chandpur report 1697

কচুয়ায় আলোচিত গৃহবধূ লাভলী হত্যার রহস্য উদঘাটন

মোঃ সাদ্দাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : কচুয়া উপজেলার বাচাঁইয়া ব্রিকফিল্ড এলাকার দক্ষিন বিলের ফসলি জমিতে উদ্ধার হওয়ায় গৃহবধু লাভলী আক্তারের মৃত্যুর রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ।

লাভলী আক্তারের স্বামী শাহাদাত হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তারকে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ^াসরোধ করে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় লাভলী আক্তারের মা খোরশেদা বেগম বাদী হয়ে মেয়ে হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে সোমবার রাতে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-১৬,তারিখ-১৫.০২.২১ খ্রি:। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ শাহাদাত হোসেনকে মঙ্গলবার জেলহাজতে প্রেরণ করে এবং বিজ্ঞ আদালতে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দুই হাতে গলা চেপে শ^াসরোধ করে হত্যা করে বলে জবানবন্দি দেন।

উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের এলাকাবাসী জানান, লাভলী আক্তার খুবই শান্ত প্রকৃতির মেয়ে ছিল। তিন বছর পূর্বে একই উপজেলার মনপুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহাদাতের সাথে তার পছন্দ করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা উভয়ে ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করত।

কিন্তু লাভলী আক্তারকে বিয়ের পূর্বে শাহাদাত হোসেন বদরপুর এলাকার মাকসুদা আক্তার নামের একজনকে বিয়ে করে ১০বছর যাবৎ সংসার করছেন এবং ওই গৃহে তার মিনহাজ হোসেন (৮) ও ৭মাস বয়সের মরিয়ম নামের দুটি সন্তান রয়েছে। শাহাদাত হোসেনের আগের বিয়ের বিষয়টি লাভলী ও তার পরিবারের জানা ছিল না বলে জানান। শাহাদাত হোসেনের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিয়ের পর প্রবাসে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর লাভলীর সাথে ফোনে পরিচয় হয় এবং গোপনে তিন বছর পূর্বে বিয়ে করে ঢাকায় থাকতেন। কিন্তু বিষয়টি আমি ও আমার পরিবার জানতাম না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান,লাভলীর চাচা বোরহান উদ্দিন মিয়াজী,ইসমাইল মিয়াজী,ভাই সাইফুল ইসলামসহ এলাকাবাসী লাভলী হত্যাকারী ঘাতক শাহাদাত হোসেনের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লাভলী আক্তার তার স্বামী শাহাদাত হোসেন পূর্বে বিয়ে করেছেন এবং ওখানে দুটি সন্তান রয়েছে এখবর জানতে পারায় তাদের মধ্যে কলহ ও ঝগড়া হতো। সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে লাভলী আক্তার তার নিজ বাড়ি সহদেবপুরে আসতে চাইলে শাহাদাত হোসেনও তার পিছু নিয়ে বাচাঁইয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় আসে।

এসময় তাদের উভয়ের মধ্যে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে লাভলী আক্তার উল্লেখিত ফসলি জমির মাঠ দিয়ে বাড়িতে যাওযার চেষ্টা করলে শাহাদাত হোসেন লাভলীর গলা চেপে শ^াসরোধ করে হত্যা করে ওই রাতে ঢাকায় চলে যান। পরদিন সরকালে পূনরায় তার শ^শুর বাড়িতে এসে স্ত্রীকে খোজতে থাকে। কিন্তু তার নাটকীয়তা পুলিশ বুঝতে পেরে সন্দেহভাজন অবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার দায় স্বীকার করে।

কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করি এবং সন্দেহভাজন তার স্বামী শাহাদাত হোসেনকে আটক করলে প্রাথমিক ভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে সেখানেও শাহাদাত হোসেন তার স্ত্রী লাভলী আক্তারকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে বলে জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে শাহাদাত হোসেন চাঁদপুর জেলহাজতে রয়েছে।

35 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন