chandpur report 580

কচুয়ায় শিশু ধর্ষণ, দুই মাসেও মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি!

কচুয়া প্রতিনিধি :

কচুয়া উপজেলার খিলমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে কচুয়া থানায় মামলা হয়। মামলা নং ১৪।

মামলাটি দায়েরের দু’মাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে অথচ আজও ধর্ষিতার মেডিকেল রিপোর্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে কচুয়া থানায় আসেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মামুন মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি শিগগিরই হাসপাতালে গিয়ে রিপোর্টটি নিয়ে আসবো ও যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার চার্জসীট দাখিল করবো।

এদিকে শিশুটির ধর্ষক তার নিজ বাড়ির দুঃসম্পর্কিয় ষাটোর্ধ্ব বয়সি দাদা জামাল হোসেন দীর্ঘ সময় পালিয়ে থাকার পর ৩/৪দিন পূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিশুটিকে ললিপপ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত গৃহে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি রক্তাত্ব অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে ঘরে এসে তার মাকে ঘটনা জানালে তাকে দ্রুত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করানো হয়। পরে তার অবস্থা অবনতি দেখে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিবুল আহসান ও গাইনী ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সেবিকা কুহিনুর বেগম শিশুটির ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদেরকেসহ সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। এ শিশু ধর্ষণকারী জামাল হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে কচুয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃনালীনি কর্মকার শিশুটির বাড়ি গিয়ে তার খোঁজখবর নেন ও আইনের আওতায় ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পরিবারের সদস্যদেরকে আশ^স্ত করেন।

ধর্ষণ ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্ট থানায় না আসায় ও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন