chandpur report 1211

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হালচাল

ইমরান নাজির, মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি:
যদি কোনো সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দালালের খপ্পরে না পড়ে থাকেন, তবে তাদের জন্য গ্যারান্টি! মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে খপ্পরে পড়বেনই। দালালে ভরপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

জানা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতিত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতাল গেইট ও বহিঃবিভাগে দাঁড়িয়ে থাকা দালাল চক্র ঘিরে ধরেন। কার কাছে যাবেন, কোন ডাক্তার দেখাবেন, প্রাইভেটে চলুন, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি, টেস্ট দিলে দাম কম রাখবো ইত্যাদি নানান প্রশ্নে জর্জরিত করে তোলেন রোগীর স্বজনদের। এছাড়া বহিঃবিভাগের টিকেট কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে রোগীদের সাথে সক্ষতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন দালালেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক থেকেই ৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যে গড়ে উঠেছে দি নোভা মেডিকেল সেন্টার, হযরত শাহজালাল (র.) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নাভানা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দি ইবনেসিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এই চার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগ প্রাপ্ত দালাল বিশেষ করে মহিলা দালালদের কারণেই বাড়ছে রোগী হয়রানি। চার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে হয়রত শাহজালাল (র.) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দি ইবনেসিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিযোগিতামূলক ভাবে হাসপাতাল থেকে রোগী আনার জন্য নিয়োগ দিয়েছে মহিলা দালাল। এ দুই ডায়াগনস্টি সেন্টার যে হারে মহিলা দালাল নিয়োগ দিয়েছে তাতে বিরক্ত ও বিব্রত হাসপাতাল রোডের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসার সময় অনেক সময় দালাল বিশেষ করে মহিলা দালালারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে হাসপাতাল চত্বর উত্তপ্ত করে তোলেন। এমনকি হাসপাতালের ভিতরে ডাক্তারদের রোগী দেখার চেম্বারে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার কাগজ নিয়ে টানাটানি হয়। তাদের এমন অত্যাচার বন্ধে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা বহিঃবিভাগে তদারকি করলেও হাসপাতালের গুটি কয়েক ডাক্তারের দালাল প্রীতির জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল চত্বরে দালালি বন্ধে বেশ কয়েকবার পুলিশ অভিযান চালালেও রহস্যজনকভাবে কেউ আটক হয়নি। যারা হাসপাতালে দালালি করে তাদের ছবি হাসপাতালের সিসি টিভিতে রেকর্ড করা থাকলেও নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ।

হাসপাতালে দালাল চক্রের বিষয়ে মতলব প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটা. গোলাম সারওয়ার সেলিম বলেন, ‘‘ক’দিন আগে আমি আমার এক আত্মীয়কে নিয়ে গিয়েছিলাম একজন গাইনী চিকিৎসক দেখাতে। টিকেট কেটে ডাঃ ফাতেমা খাতুনের চেম্বারে প্রবেশ করেন আমার আত্মীয়। ডাক্তার তার কথা শুনে পরীক্ষার জন্য একটি স্লিপ এক মহিলা দালালের কাছে দিলেন এবং বললেন পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনতে। ওই সময় আমি ডাক্তারকে বলি, পরীক্ষার দরকার হলে পরে করা হবে এখন ঔষধ লিখে দেন। কিন্তু ওই চিকিৎসক পরীক্ষা করানো ছাড়া কিছুতেই ঔষধ লিখবেন না। পরে ওই চিকিৎসক হাসপাতালে থাকা কর্মচারীদের মুখে আমার পরিচয় পেয়ে ঔষধ লিখে দেন।’’

পশ্চিম বাইশপুর বায়তুল আমিন জামে মসজিদের ইমাম বলেন, “হাসপাতালের এসে ৫ টাকার টিকেট কেটে তিনি তার স্ত্রীকে ১৪৪ নং কক্ষের ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় একের পর এক মহিলা এসে আমাদের প্রাইভেটে রোগী দেখিয়ে দিবে বলে প্রলোভন দেখা থাকে। তাদের এমন কান্ডে আমি বিরক্ত হয়ে আমার পরিচিতজনকে খবর দিলে তিনি এসে হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে দেন।”

হাসপাতাল গেইটের সম্মুখে সোহাগ স্টোরের মালিক জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী বলেন, “আমার বুঝের বয়সে মতলব হাসপাতালে এমন দালালি দেখিনি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা যে হারে মহিলা দালাল নিয়োগ দিচ্ছে, তাতে এই এলাকা ….. পাড়া হয়ে যাচ্ছে।”

মতলব সদর উপজেলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসার সাথে জড়িত একাধিক মালিক ও পরিচালক বলেন, “গত ২০ বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন মহিলা দালাল দেখিনি। আগে দুই-একজন পুরুষ রোগী টানতো। কিন্তু এখন পুরুষের চেয়ে মহিলা দালালের সংখ্যা বেশি। হাসপাতাল চত্বর যেন দালালে ভরপুর। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।”

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

আপডেট সময় : ০৯:১২ পিএম

১৫ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ৩০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, রোববার

 

 

শেয়ার করুন