চাঁদপুরের মতলব পৌর ভবন স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব পৌর ভবন স্থানান্তর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক। কেউ বলছেন রক্ত থাকতে হতে দেওয়া হবে না, আবার কেউ এর স্বপক্ষে মন্তব্য করছেন। ভবন স্থানান্তর নিয়ে কি জানা যাচ্ছে?

জানা যায়, ২২ ইউনিয়নের মতলব থানা কে দুটি উপজেলায় বিভক্ত করার আগে মতলবের সাবেক ১৩ নং ও ১৪ নং ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় মতলব পৌরসভা। ৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত মতলব পৌরসভা শুরুতে “গ” শ্রেণীভুক্ত হলেও ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এটি ” খ” শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৮ মে প্রথম শ্রেণি বা “ক” শ্রেণিভূক্ত হয় মতলব পৌরসভা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে নাগরিক সেবা ও পৌরসভার কর্মযজ্ঞ গতিশীল রাখতে প্রয়োজন হয় নতুন ভবন নির্মানের। বর্তমান পৌর ভবন একসময়ের সাবেক ১৩ নং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১৩ শতাংশ ভূমির উপর থাকা পুরাতন এই ভবনে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে এর বিভিন্ন দপ্তরের স্থান ও নাগরিক সেবা সঠিকভাবে প্রদান করা যাচ্ছে না। আর এ কারণেই নতুন ভবন একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুসারে প্রথম শ্রেণীর পৌরভবন নির্মাণে বরাদ্দ পেতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভূমির প্রয়োজন। এদিকে মতলব পৌরসভা গঠনে সাবেক ১৪ নং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থানে পর্যাপ্ত জমি থাকলেও ২০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

মতলব পৌরসভার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মতলব পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর এর নতুন ভবন নির্মাণে জমি ক্রয় বা অধিগ্রহণ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মত পৌরসভার নতুন ভবন করার জন্য সম্ভাব্য স্থান, জমির মূল্য এবং অধিগ্রহণ করা হলে এর ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জমি ক্রয়ের অনুমতি নিয়ে মতলব পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চরমুকুন্দি মৌজায় ৬০ শতাংশ জমি পৌর ভবনের জন্য ক্রয় করা হয়।

মতলব পৌর সভায় বসবাসরত একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পৌর ভবন করার জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে, এই তথ্য সকলের মুখে মুখে প্রচলন থাকলেও জায়গাটি কোথায় তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। গত ৬ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘পৌরভবনের জন্য নির্ধারিত স্থান’ লিখা একটি সাইনবোর্ড এর পাশে পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন লিটন দাঁড়িয়ে রয়েছেন এমন ছবি পোস্ট করা হয়। আর এই পোস্টকে ঘিরেই শুরু হয় ভবন স্থানান্তরের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য। কেউ বলছেন পৌর মেয়র নিজের ব্যক্তি স্বার্থে এই ভবনটি স্থানান্তর করতে চাচ্ছেন। আবার কেউ বলছেন নাগরিক সেবা বৃদ্ধির জন্য ছোট জায়গা থেকে বড় পরিসরে যাওয়া প্রয়োজন।

এই নিয়ে মেয়র আওলাদ হোসেন লিটন বলেন প্রথম শ্রেণির পৌর ভবন নির্মাণে বরাদ্দ পেতে ৬০ শতাংশ জমির প্রয়োজন। যথাযথ নিয়ম মেনে মতলব পৌর ভবনের জন্য জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। এখানে কারো ব্যক্তি স্বার্থে দেখা হচ্ছেনা, নাগরিক সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়