chandpur report 1090

‘চাঁদপুরে বৈধ লাইসেন্সের দ্বিগুণ অবৈধ সিএনজি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

রেজিষ্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সার (থ্রি-হুইলার) মালিক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের জন্য গণসচেতনতা সভার আয়োজন করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ লাইনস্ এ গণসচেতনতা সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম(বার)। তিনি বক্তব্যে বলেন, নো মাস্ক নো প্যাসেঞ্জার এ নীতিতে চালকরা মাস্ক ছাড়া কোন যাত্রী উঠাবেন না। তাহলে চালক যাত্রী উভয়ই করোনা থেকে রক্ষা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজের যে পরিচালনা পদ্ধতি। তা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আসে। আমরা সমাজের বৈধ অবৈধ ভেদাভেদ রাখতে চাই না। আমরা কাজ করতে চাই। ২০০৫ সালে চাঁদপুরে সিএনজির লাইসেন্স ছিল ৫ হাজার। তা বর্তমানে হয়েছে ৬ হাজার ৭শ ১টি। তবে গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঁদপুরে বৈধ লাইসেন্সের দ্বিগুণ অবৈধ সিএনজি চলাচল করে থাকে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের কোন সদস্য দ্বারা কেউ জুলুম নির্যাতনের শিকার হলে আপনারা আমাদেরকে অবহিত করেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। গত প্রায় ১ বছর আমরা কোন আইন (মামলা) প্রয়োগ করি নাই। আমরা জুলুমের প্রয়োগ চাই না। আমরা চাই শান্তি।

পুলিশ সুপার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে করোনার দ্বিতীয় ওয়েব মোকাবেলা করতে প্রতিটি স্তর থেকে সমন্বয় উদ্যোগ চালাতে হবে। বৈধ ও অবৈধ বলে কোন কথা থাকবে না। সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা বৈধ করার জন্য সমস্যা কোন জায়গায় তা চিহ্নিত করার জন্য আজকে মালিক ও চালকদের ডাকা হয়েছে।

উন্মুক্ত আলোচনায় মালিক ও চালকরা বলেন, চাঁদপুর জেলায় স্থায়ী কোনও স্ট্র্যান্ড নেই। যা অন্য জেলায় আছে। আর এ স্ট্র্যান্ড না থাকায় আমাদের কে বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অবৈধ পন্থায় সিএনজি আমরা ক্রয় না করে, সিএনজি বিক্রয়ের ডিলারের কাছ থেকে ক্রয় করে থাকি। তবে আমরা লাইসেন্স করতে পাচ্ছি না। অবৈধ পন্থায় সিএনজি ক্রয় করলে আমাদের ১ থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা লাভ হয়। তাহলে সিএনজি ডিলারের কাছ থেকে ক্রয় করে কি লাভ। মতলব সেতুতে কিছু হয়রানির শিকার হতে হয়।  এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের লাইসেন্সবিহীন সিএনজিগুলোর লাইসেন্সের ব্যবস্থা করার।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার মালিকদের সমস্যার কথা আমরা জানতে না পারলে তাদেরকে বৈধ করা সম্ভব নয়। একটু সচেতন হয়ে থ্রি হুইলারগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করবো। তাদের বৈধ করা হবে এবং তাদেরকে মাস্ক পরাবো। আমাদের আজকের সভার মূলমন্ত্র হবে ‘নো মাস্ক, নো পেসেঞ্জার’। আমরা সমাজের কাউকে বাদ দিয়ে চলতে পারবো না।

এসপি লাইসেন্সবিহীন ও রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মালিক এবং চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কথা শুনতে, সমস্যা শুনতে আজকের এ সভা। আমরা চাইলে আপনাদের অবৈধ থ্রি হুইলারগুলো আটক করে রাখতে পারি। কিন্তু আমরা সেরকম কঠোর হতে চাচ্ছি না। আপনাদের প্রতি আমাদের অনুভূতি আছে। আমরা চাই আপনাদের সমস্যাগুলো খুলে বলবেন। যাতে করে আমরা কাজটি সহজভাবে করতে পারি।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার) মোঃ আসাদুজ্জামান সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী আব্দুর রহিম।

আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার, চাঁদপুর জেলা পুলিশের ডিআই-১ তোতা মিয়া, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন, জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসকাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ।

সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন প্রেসকাবের সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী, রহিম বাদশা, সাবেক সভাপতি শরিফ চৌধুরী, ইকবাল পাটওয়ারী, সময় টিভি’র জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, দৈনিক প্রথম আলো’র জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ প্রমুখ।

উম্মুক্ত আলোচনা পর্বে সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক ও চালকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিএনজি মালিক সমিতি (২৫০৩) এর সভাপতি কাজী শাহরিয়ার ওমর ফারুক, আবুল হোসেন পাঠান, শাহাদাত হোসেন, কামাল হোসেন, সিএনজি মালিক ও চালক আলমগীর হোসেনসহ আরোও কয়েকজন মালিক শ্রমিক প্রমুখ।

আলোচনা সভাশেষে পুলিশ লাইন্স-এর সামনে কয়েকজন সিএনজি চালক ও যাত্রীকে মাস্ক পরিয়ে দেন পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

০৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ১৯ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, বুধবার

 

89 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন