চাঁদপুরের বিষ্ণপুরে সেচ প্রকল্পের ড্রেন কেটে ১২ হেক্টর ইরি চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুর সদর উপজেলা বিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেরুদিয়া গ্রামে সেচ প্রকল্পের ড্রেন কেটে ইরি ধান চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে দৃর্বৃত্তরা। ধান চাষে এমন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির কারনে ওই গ্রামের একাধিক ইরি ধান চাষের কৃষকরা গনসাক্ষর দিয়ে গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্নিজ ফাতেমার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে ৩৯ জন কৃষকের সাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় খেরুদীয়া গ্রামের একাধিক কৃষক দীর্ঘদিন দিন ধরে তাদের জমিতে ইরি ধান চাষ করে আসছিলেন। ধানে চাষে তারা সেচ প্রকল্প (ড্রেন) দিয়ে তাদের কৃষি জমিতে পানি দিতেন। কিন্তু এবছর আলুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে স্থানীয় এলাকার বকাউল বাড়ির মমতাজ উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ আলম বাকাউল গাংরা তাদের ধান চাষকৃত জমি পোষনী নিয়ে আলু চাষ করার জন্য সেচ প্রকল্পের ড্রেনের বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলে। যাতে করে কৃষকরা ইরি ধান চাষ করতে না পারেন। এজন্য ভুক্তভোগী অসহায় কৃষকরা নিরুপায় হয়ে ৩৯ জন কৃষকের সাক্ষরিত একটি অভিযোগ চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রদান করেন।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক জানায়, মোঃ আলমগীর হোসেন বকুল এফ এন এ সি পি আই জি -২ আওতায় নুরুল্লাপুর ব্লক শারদীয়া মৌজা ১২ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ইরি-বোরো ধান চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু এবছর হঠাৎ করে খোরশেদ আলম বকাউল সেচ প্রকল্পের ড্রেনটি ভেঙ্গে ফেলেন। এছাড়াও খোরশেদ আলম সহ কয়েকজন ধান চাষ করতে দিবে না বলে এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের হুমকি-ধামকি প্রদান করে আসছেন বলে তাদের অভিযোগ। সেচ প্রকল্পের ড্রেন কেটে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারনে ওই গ্রামের ১২ হেক্টর ইরি-বোরো জমিতে পানি বিহিন ভাবে কৃষকরা ধান চাষ করতে পারবেনা বলে জানান।

তাই স্থানীয় ৩৯ জন কৃষক গণস্বাক্ষর দিয়ে মোঃ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর এই লিখিত একটি অভিযোগ প্রদান করেন। এছাড়াও কৃষকদের চাওয়া যাতে তাদের পূর্বের ন্যায় ধান চাষ করতে কোন ধরনের বাধা বিঘ্নতা না করতে পারে এবং পুনরায় সেচের ড্রেনটি পূর্বের ন্যায় ব্যবহার করতে পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর ও প্রশাসনের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে খোরশেদ আলম বকাউলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উক্ত জমিতে আমরা কয়েকজন আলু চাষ করে আসছি। ধান চাষ করলে আমাদের আলু জমিতে পানি ঢুকে আলু নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আমরা সেচ প্রকল্পের ড্রেনটি কেটে দিয়েছি। এছাড়া যে সকল কৃষকরা এই অভিযোগ দিয়েছেন তাদের অনেকেরই সেখানে ধান চাষ করার মতো জমি নেই। এখানে ইরি ধান চাষ করতেও তাদের আপত্তি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়