chandpur report 1126

অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, বেড়েছে সেবার মান

নরসিংদীতে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এতে হয়রানি, ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে নাগরিকদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা প্রদানের হার। ডিজিটাল ছোঁয়ায় হয়রানি ছাড়া সহজেই সেবা পাওয়ায় খুশি সেবা প্রত্যাশীরা।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মসংস্থানের জন্য নরসিংদী জেলা থেকে অনেকেই যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আর বিদেশে যেতে ভিসার আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক প্রয়োজন পড়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। একটা সময় এই সার্টিফিকেট পেতে পুলিশি তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ, হয়রানিসহ ছিল দালালদের দৌরাত্ম্য। এতে পুলিশ অফিসে দৌড়ঝাপসহ ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হতো সেবা প্রত্যাশীদের।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট” সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এই ডিজিটাল ছোঁয়ায় সহজীকরণ হয়ে উঠেছে “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট” সেবা প্রাপ্তি। সেবা প্রত্যাশীরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার পর মোবাইল ফোনে এএসএমএস এর মাধ্যমে জানতে পারছেন সার্টিফিকেট প্রস্তুতির তথ্য। পরে যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে এ সার্টিফিকেট। আবেদনের পর ঘুষ, দুর্নীতি, সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি ছাড়াই ৫ কার্যদিবসেই নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অভ্যর্থনা ডেস্কেই মিলছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এছাড়া এ সংক্রান্ত যেকোনও সমস্যার সমাধান ও তথ্য সরবরাহের জন্য নিয়োজিত থাকছেন দুই জন পুলিশ সদস্য। এতে ঘুষ দুর্নীতিসহ সবধরনের হয়রানি বন্ধ হয়ে সেবার মান বাড়ায় খুশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে আসা নাগরিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের এক প্রবাসী বলেন, ‘আগে সার্টিফিকেট পেতে পুলিশের কাছে যেতে হতো, বাধ্য হয়ে ঘুষ হিসেবে টাকা পয়সা দিতে হতো। ঘুষ না দিলে কাজ এগুতো না। বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াতে হতো। এই যে দুর্ভোগটা এখন নেই বললেই চলে।’

অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তৈরি হচ্ছেপলাশ উপজেলা থেকে অনলাইন সার্টিফিকেট নিতে আসা একজন বলেন, ‘আমি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য পলাশ থানায় আবেদন করেছিলাম অনলাইনে। আবেদন করার ১৫ দিন পর ম্যাসেজ এসেছ সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য। অনলাইনে চেক করার পরে দেখছি যে, আমার নাম আছে, সব ঠিক আছে, আমার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটা ওকে হইছে। এখন আমি এসপি অফিস থেকে নিতে আসছি। এতে খুবই সুবিধা হইছে, অনলাইনে পাবলিক খুব উপকার পাচ্ছে। ঝামেলা হচ্ছে না।’

শিবপুর উপজেলার মালয়েশিয়া ফেরত এক প্রবাসী বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য এই সিস্টেম করায় সুবিধা হইছে। আমি মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসছি, আবার যেতে হবে, তাই নতুন করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে। আমি মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন করার পর ম্যাসেজ দিয়েছে এসপি অফিস থেকে সংগ্রহ করার জন্য। এখন আসার পর সংগ্রহ করলাম। কোনও প্রকার টাকা পয়সা লাগেনি। আগে টাকা ছাড়া এসব হতো না।’

নরসিংদীর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, ‘অনলাইন পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং নির্ভুলভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঘরে বসেই এ সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। আগে অনেক অভিযোগ ছিল, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল সেটাও কিন্তু এখন আমরা পাচ্ছি না। আমরা সেন্ট পার্সেন্ট সততার সঙ্গে, ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে আবেদনটা পৌঁছে দিতে পারছি।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘একটি অসুবিধা আছে এখন, যেটা সমাধান প্রক্রিয়াধীন আছে। এখনও কিন্তু দেখবেন ফ্রন্ট ডেস্কে গেলে জেলা পুলিশের এখান থেকে এসে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটটা নিয়ে যেতে হয়। তার মানে ফিজিক্যাল একটা বিষয় রয়ে গেছে। এটা যাতে না থাকে সে বিষয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনলাইনেই ঘরে বসে যেভাবে আবেদন করছেন, ঘরে বসে সেভাবেই ক্লিয়ারেন্ট সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন—খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই ব্যবস্থাও হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নরসিংদী জেলায় অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জমা পড়ে ৮১ হাজার ৬০৯টি। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৮১২টি, বাতিল করা হয়েছে ৫২৩টি।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

০৮ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৩ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, রোববার

 Hakim Mizanur Rahman nk night king add

169 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন