chandpur report 1190

ফরিদগঞ্জে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে নিজ স্ত্রীকে ঘুমের টেবলেট খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়াগেছে। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাসস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।

গৃহবধুর পিতা হেদায়েত উল্যাহ বেপারী (৮০) বাদী হয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে গৃহবধূর স্বামী তছলিম ভূঁইয়াকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে।

কোর্টে মামলার খবর শুনে তছলিম ভূঁইয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে হেদায়েত উল্যাহ বেপারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার পুত্রবধূ বিউটি আক্তারসহ কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

এ বিষয়ে হেদায়েত উল্যাহ বেপারীর পুত্রবধূ বিউটি বেগম বাদী হয়ে ০৮ নভেম্বর কোর্টে আরোও একটি মামলা দায়ের করেছে। এখানেই সে ক্ষ্যান্ত হয়নি উল্টো তাদেরকে হয়রানি করার জন্য নিজ রান্না ঘরে মালামাল সরিয়ে নিয়ে আগুন দিয়ে থানায় মামলা দায়ের করে হয়রানি করে চলছে।

এ বিষয়ে গৃহবধূ পেয়ারা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই সামান্য কথা কাটাকাটিতে ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট করতো আমার স্বামী তছলিম ভূঁইয়া। এভাবেই বেশ কয়টি বছর কেটে যায়। বর্তমানে আমার বড় মেয়ের রয়স প্রায় ২৬ বছর কিন্তু ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া ছোট ছেলেটি ৮ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। আমার স্বামী বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবৎ বাড়ির পাশের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে আমার ও আমার সন্তানদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেনা। তাছাড়া আমার স্বামী প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় আমাকে চরমভাবে নির্যাতন করছে। সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আমাকে ওরস্যালাইনের সাথে প্রায় ৪০টি ঘুমের টেবলেট মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। অচেতন হয়ে পড়লে আমার পিতা হেদায়েত উল্যাহ বেপারী থানা পুলিশ নিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এ বিষয়ে হেদায়েত উল্যাহ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমার মেয়েকে ব্যাপকভাবে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে চলছে তছলিম। আমি নিরূপায় হয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি। আমি এ ঘটার তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরোও জানান, গত ক’দিন পূর্বে আমাদের বাড়িতে তছলিমের নেতৃত্বে হামলা করার পর সে নিজ রান্না ঘরের মালামাল সরিয়ে নিয়ে একাংশে আগুন দিয়ে নাটক সাজানো চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে সে আমাদের হয়রানি করার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

এ ঘটনায় পরকীয়ারত তছলিম মিয়া বলেন, হেদায়েত উল্যাহ বেপারীর নেতৃত্বে আমার রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে আমি তার প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে পরকীয়ার বিষয়ে নীরব থাকেন।

ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জমশেদ আহম্মদ বলেন, তছলিমের থানায় করা অভিযোগের তদন্ত চলছে।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

আপডেট সময় : ১০:১৪ পিএম

১৩ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার

শেয়ার করুন