chandpur report 1147

ফরিদগঞ্জবাসী এই দক্ষ-কর্মঠ প্রকৌশলীকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে

আনিছুর রহমান সুজন :

উপজেলা প্রকৌশলী ড. মো. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার দীর্ঘ ছয় বছর ফরিদগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। শুধু ফরিদগঞ্জ নয় চাঁদপুরের যে কোন উপজেলায় যখনই কোন উপজেলা প্রকৌশলীর সংকট দেখা দিয়েছে, উনার সুনামের কারণে ডিপার্টমেন্ট তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সদর সহ হাইমচর উপজেলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরিদগঞ্জ সাত বছর আগে বিভিন্ন সড়কের যে বেহাল দশা ছিল, গত ছয় বছরে উনি সুস্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সমগ্র উপজেলার সড়ক নেটওয়ার্ক মেরামত সহ উন্নয়ন সাধন করেছেন।

তার আমলেই দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কামতা ব্রীজ, গল্লাক ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ করা সহ স্বাধীনতার পর থেকে ফরিদগন্জবাসীর দাবি, গাজীপুর-ধানুয়া ব্রীজ নির্মিত হয়েছে এবং উটতলী গুদারাঘাটে ডাকাতিয়া নদীর উপর নতুন ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে। ইসলামপুরেও ডাকাতিয়া নদীর উপর দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ সম্পন্নের পথে।

তাছাড়া, ক’বার টেন্ডার হলেও ফরিদগঞ্জ -রূপসা রাস্তা কেউ না নেওয়াতে বাস্তবায়নে দেরী হচ্ছে, অথচ এই সড়কটি প্রশস্তকরণের অনুমোদন সহ মানসম্মত ভাবে দ্রুত কাজ করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। সকল কাজে স্হানীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা থাকলেও উনার ত্বরিতকর্মা গুণের জন্য ফরিদগন্জে এ কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হয়েছে।

সরকার ঘোষিত ইশতেহারে “আমার গ্রাম, আমার শহর” রূপকল্প বাস্তবায়নে উনি ফরিদগঞ্জ নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারের রূপকল্পের পথে ফরিদগন্জ উপজেলা বর্তমানে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে।

ফরিদগঞ্জের খেলাধুলার উন্নয়নে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উনি নিজেও একজন অলরাউন্ডার খেলোয়ার ও সংস্কৃতি ও সাহিত্যমনা। আপসোস, উপজেলা পরিষদের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকায় কাজ করতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলের শিকার হয়ে আজ তিনি ফরিদগন্জ থেকে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় বদলী হয়ে চলে যাচ্ছেন।

ফরিদগন্জ উপজেলা পরিষদের ৬ একর সম্পত্তি বেহাত অবস্হায় আছে। পরিষদের দখলে মাত্র ৪.৬৭ একর ভূমি। পরিষদে প্রবেশের রাস্তার একপাশে পুকুর এবং অন্য পাশে মাঠ। মাঠসহ পুকুরে পরিষদের ৬৭ শতক ভূমির সাবকবলা দলিলমূলে মালিকানা থাকলেও বর্তমানে তার পুরাটাই বেহাত। যখনই মাঠে কোন সরকারী প্রোগ্রাম কিংবা পুকুর পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, বারবার বাধা এসেছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঘটনায়, তিনি পরিষদের কয়েকটি দলিলপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যাতে দেখা যায়, পরিষদের নামে ১৯৬৩-৬৪ সালে এলএ কেস ১৯২/৬৩-৬৪ মূলে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়, অথচ পরিষদের বাউন্ডারীর দখলে মাত্র ৪.৬৭ একর ভূমি।

অধিগ্রহণের বাহিরে পরিষদের সামনের মাঠ ও পুকুরের ভিতরে কিছু অংশ সহ ৬৭ শতক ভূমি ১৯৫৭ সালে সাবেক সিও ডেভেলপমেন্টের নামে সাব-কবলা দলিল মূলে ক্রয়কৃত। স্হানীয় মৌজা দর অনুযায়ী পরিষদের বেদখলীয় সম্পত্তির বাজার দর প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। পরিষদের মাসিক সভায় তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করলে ইউএনও মহোদয় ও চেয়ারম্যান মহোদয় পরিষদের স্হাবর সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্হা গ্রহনে পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে আহবায়ক এবং উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলামকে সদস্য সচিব করে একটি উপকমিটি গঠন করে দেন।

স্হানীয় সরকার বিভাগের অধীন একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সরকার ও পরিষদের স্বার্থে তিনি আন্তরিকতার সাথে অগ্রনী ভূমিকায় কাজ করতে থাকেন। এতে দখলদারী সুবধাভোগী কিছু মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো সহ ফরিদগন্জ থেকেতাকে বদলীর চেষ্টা চালিয়ে যায়।

সরকারী কাজ করতে গিয়ে মহামারী করোনায় আক্রান্ত হলেও এরই মধ্যে বিগত এক মাসে তাকে তিনবার বিভিন্ন উপজেলায় বদলীর আদেশ করা হয়-যা বিরল ও অমানবিক।

অবশেষে, গত ০৪.১১.২০২০ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডি মহোদয়ের স্বাক্ষরিত রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় বদলীর আদেশ পেয়ে করোনা থেকে সুস্হ হয়ে সেখানে যোগদানপত্র প্রেরণ করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে সরকার তথা দেশের উন্নয়নে যে কোন স্হানে যে কোন চ্যালেন্জ গ্রহণে উনি সদা প্রস্তুত। তবুও, একজন সিনিয়র উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে বিগত পনের বছর ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে যে দায়িত্ব উনি পালন করে আসছেন, এই বদলীর আদেশে তাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে বলে সবাই মনে করে।

করোনা মহামারির লকডাউনে পুরো সময়ে তিনি উপজেলায় উপস্হিত থেকে প্রশাসনের সাথে রিলিফ বিতরণসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন ছাড়াও ফরিদগন্জে উন্নয়ন কাজের বাৎসরিক টার্গেট থেকেও সর্বদা বেশী অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

নিজের বেতনের টাকায় ও উনার উদ্যোগে লকডাউনে এলজিইডি এবং অফিসার্স ক্লাবের ব্যানারে ফরিদগন্জের গরিব মানুষের মাঝে উনি ত্রাণ বিতরণসহ মাস্ক, হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেছেন।

প্রমোশনের তালিকায় থাকায় উনি ফরিদগন্জ থেকে প্রমোশন নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অথচ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে বিশেষ মহলের রোষানলের শিকার হয়ে আজ তিনি দুর্গম এলাকায় বদলী হয়েছেন। তার দেয়া তথ্যমতে উপজেলা পরিষদের স্হাবর সম্পত্তির সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসলে তা হবে ফরিদগন্জবাসীর জন্য এক বিশাল পাওয়া। ফরিদগন্জবাসী এই দক্ষ ও কর্মঠ প্রকৌশলীকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

১০ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, মঙ্গলবার

আপডেট সময় : ১১:১৭ এএম

221 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন