৭ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা!

প্রতীকী ছবি

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরা চৌধুরী বাজার মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (৭)কে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এ এলাকার বাসিন্দা রিপন মাঝি (৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায়।

জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা একমাস পরে দেওয়া হবে বলে জানান ধর্ষিতার মা মিনারা বেগম (২৫)। গ্রাম্য সালিশের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার মধ্যরাতে ভোলার মনপুরা উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামে।

ধর্ষিতার মা মিনারা ও সালিশ বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা হাজিরহাট ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দার রিপন মাঝি নূহার ঘরের পাশ দিয়ে গোসল করতে যায়। তার মা ঘরে না থাকায় শূন্য ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ততক্ষণে ধর্ষিতার চাচা জহির মাঝি দেখতে পায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক সালাউদ্দিন, জহির হোসেন, মাকসুদসহ শুক্রবার রাতে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধর্ষিতা মাদ্রাসারছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টাকা। ধর্ষিতার মা বলেন, মোরা গরিব হওয়ায় হুমকি-ধমকি দিয়ে সালিশে মোগো কোন কতাই কইতে দ্যায় নায়।

তার মা আরো জানান, তারা যেখানে বসবাস করে সেই জায়গা তাদের না ওঁরকাত থাকেন তারা। ওই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথায় যাওয়ার চাপ প্রয়োগ করে। তাই বাধ্য হয়ে মনপুরা থানা একটি মামলা দায়ের করেছে ধর্ষিতার মা। স্কুল শিক্ষক সালাউদ্দিন বলেন, ধর্ষিতা অনেক ছোট হওয়াতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে এবং অভিযোক্ত রিপন মাঝিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

২৮ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১২ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, বুধবার

343 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়