কোনোভাবেই লোভের বশবর্তী হওয়া যাবে না। খুব সহজেই পটে যাওয়া যাবে না। আমরা চাই, এ ধরনের ঠকবাজদের আইনের আওতায় আনা উচিত এবং তাদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা উচিত। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

৩০ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার

Add piles sex Diabeties all

74 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন