chandpur report 1409

ফরিদগঞ্জের কালির বাজারে স্থাপনা ভেঙ্গে অবশেষে রাস্তা হচ্ছে

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙ্গে ফরিদগঞ্জের কালির বাজারের সরু রাস্তা চওড়া হচ্ছে। এজন্য বাজারের পশ্চিম অংশে নদীর পাড়ে লিজ নিয়ে স্থাপনা গড়ে তোলা কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলেছে। বাজার ব্যবসায়ী ও উপজেলা ভুমি অফিসের নিদের্শনা অনুযায়ী পশ্চিম বাজারের দোকানগুলোর ৬ফুট করে ভাঙ্গছে ব্যববসায়ী নিজেরাই।

তবে ওই সারির ১৪টি দোকানের মধ্যে ১৩টি দোকানের লিজ গ্রহিতারা সরকারি নিদের্শনা মেনে কাজ করলেও একটি দোকানের মালিক তা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে বাজারের ব্যবসায়ীরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালির বাজারটিতে প্রায় সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারের দুই পাশে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সহসভাপতি মোস্তফা বেপারীসহ লোকজন জানান, কালির বাজারে একসময় নৌকা দিয়ে ব্যবসায়ীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল আনা নেয়া করতো। বাজারের পশ্চিম পাশে^ নদীর উপর ঘাটলা ছিল। সেই ঘাট দিয়ে মালামাল উঠা নামা হতো। স্থানীয় লোকজন নামাজের ওযুসহ নানা কাজে তা ব্যবহার করতো।

কিন্তু বিগত বিএনপি জোট সরকারের সময় রাস্তার পাশের নদীর পাড় লিজ নিয়ে একের পর এক দোকান পাট গড়ে উঠে। ফলে দখল হয়ে যায় নদীর ঘাটলাসহ অধিকাংশ স্থান। বিগত কয়েক বছরে কালির বাজারে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নীকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিভাতে নদীর পানি ব্যবহার করতে পারেনি কেউ। ফলে প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের।

তাছাড়া বাজারের সড়কগুলো কালের বিবর্তনে সড়কগুলো প্রসস্থকরণ প্রয়োজন হলেও স্থান না থাকায় তা হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালির বাজারের উপর ৩৭৩ মিটার সড়কটি আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ৭৭লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ঠিকাদার টিপু সরকার জানান, ১৮ফুট চওড়া রাস্তা করার জন্য তিনি চুক্তিবদ্ধ হলেও বাজারের পশ্চিম অংশে নদীর পাড়ে ১৪ফুট ছিল। এই বিষয়টি বাজার ব্যবসায়ী কমিটি ও উপজেলা ভূমি অফিসকে জানালে তারা নদীর পাড়ে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬ফুট করে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়।
দোকান মালিকদের মধ্যে বেশিরভাগই ভাড়া দিয়ে চলছে ।

অভিযোগ রয়েছে, একজন লিজ নিয়ে আরেকজনের কাছে বিক্রি বা ভাড়া দিয়েছে লিজ গ্রহিতা। আবার কোন কোনটি বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। বর্তমানে ১৪টি দোকানের লিজ গ্রহিতারা হলো: মোস্তফা দেওয়ান, মোস্তফা পাটওয়ারী,ডাঃ করিম , আবুল কালাম ,লিটন দেওয়ান, এমদাদ ভূঁইয়া , খোরশেদ আলম , মোস্তফা মৃধা , আনোয়ার উল্যা , আব্দুল মজিদ , হারুন, সেকান্তর বেপারী ,সেতারা বুলবুল ও জাকির খান।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ের উপর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৪ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ১৩জন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৬ফুট ভেঙ্গে নিলেও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি জাকির খান নিজের প্রতিষ্ঠানটি ভাঙ্গেন নি।

ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবাসায়ীরা গত ১৪ ডিসেম্বর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে। তাদের অভিযোগ বাজারের ঘাটলার উপর ওই স্থাপনা থাকলেও তার উপর জাকির খান স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া সর্বশেষ রাস্তা বর্ধিত করণের কারণে তাকে ৬ফুট ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেও তা কাজে আসেনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২ বছর যাবত লিজ দাতা প্রতিষ্ঠান ওই ঘরগুলো লিজ নবায়ন করছেন না। ফলে এগুলো অবৈধ স্থাপনা। নদী রক্ষা, ঘাটলা উদ্ধার ও সড়ক প্রসস্থ করণের জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে।

এব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি জাকির খান জানান, তিনি বিগত বছর অগ্নীকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন যদি রাস্তার জন্য তার দোকানটি ভাঙ্গার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তা সরাবেন। তাই আপাতত তিনি স্থাপনা ভাঙ্গেন নি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) শারমিন আক্তার জানান, সড়ক প্রসস্থ করণের জন্য আমরা ব্যবসায়ীদের ৬ফুট করে ভুমি ছেড়ে দেয়ার বলে ও চিহ্নিত করে দিয়ে এসেছি। তারা সেমতে কাজ করছে। যারা তা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও শিউলী হরি এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ দিয়েছেন।

 

107 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন