editorial

গোপনে ভিডিও ধারণকারী দুই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

সম্পাদকীয়

প্রযুক্তি আমাদের জন্যে আশির্বাদ। কিন্তু আমরা সেটাকে অপব্যবহার করে অভিশাপে পরিণত করছি। স্মার্টফোন বা মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। মোবাইল ছাড়া আমরা মোটেও চলতি পারি না। সেই সাথে মোবাইল এমন মানুষও পাওয়া ভার। মোবাইলের মাধ্যমে অনেক কিছুই করা যায়; যদি আমরা সেটাকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু আমরা মোবাইলের অপব্যবহার করে সভ্যতা হারিয়ে ফেলছি।

প্রিয় সময়ে প্রকাশিত ‘সখীপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২’ শিরোনামে ঘটনাটি আমাদের অত্যন্ত লজ্জার মধ্যে ফেলে দেয়। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গোসলের ভিডিও গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করার ঘটনাটি সবারই জানা। এতে করে সেই মেয়ে ও পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, এ ঘটনার জন্যে ঐ ছাত্রী বাদি হয়ে সখীপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করায় পুলিশ জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। অনুমতি না নিয়ে অন্যের ছবি তোলা আইনবিরুদ্ধ। তাছাড়া চুপিসারে ও গোপনে অন্যের ভিডিও ধারন ও তা প্রকাশ করা সেটা বড়ই অন্যায় কাজ বটে। বড়চওনা এলাকার নিখিল ড্রাইভারের ছেলে মোবাইল ব্যবসায়ী পাপ্পু এবং মন্টু শীলের ছেলে আশিক ঐ ছাত্রীর গোসলের ভিডিও মোবাইলে ধারন করে সেই অন্যায় করেছে। তাছাড়া ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাছাড়া একটি মেয়ের বাথরুমে গোসলের ভিডিও ধারণ করা দ-নীয় অপরাধ।

আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, মেয়েটি পুলিশে জানিয়ে খুবই বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। এভাবে সে তার সম্মান রক্ষা করতে পেরেছে। সেই সাথে যারা দোষী তাদেরকে পুলিশের তুলে দিতে পারায় সকলেই সন্তুষ্ট হয়েছে। যদি মেয়েটি ভয় পেয়ে চুপ করে থাকতো তাহলো হয়তো বিষয়টি আরো বেশি দূর গড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়নি। তাছাড়া আমরা জানি যে, এ ধরনের ঘটনার জন্যে ৯৯৯ নম্বরটি বর্তমানে খুব প্রচলিত। আমরা দেখেছি অতীতে অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে মানুষ এই নম্বরটি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। আমরা চাই, গোপনে ভিডিও ধারণকারী দুই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

52 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন