chandpur report 593

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাভাবিক কাজ করছেন কোরআনে হাফেজ ইব্রাহিম খলিল

কবির হোসেন মিজি :
চাঁদপুরে  দৃষ্টি প্রতিবন্ধী (অন্ধ) হয়েও যেকোন স্বাভাবিক  কাজ করে চলেছেন কোরআনে হাফেজ ইব্রাহিম খলিল।
অন্ধত্ব জীবন যাপনে চলেফেরা করে ইমামতি এবং ফ্ল্রাক্সিলোড সহ নানা কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন এই দৃষ্টিহীন কোরআনে হাফেজ। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খলিলুর রহমান শহরের বিভিন্নস্থানে কারো সহযোগিতা ছাড়াই হাটা চলা করছেন। পাশাপাশি জীবন জীবিকার টানে দৃষ্টিহীন ভাবেই বিভিন্ন জনকে মোবাইলে ফ্ল্যাক্সিলোড করে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই অন্ধ হাফেজ চোখে দেখতে না পেলেও অন্ধকারেই নিজের আত্বতিক শক্তিতে বিভিন্ন পরিচিত জনের মোবাইল কল রিসিভ এবং কল দিয়ে থাকেন।
কারো কারো কণ্ঠ একটু শুনেই ওই পরিচিত ব্যক্তির নাম বলে দিতে পারেন। এছাড়া সে যখন যেখানে যান তখন অন্যকারো সহযোগিতা ছাড়াই রাস্তায় চলাফেরা করে থাকেন। আর এভাবেই সে দীর্ঘ বছর ধরে চাঁদপুরে জীবন যাপন করে চলেছেন
চাঁদপুরে যাকে অধিকাংশ লোকই অন্ধ হাফেজ খলিলুর নামে  চিনে। খবর নিয়ে জানা গেছে ইব্রামিম খলিলুর রহমান বর্তমানে চাঁদপুর শহরের ভূমি অফিস জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি সে চাঁদপুর ডিসি অফিস, জজকোট, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস,  চাঁদপুর সদর উপজেলা এবং শিক্ষক অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে  কর্মরত বিভিন্ন জনকে ফ্লাক্সিলোড করে থাকে।  শুক্রবার এবং শনিবার সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন তার গড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার ফ্লেক্সিলোড হয়ে থাকে। এতে তার দৈনিক এক থেকে দেড়শ টাকা আয় হয়।
ইব্রাহিম খলিলুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে সে এ ফ্লেক্সিলোড করে থাকে। ফ্লাক্সিলোড  করতে গিয়ে কখনো কখনো  নাম্বার ভুল হয়ে যায়। কিন্তু সে টাকা আর ফেরত পাওয়া যায়নি।
হাফেজ মোঃ ইব্রাহিম খলিলুর রহমান  হাজার ১৯৮৬ সালে চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ বিষ্ণুদী এলাকার জিটি রোডে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ আলী আহমদ মিয়াজী। সে জানায় জন্মের পাঁচ বছর পর টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। তারপর সে স্কুল জীবন শুরু করে, ২০০০ সালে চাঁদপুর প্রতিবন্ধী স্কুল থেকে এস এস সি পাস এবং ২০০৫ সালে কোরআনে হাফেজ সম্পন্ন করেন।  ২০০৯ সালে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন.। বর্তমানে তার সংসার জীবনে দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে।
খলিলুর রহমান মসজিদে ইমামতি এবং বিভিন্ন জনের মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড করে, এভাবেই তার সংসারের হাল টেনে আসছে। এছাড়াও সে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলেও বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলে জানান।
এই দৃষ্টিহীন জীবনে কিভাবে সে এত কাজ করা সম্ভব।  এ প্রসঙ্গে সে জানান,  সে একাই বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করে থাকেন এবং ঢাকা থেকে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে মানুষকে ফ্লেক্সিলোড করেন ও  বিভিন্ন জনের কল রিসিভ এবং  কল ব্যাক করে থাকেন। এতে তার চলাফেরা তেমন কোন সমস্যা না হলেও রাস্তা পারাপারের সময় মানুষের সহযোগিতা নিতে হয়।
 তবে একা চলার ক্ষেত্রে কারো সহযোগিতা পেলে একটু ভালো হয় বলে  জানান। যখন সে দুর দুরান্ত যান তখন সাদাছড়ি ব্যবহার করে থাকেন।  এভাবেই  দৃষ্টিহীন হয়ে অন্ধত্ব জীবনযাপন করে কর্মের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে অন্ধ হাফেজ ইব্রাহিম খলিলের জীবন তরী।
শেয়ার করুন