chandpur report edi 20 novermber

মতলব উত্তরে রাস্তার ইট খুলে নিলেন চেয়ারম্যান!

সম্পাদকীয় …

যে কোনো রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। রাস্তা হচ্ছে সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায়। যে এলাকায় রাস্তাঘাট তথা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, সে এলাকায় মানুষের সব ধরনের উন্নয়নও বেশি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, গ্রামীণ রাস্তার বিষয়ে সেজন্য বেশি দৃষ্টি দিয়েছেন, যাতে গ্রামের মানুষের উন্নয়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার জন্যে।

রাস্তা-ঘাট হচ্ছে সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। একবার রাস্তাঘাট হয়ে গেলে তা রোধ করার শক্তি সাধারণ মানুষের নেই। আর রাস্তার ওপর সরকারি বরাদ্দের ইট বা কংক্রীট ফেললে তা তুলে নেওয়ার অধিকার কোনো মানুষের নেই। এটা জনগণ তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

কিন্তু এবার ঘটছে এর ব্যতিক্রম। যা আমাদেরকে বিবেককে ব্যথিত করে তোলে।

চাঁদপুর রিপোর্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন মতলব উত্তরে রাস্তার ইট খুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান
থেকে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় রাস্তার ইট খুলে নেওয়ার ঘটনায় ফতেপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে জিডি করেন। জিডি নং ৭৯০/২০।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০১৮ সালে উপজেলার বাহাতিয়া গ্রামে একটি কাচাঁ রাস্তায় হেরিংবন করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সেই সময় প্রকল্পটি ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে। সম্প্রতি ওই রাস্তাটি উপজেলা এলজিইডি বিভাগ পাকা বা কার্পেটিং করার লক্ষ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে। এমতাবস্থায় ওই সড়কের ইট খুলে নিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী।

এ নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর চাঁদপুর রিপোর্ট অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওইদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফতেপুর স্কুলের সামনে স্তুপ করে রাখা ৭০ হাজার ইট জব্দ করেন পিআইও। পরে বৃহস্পতিবার থানায় জিডি করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আওরঙ্গজেব বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি রাস্তার ইট নেই। পরে চেয়ারম্যানের এলাকায় তল্লাশি করে পরিষদের সামনে ও স্কুলের সামনে রাখা ইটগুলো পাই। সেখানে আনুমানিক ৭০ হাজার ইট আছে বলে আমাদের ধরনা। পরে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাবাদে তিনি ইট আনার কথা স্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশ বলেন, রাস্তায়, রাস্তার ইট বা কোন মালামালে বিনা অনুমতিতে হাত দেওয়া অপরাধ। রাস্তা থেকে ইট নেওয়ার ঘটনা সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই আমরা আপাতত থানায় জিডি করেছি। পরবর্তীতে আইগতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, ইট নেওয়ার ঘটনায় জিডি হয়েছে। তদন্তপূর্ব পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা আশা করছি, এসব বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওই রাস্তায় উন্নয়ন সাধন ও সংস্কার করে জনগণের চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

আপডেট সময় : ১০:৩১ এএম

২০ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার

শেয়ার করুন