editorial

জমির নামজারি ও নিবন্ধন সেবা সমন্বয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা

সম্পাদকীয়…

জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জমির নামজারি ও নিবন্ধন সেবা সমন্বয় কার্যক্রম দেশব্যাপী চালুর ক্ষেত্রে সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। মানুষের আয় বেড়েছে, যদিও করোনা এ ধরা কিছুটা স্তিমিত করেছে।

আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সেই লক্ষ্যে ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধে যে অনলাইন সিস্টেম নতুন করে শুরু হচ্ছে, তারও কিছুটা ফাঁক ফোকর রয়েছে। দুর্নীতি বন্ধে ভূমি ও নিবন্ধনের সকল ফাঁক-ফোঁকর বন্ধ করতে হবে। যেমন- যদি ওয়ারিশান সূত্রে ভাইবোনদের মধ্যে জায়গাসম্পত্তির মালিক হয়, আর তাদের যদি বন্টননামা না করা হয়, সেদিক থেকে ফাঁক-ফোঁকরের সৃষ্টি হবে, জটিলতা তৈরি হবে, নামজারিতে বিঘœ ঘটবে। বিষয়টা ভেবে দেখা দরকার।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেছেন, জমির নামজারি ও নিবন্ধন সেবা সমন্বয় কার্যক্রম দেশব্যাপী চালু হলে প্রতিবছর প্রদত্ত ২০ থেকে ২২ লাখ নামজারি সেবা আরও দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে দেওয়া যাবে। ফলে বছরে সংশ্লিষ্ট এক কোটির অধিক মানুষ এ সেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি কমবে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভূমি সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। এ সময় ভূমি সচিব জমির নামজারি ও নিবন্ধন সমন্বয় কার্যক্রমের সদয় অনুমোদন প্রদান করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ভূমি সচিব এ সময় বলেন ভূমিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভূমি মন্ত্রণালয় সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভূমি সচিবের সভাপতিত্বে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে জমির নিবন্ধন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উক্ত জমির নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন প্রক্রিয়ার ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এটুআই এর সহযোগিতায় ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের ফসল এ প্রক্রিয়ায় জমির নিবন্ধন শেষ হওয়ার আটদিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। এখন দেশের ১৭টি উপজেলায় এই কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি চালু হবে বলে জানা গেছে।

সরকার দুর্নীতি বন্ধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। ভূমির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী নতুন সিস্টেম করতে চলছে। তবে আমরা আশা করবো, নতুন সিস্টেমটিতে থাকা দুর্নীতি ফাঁকফোকরগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারলেই সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসের দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাবে।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

১১ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, বুধবার

আপডেট সময় : ১১:৪৩ এএম

শেয়ার করুন