chandpur report 1194

সপরিবার পতিতার কারবারী!

সম্পাদকীয় …

মদ, জুয়া ও নারী এ তিন কাজ মানুষের সমাজ-সংসার ও রাষ্ট্রকে কলুষিত করে। মানুষের সামাজিক চলার পথকে কণ্টাকাকীর্ণ করে। সমাজে অশান্তি তৈরির মূল উপাদান এই তিনটি কাজ। আর এই তিনটি কাজের জঘণ্যতম কাজ হচ্ছে নারীর পতিতাবৃত্তি। এই পতিতাবৃত্তিতে সহযোগিতা করে কিছু দালাল পুরুষ, যারা নারীর অবৈধ উপায়ের শরীকদার বা সহযোগী। নারীর এই অবৈধ আয় বা পতিতাবৃত্তির দালালি করে তারা বেশিরভাগ অর্থই লুটে নেয় এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়। সমাজে অশান্তি ছড়ায়।

এমনই এক জঘন্য বর্বরোচিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে গতকাল ১৩ নভেম্বর চাঁদপুর রিপোর্টের এক প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনের জানা গেছে, চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট ১৪ নং ওয়ার্ড শিলন্দীয়া গ্রামে ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাকিম মিজীর নেতৃত্বে চলছে জমজমাট দেহ ব্যবসা।

শিলন্দীয়া গ্রামে সাবেক এমপি মৃত হারুনুর রশিদ খানের বাউন্ডারি সীমানার পাশে পতিতার সরদার কাশেম মিজী দীর্ঘ এক বছর ধরে টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।মৈশাদী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার হাকিম মিজীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে দালাল কাশেম মিজীকে দিয়ে জমজমাট দেহ ব্যবসা করে আসছে। শুক্রবার বিকেলে বহিরাগত থেকে আসা বেশ কয়েকজন পতিতাদের ঘরে এনে দালাল কাশেম দেহ ব্যবসা চালিয়ে যায়। এ সময় অনৈতিক কার্যকলাপ করার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী দালাল কাশেম মিজীর বাড়িতে গিয়ে হানা দিয়ে পতিতা ও খদ্দরদের হাতেনাতে আটক করে। তাৎক্ষণিক দালাল কাশেমকে রক্ষা করতে ভিতরের কক্ষ থেকে বিব্রতকর অবস্থায় ইউপি মেম্বার হাকিম মিজী বেরিয়ে এসে পতিতা ও খদ্দেরদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বাবুরহাট দাসদী ওয়াই বাবুর দিঘির পাড়ে ইদ্দিসের ছেলে দালাল কাশেম মিজি তার এলাকায় পতিতা ব্যবসা করার সময় এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়ে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।

কাশেম এলাকার সম্পত্তি বিক্রি করে শিলন্দীয়া গ্রামে ফরজ চৌধুরীর চৌচালা টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই ব্যবসার টাকা ওয়ার্ড মেম্বার হাকিম মিজীসহ কাশেম ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। কাসেম মিজির ৩ ছেলে মোবারক, সোহাগ, মিরাজ সহ সপরিবারে এই পতিতা ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। কাসেমের দুই ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা দিয়ে পতিতাদের তার বাড়িতে আনা নেওয়ার কাজে থাকে। এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করলেও মেম্বার হাকিম তাদেরকে শেল্টার দেওয়ার কারণে তারা এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মেম্বার হাকিম গাজী জানান, কাশেম এক বছর পূর্বে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছে। তাকে ঘরটি আমি নিজেই ভাড়া নিয়ে দিয়েছি। তার ঘরে দেহ ব্যবসা করে তা সবাই জানে এবারের জন্য তাকে ক্ষমা করে দেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাশেম মিজি জানান, পেটের দায়ে এই সব কাজ করছি। যার প্রয়োজন হয় তাকেই এনে দিচ্ছি। তবে এবার আমাকে মাফ করে দেন আর কোনদিন এরকম কাজ করবো না।

এদিকে পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডে বাসা ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় এলাকা যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বহিরাগত এলাকা থেকে যুবক-যুবতীরা কাশেমের বাড়িতে গিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং এলাকা কলঙ্কমুক্ত হবে বলে এলাকাবাসী জানান।

আমরা মনে করি, যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত, এরা এদের মুখের কথায় কোনোদিন ভালো হবার নয়। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নিয়ে সমাজ থেকে এসব বিষবাষ্প উপড়ে ফেলতে হবে। না হলে আমাদের তরুণ-যুবকরা দিন দিন অন্যায়ের দিকে ধাবিত হবে।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, পাঠকের আস্থাই আমাদের মূলধন

আপডেট সময় : ১১:৫১ এএম

১৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৯ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শনিবার

শেয়ার করুন