সাদা চুল কালো করার ঘরোয়া ৫ উপায়

একটা বয়সে এসে চুল সাদা হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের আগে চুল সাদা হলে গেলে, তখন এটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আসুন জেনে নেই চুল পাকার কারণ ও প্রতিকারের পাঁচটি উপায়।

চুল পাকার কারণ
চুলের রং নির্ভর করে ফলিকেলের মেলানিনের উপর। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুলের ফলিকেলসে মেলানিন তৈরির ক্ষমতা কমে আসে, তাই ধীরে ধীরে চুল সাদা কিংবা ধূসর হতে শুরু করে। কিন্তু অল্প বয়সে চুল পাকার ভিন্ন কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. জিন বা বংশগতির প্রভাব

২. স্ট্রেস

৩. ভিটামিন বি ১২ অপর্যাপ্ততা

৪. থাইরয়েড সমস্যা

৫. অতিরিক্ত স্মোকিং ইত্যাদি।

চুল যে কারণেই সাদা হোক না কেন, আমাদের চেষ্টা থাকে তা কীভাবে কালো করা যায়। আর সাদা চুল ঘরোয়া কিছু উপায়ে কালো করা সম্ভব। এমন কিছু জাদুকরী ঘরোয়া উপায় নিয়েই আজকের ফিচার। চলুন তাহলে দেখি নেই, কার্যকরী কিছু হেয়ার প্যাক, যা আপনার পাকা চুলকে কালো করতে সাহায্য করবে।

১। আমলকী এবং মেথি প্যাক
আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন সি। আর মেথি গুড়াতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং পুষ্টি। মেথি গুঁড়া এবং ভিটামিন-সি একসাথে মিলে চুল পাকা রোধ করে। এছাড়া এই প্যাকটি আপনার চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করবে এবং চুলকে করবে হেলদি।

যা যা লাগবে:
৬-৭ টুকরো আমলকী
১ টেবিল চামচ মেথি
৩ টেবিল চামচ তেল ( অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেল)

যেভাবে তৈরি করবেন
চুলায় একটি পাত্রে তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে এতে আমলকী দিয়ে নাড়ুন। কিছুক্ষণ পর এতে মেথি গুঁড়া দিয়ে দিন। সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে ফেলুন। এবার একটি বোতল বা জারে তেলটি সংরক্ষণ করুন এবং ঠাণ্ডা হলে চুলে ব্যবহার করুন। চেষ্টা করবেন, সারারাত প্যাকটি মাথায় রাখতে। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

২। আলুর খোসা
সাদা চুল কালো করতে আলু বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। আলুর খোসাগুলোতে স্টার্চ থাকে, যা চুলে রঙিন রঞ্জক ধরে রাখে এবং চুলকে সাদা হওয়া হতে রোধ করে।

যা যা লাগবে:
৫-৬টা আলুর খোসা
দুই কাপ পানি
যেভাবে তৈরি করবেন:
চুলায় একটি পাত্রে দুই কাপ পানিতে আলুর খোসাগুলো দিয়ে দিন। এবার পানি না ফুটে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। জ্বাল হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন।

চুল শ্যাম্পু করার পর আলুর খোসার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আলুর খোসা পানি ব্যবহারের পর আর পানি ব্যবহার করবেন না। এটি সপ্তাহে দুইবার চুলে ব্যবহার করুন।

৩। নারকেল তেল এবং লেবুর রস
চুলের যত্নে নারকেল তেলের জুড়ি নেই। এটি চুলের ময়েশ্চার ধরে রাখে, চুলের গ্রোথ বৃদ্ধি করে এবং চুলকে দেয় তার দরকারি পুষ্টি। আর লেবুতে আছে ভিটামিন-সি। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পাকা কমে যাবে।

যা যা লাগবে:
তিন চা চামচ লেবুর রস
পরিমাণ মত নারকেল তেল
যেভাবে তৈরি করবেন
নারকেল তেলের সাথে তিন-চার চামচ (চুল অনুযায়ী পরিমাণ নিবেন) লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মাথার তালুসহ সম্পূর্ণ চুলে ব্যবহার করুন। এটি চুলে এক বা দুই ঘণ্টা রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

৪। মেহেদি এবং কফির পেস্ট
মেহেদি চুলের জন্য অনেক ভালো। এটি প্রাকৃতিকভাবে চুলকে লাল করে। অপরদিকে, কফিতে রয়েছে ক্যাফিনের মত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চুল মজবুত এবং শাইনি করে। এই প্যাকটি চুলের গোড়া মজবুত করতেও বেশ কার্যকরী।

যা যা লাগবে:
মেহেদির পেস্ট
১ টেবিল চামচ কফি
যেভাবে তৈরি করবেন:
ফুটন্ত পানিতে এক টেবিল চামচ কফির গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এবার জ্বাল হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। হেনা পাউডার অথবা পেস্টের সাথে কফি মেশান। প্যাকটি ঘণ্টাখানেক রেখে দিন, এরপর চুলে ব্যবহার করুন। এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। আপনি চাইলে এই মিশ্রণে নারকেল অথবা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

৫। কারিপাতা
সবসময় রান্নার কাজে কারিপাতা ব্যবহার করলেও চুলের যত্নে এর ব্যবহার সম্পর্কে অনেকেই জানিনা। এতে আছে ফলিক এসিড, বেটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, আয়রন সহ আরও অনেক ভিটামিন, যা চুলকে সাদা হওয়া থেকে দূরে রাখে এবং চুল কালো করতে সাহায্য করে। নারকেল তেলের সাথে মিশে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

যা যা লাগবে:
এক মুঠো কারিপাতা
১ টেবিল চামচ নারকেল তেল

যেভাবে তৈরি করবেন:
এক টেবিল চামচ নারকেল তেলের মধ্যে একমুঠো কারিপাতা দিয়ে জ্বাল দিন। জ্বাল হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এই তেলটি চুলে ম্যাসেজ করুন। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করুন।

সারাদেশে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কুরিয়ার যোগে অর্ডার অনুযায়ী ঔষধ পাঠানো হয়। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়