editorial

মাদকাসক্ত ছেলে কর্তৃক পিতা খুন!

সম্পাদকীয়

পারিবারিক সহিংসতা দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ার পরিণতি আমাদের সমাজের জন্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে আতঙ্কিত ও ব্যথিত করে তুলেছে। মানুষের নৈতিকতা বাড়েতে যে সুশিক্ষার দরকার তা পাচ্ছে না যথাযথভাবে। পরিবারগুলোতে শিক্ষার অভাব, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, সৃজনশীল শিক্ষার অভাবের কারণে এক অন্ধকার জগতের দিকে চলে যাচ্ছে আমাদের সন্তানরা। সেখান থেকে তারা যেন বের হতে পারছে না। তবে আমাদের সমাজের সুশীল ব্যক্তিরা পরিবারগুলোকে সঠিক পথে অগ্রসর হতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে-এটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। তবুও উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা নৈতিক শিক্ষা পাচ্ছে না বলে তারা বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বয়সে তারা কারো কথাই শুনতে চায় না। এক অবাধ্যতা তাদের মধ্যে কাজ করে। মা বাবা, আত্মীয়স্বজন, গুরুজনকে মোটেও মান্য করতে চায় না। ফলে তারা উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এ কারণে তারা বিপথে চলে যাচ্ছে এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। হঠাৎ করে এ ধরনের খবর আমাদের মর্মাহত করে।

প্রিয় সময়ে ‘টাঙ্গাইলে ছেলের হাতে ‘বাবা’ খুন!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের কাছে আতঙ্কের মনে হয়। হয়তো কারো কারো কাছে অবিশ^াস্য ও দুঃখজনক; এটা মানতেই হবে। প্রশ্ন হলো, কেনো একজন ছেলে তার নিজের পিতাকে খুন করবে। এটা আমরা কেউ আশা করতে পারি না, কিন্তু হয়ে গেছে। ছেলেটি ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে উঠে। পরিবারের কারো কথা শুনে না। মা বাবাকে সম্মান করে না। এমনকি গুরুজনকেও মান্য করে না। আর তাই সাহস পেতে পেতে নিজের পিতাকেই খুন করে দিলো। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে!

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সমেস উদ্দিন (৫৫) নামের পিতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারই মাদকাসক্ত ছেলে হাসু মিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে, রাতে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের হেংগারচালা গ্রামে। আমরা সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি হাসু মিয়া অনেকদিন ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। আর এভাবেই একসময় সেই ছেলেটি প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে যায়। ছেলেটি এতোটাই বেপরোয়া হয়ে যায় যে, নিজের মা বাবাকেও মাঝে মাঝে মারধর করতো-যা’ অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা জানি যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা কখনো নৈতিক জ্ঞানসম্মান হতে পারে না। তারা ধীরে ধীরে তাদের বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে। আর হাসু মিয়া বেপরোয়া আচরণ করতো বলে তাকে বাড়িতে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। এ থেকেই বাবার প্রতি তার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একবার নিজের বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিলো। আর সেই ক্ষোভের প্রতিফলন সে পর্যন্ত ঘটে গেলো।

আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ও ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা দিতে এলাকায় শিক্ষিত সমাজকে দিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি অথবা স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তাছাড়া অভিভাবকদের দিয়ে ভালো একটি কমিটি গঠন করে ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করলে এ রকম ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। তাদেরকে বিভিন্ন ভালো কাজের সাথে জড়িত করতে পারলে বা ব্যস্ত রাখতে পারলে তারা খারাপ পথে এগুতে পারবে না। আমরা চাই, এ বিষয়ে নিজ নিজ এলাকার পরিবার ও সমাজকেই এ বিষয়ে জোড়ালো ভূমিকা নেয়া দরকার।

69 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন