chandpur sadar hospital

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ভিতরে-বাইরে অবাধে ধূমপান

মোঃ সাদ্দাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

রোগীর সামনেই অবাধে ধূমপান চলছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে। এর ফলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। আইন অনুসারে হাসপাতালে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে দিনের পর দিন এমনটি চলে আসছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হাসপাতালের ভেতরে পুরোপুরি ধূমপান বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলছেন, ধূমপান না করতে হাসপাতাল এলাকায় বিভিন্ন সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। এ বিষয়ে সকলকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।

সরেজমিনে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতাল এলাকার প্রধান ফটক থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে ধূমপান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ও গাড়ি পার্কিং এলাকায় দেদারসে ধূমপান করে যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

অন্যদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ড কিংবা ওয়ার্ডের সামনে ও অভ্যান্তরেই যে তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করা হয় তার চিত্র দেয়ালের পানের পিক দেখলেই বুঝা যায়। শুধু পানের পিক-ই নয়, পড়ে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের খালি প্যাকেটও বলে দেয় হাসপাতালের অভ্যন্তরেই চলে তামাক সেবন।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এ অনুসারে হাসপাতালসহ সকল পাবলিক প্লেসসমূহে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসে এবং বেশিরভাগই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

সচেতন মহল মনে করেন, আয়তন অনুসারে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সতর্কতামূলক নোটিশের সংখ্যা অপ্রতুল। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই সচেষ্ট হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হাবিব-উল-করিম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি স্পটে ধূমপান নিষিদ্ধসহ সচেতনমূলক একাধিক সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। এরপরও যদি কেউ ধূমপান করে তাহলে আমি বলবো তাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমরা চাইলেও কাউকে জরিমানা করতে পারবো না। এটা করার একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি চাইলে যে কোনো মুহূর্তে মোবাইলকোট পরিচালনা করে এসব বন্ধ ও জরিমানা করতে পারেন।

তিনি বলেন, যারা এখানে ধূমপান করেন তাদের সবাই কোনো না কোনো রোগীর স্বজন এবং রোগীবহনকারী গাড়ির চালক। তাদেরও এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত- একজন রোগীর সামনে কিংবা তার পাশে যদি ধূমপান করা হয়, বেশিরভাগ ক্ষতির অংশটা হবে রোগীর। তাই এ বিষয়ে সকলকেই অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন