‘বিশ্ব অর্থনীতির ৫০ ভাগ চলে আসবে এশিয়ায়’

বিশ্ব অর্থনীতি এখন ধীরে ধীরে এশিয়া নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে অর্থনীতির ৫০ ভাগ চলে আসবে এশিয়াতে। এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। পশ্চিমাদের দিকে না তাকিয়ে এখন আমাদের এশিয়ার দিকে তাকানোর সময় এসেছে। পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে আমাদের কূটনৈতিক সেক্টরকে অর্থনৈতিক ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইআরএফ) আয়োজিত জিও ইকোনমি নিয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় দেশের বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে এসব মন্তব্য উঠে আসে। আলোচনায় অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরেন ড. আব্দুর রাজ্জাক, আলী রিয়াজ ও জিল্লুর রহমান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের অনেক সময় রফতানি ও আমদানি ইস্যু নিয়ে এনবিআর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনায় এনে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে একটা প্লাটফর্মে এসে কাজ করতে হবে। যেখান থেকে আমদানি-রফতানির সব বিষয়ে উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমাদের আগামীর অর্থনৈতিক শক্তি হচ্ছে এশিয়া। এশিয়ার দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। এশিয়ার দেশগুলো যেভাবে এগুচ্ছে এক সময় বড় অবস্থানে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক সেক্টরগুলোকে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। এ সেক্টরকে ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের দিকে নজর দিতে হবে। কিভাবে ব্যবসা বাড়ানো যায়, এ নিয়ে ডিপ্লোম্যাটিক থেকে অর্থনৈতিক চিন্তা করতে হবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন বলেন, বিশ্ববাজারে হালাল পণ্যের চাহিদা আছে। দিন দিন চাহিদার আলোকে এসব বাজার আরও প্রসারিত হচ্ছে। বিশ্বের হালাল পণ্যের এসব বাজার দখলের সুযোগ আছে। পর্যাপ্ত হালাল পণ্য ও দক্ষ জনবল আমাদের আছে। এটা নিয়ে কাজ করলে হালাল পণ্যের বিশ্ববাজারে বড় অবদান রাখতে পারবো। অনেক দেশ হালাল সার্টিফিকেশন অথরিটি গঠন করে কাজ করছে, সেখানে আমাদের সুযোগ আরও বেশি রয়েছে। নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হালাল পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমরা সফল হবো।

সাবেক অ্যাম্বাসেডর হুমায়ন কবির বলেন, ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দেখতে হবে কিভাবে আমি নিচ্ছি, কিভাবে নেব এবং কিভাবে পরিশোধ করবো। অনেক দেশ ঋণ দেবে এটা আমাদের বসে ভাবতে হবে, দেখতে হবে ঋণের বিপরীতে এর পরিশোধ কিভাবে হবে। ইউএসএতে আমাদের আইটেম একটা (তৈরি পোশাক)। ২০১৩ সালে জিএসপি সাসপেন্ড হয়, ওই সময় ৩৩ মিলিয়ন ডলার রফতানি করি। একটু চেষ্টা করলে বা মনোযোগ দিলে (জিএসপি) ফেরত হতে পারে। ১ জানুয়ারি থেকে জিএসপি থেকে থাকবে না, (আমেরিকার) নতুন সরকার নতুন কাঠামো তৈরি করবে, সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এমসিসিআইএর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর বলেন, অর্থনীতিতে রক্ষণশীল মনোভাব তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির সমস্যা কোভিড-১৯ এর কারণে না, এটা অনেক আগে থেকেই। পরে কোভিড এসে আরও জটিল করেছে। আমেরিকা সব দেবে না। আমেরিকায় বাইডেন এলেই সব পরিবর্তন হবে না, আবার পরিবর্তনও কিছুটা হতে পারে। আমরা পশ্চিমার দিকে না তাকিয়ে এশিয়ার দিকে তাকাই। আগামী ২০৫০ সালে অর্ধেক অর্থনীতি এশিয়া নির্ভর হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সুন্দর ব্যালেন্স করে চলছে কোভিডের মধ্যে। আমাদের নিজস্ব প্রায়োরিটিকে গুরুত্ব দিতে হবে, কোয়ালিটি মানতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে যেখানে এনবিআর, অর্থ, বাণিজ্য, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রেড করতে হবে যেখানে সব এক সঙ্গে দেখতে হবে।

এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, আমাদের নিজেদের আগে ভালো করে বুঝতে হবে। আমরা পদ্মা সেতুর মতো কাজ করে অসাধ্যকে সাধ্য করেছি। জিও ইকোনমির লিঙ্কেজ আছে বা নেই সেগুলোর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারবো কি-না সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। এটা করতে আমাদের নিজেদের বোঝার ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্য মহলে আমাদের চলমান ভূমিকার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সমন্বিত আলোচনা হচ্ছে না, এফটিএ করবো কিনা, গেইন হবো কিনা এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলামের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভী।

25 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন