হাজীগঞ্জে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফাঁদ ইউপি চেয়ারম্যান দুলালের

নিউজ ডেস্ক :

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে জনতার রোষানলে পড়া ৭ এনজিও কর্মীকে উদ্ধার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ইউনিয়নে ডিজিটাল হোল্ডিং প্লেট লাগানোর কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২শ’ টাকা করে উত্তোলনের নির্দেশ দেন ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জা দুলাল। তিনি বিষয়টি নিয়ে পুরো ইউনিয়নে মাইকিং করান।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৯০শ’ ১০ জন গ্রাহক থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে এনজিও কর্মী পরিচয় দেয়া ৭জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃত এনজিও কর্মীরা হলো মাঠকর্মী ইমতিয়াজ (২৪), সুজন (৩৮), মাসুম (৩৮), নুরুল ইসলাম (৩৮), নূরুল ইসমলাম (২৬) , কামরুজ্জামান (২৬) ও এনামুল (৩৪)। এনজিও কর্মী পরিচয় দিলেও তারা কোনো কাগজপত্র ও তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি এবং টাকা আদায়ের রসিদও ইউনিয়ন পরিষদের নামে ছাপানো।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলাকার উত্তেজিত লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভিড় করতে থাকে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশ উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান ও জড়িত মেম্বারদের কাছে এলাকার লোকজন ব্যাখ্যা চায়।

ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বরাবর একটি অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

চেয়ারম্যান ছাড়াও এ প্রতারণার সাথে ইউপি সদস্য মুকবুল বকাউল, আব্দুল হালিম, নুরুল ইসলাম ও রেহেনা বেগম জড়িত।

অভিযোগে বলা হয়, চলতি মাসের ১০ নভেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জলিলুর রহমান মির্জা দুলালের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ‘পৌর পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ নামের একটি এনজিওকে ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ এসেসমেন্টসহ বসত-বাড়ি, শিল্প বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের তালিকা (কর মূল্যায়ন) প্রণয়নের জন্যে হোন্ডিং নাম্বার কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুমতিপত্র দেয়া হয়। প্রতিটি হোল্ডিং প্লেটের জন্যে ২শ’ টাকা করে গ্রাহকদের থেকে আদায় করার অনুমতি দেয় চেয়ারম্যান। গত ১৫ তারিখ থেকে নয়টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু করে। ওই ২শ’ টাকার মধ্যে ১২০ টাকা এনজিওর ও ৮০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের টাকা সচিব বা পরিষদের ব্যাংক একাউন্টে জমা না রেখে ইউপি সদস্য মুকবুল বকাউলের কাছে জমা রাখে এনজিও কর্মীরা।

হাড়িয়াইন গ্রামের গ্রাহক জসিম উদ্দিন মজুমদার জানান, আমার কাছ থেকে ২শ’ টাকা আদায় করে এনজিও কর্মী, সাথে চৌকিদার ছিলো। আমি প্রথমে প্রতিবাদ করে বলি যে, আমার তো আগেই হোল্ডিং প্লেট আছে। তারা আমাকে বলে এটা নাকি ডিজিটাল। আর এটা না নিলে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সেবা পাওয়া যাবে না। তখন আমি টাকা দিতে রাজি হই।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জলিলুর রহমান মির্জা দুলাল বলেন, আমি তাদের অনুমতি দিয়েছি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিষদের সদস্যদের নিয়ে কোনো সভা হয়নি এবং লিখিত কোনো রেজুলেশন নেই।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ৭ জনকে উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, আমাদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। চেয়ারম্যান যদি ২০০ টাকা করে উত্তোলন করে, তা ভোক্তভুগীরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে এ সংবাদ লিখার পর রাত ১০টার পর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মির্জা ইউএনও’র সামনে হাজির হয়ে শনিবার থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া হবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে আটক ৭ জনকে ছাড়িয়ে নেন। (চাঁদপুর কণ্ঠ)

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

আপডেট সময় : ১১:২৯ এএম

২১ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, শনিবার

118 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়