ফরিদগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের জ্বালায় অতিষ্ট এলাকাবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
ফরিদগঞ্জে কিশোর গ্যাং শিমুল ও তার সাংগোপাঙ্গোদের জ্বালায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এসব গ্যাং কোথায় কার পারিবারিক ঝামেলা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে এক পক্ষের সাথে আতাত, মালবাহী গাড়ী দিয়ে কে কোথায় মালামাল বহন কিভাবে করে, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠে। তাদের এ অত্যাচারে ইতিমধ্যে কয়েকজন ভূক্তভোগী মামলা দায়ের করেছে বলে জানা যায়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার ৫ ও ৬ নং গুপ্টির অন্তর্গত আষ্টা, সাইসাঙ্গা, ষোলদানা এলাকায় উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাং গত এক বছর ধরে নানা কাজে উঠেপড়ে লেগেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাইসাঙ্গা মিজি বাড়ীর হারুনের ছেলে শিমুল মিজি (১৭) ও তাদের বড় ভাই হিসাবে পরিচিত আষ্টা দেওয়ান গাজী বাড়ীর সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (২২)।

খোজ নিয়ে জানা যায়, কিশোর গ্যাং শিমুল ও তার সহকর্মীরা সাইসাঙ্গা নুরু মিজির ছোট ছেলে শফিক পালিয়ে বিয়ে করায় বড় ভাই সাইফুলকে এলাকা থেকে উঠিয়ে নিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তাছাড়া মুন্সীর হাটের সুমন বিক্সফিল্ড ষোলদানা এলাকার পুকুর থেকে ভ্যাকু দিয়ে ট্রাক যোগে মাটি নেওয়ার সময় বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করেছে। বর্তমানে তারা কিশোর গ্যাং এর অত্যাচারে সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও আষ্টা বাজারের মিজানের দোকানে চুরি হওয়ার পেছনে কিশোর গ্যাংদের বড় ভাই সোহেল সরাসরি জড়িত। এ কথা জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দোকানের মালিক মিজান ও এলাকার গন্যমান্যরা লাঞ্চিত হওয়ার মত ঘটনা ঘটে।

তাদের অত্যাচারের কিছু বর্ণনা তুলে ধরে এলাকার মীর মোশারফ, ডা. মাহাবুব, মাসুদ, বিল্লাল ও বাবলু মিয়া বলেন, গত এক বছর ধরে শিমুল ও সোহেলসহ তাদের সহপাঠিদের গতিবিধি বেপরোওয়া হয়ে উঠেছে। ময়-মুরব্বিদের ডাক দোহাইর কর্ণপাত না করে একের পর এক নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরে এনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে তারা আরো বেপরোওয়া হয়ে উঠবে।

ভূক্তোভোগী নুরু মিয়া বলেন, আমার ছোট ছেলে পালিয়ে বিয়ে করেছে তাতে আমরা নিজেরাই তার কর্মকান্ডে অসন্তুষ্ট, এর মাঝে শিমুল এসে আমাকে ও বড় ছেলে হুমর্কি দেয় ২০ হাজার টাকা না দিলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবো।

আরেক ভূক্তোভোগী বিক্সফিল্ড মালিক সুমন মিয়া বলেন, আমি বৈধ যানবাহন দিয়ে মাটি ক্রয় করে বহন করছি। সেখানে শিমুলসহ তার লোকজন কাজের গোড়ায় গিয়ে ভ্যাকু বন্ধ করে চাঁদা দাবি করছে। আমি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোর শিমুল ও সোহেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের এলাকা বা ফোনে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আ. গনি পাটোওয়ারী বাবুল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কাছে কোন অভিযোগ দিলে আমি অবস্যই প্রশাসনের বরাবর পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।

শেয়ার করুন