mustak

কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে আর্টিকেল নাইনটিনের তীব্র নিন্দা ও তদন্ত দাবি

কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ডিএসএ মামলায় সারাদেশে বন্দীদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে আর্টিকেল নাইনটিন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : 

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে আর্টিকেল নাইনটিন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি এই মৃত্যুর তদন্ত দাবি করছে। অন্যদিকে কার্টুনিষ্ট আহমেদ কবির কিশোরসহ দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী রুহুল আমিন গাজি, আবুল আসাদ, সাদাত হেসপন, নাজমুল সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা, মিথুন দেব, সংকর দেবনাথ, অনিল ভৌমিক, শাহদাত হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান দিদারী, মিনহাজ ইসলাম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, পিন্টু কুমার, নাঈম বিশ্বাস, মিঠুন মন্ডল, মামুন শিকদার, আকাশ দাস, এলিয় সরকার, হেলাল কাজিসহ সকলের মুক্তি দাবি করছে।

আর্টিকেল নাইনটিন, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মরিয়ম শেলী প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুশতাক আহমেদের পিতা আবদুর রাজ্জাক জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে টেলিফোনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুশতাকের মৃত্যুর খবর তাঁদের জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, “২৩ ফেব্রুয়ারি মুশতাককে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন আদালতে আমার ভাতিজা মুশতাকের সঙ্গে কথা বলেছিলো। সে সময়ে সে সুস্থ ছিল।”

কারা কর্তৃপক বলছে, মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে জেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষ-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ ও করোনাভাইরাস মহামারি সম্পর্কে গুজব ছাড়ানো ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে ২০২০ সালে ৬ মে লেখক মুশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। সেই সময় থেকে লেখক মুশতাক আহমেদ কারাবন্দী ছিলেন।

অন্যদিকে কার্টুনিষ্ট কিশোরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কারাবন্দী কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তাঁর ডায়াবেটিস উচ্চ মাত্রায় থাকায় তিনি এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাঁর বাম কানে ইনফেকশন, এখন আর বাম কানে শোনেন না তিনি। তাঁর বাম পায়েও ইনফেকশন আছে। বেশি দূর হাঁটতে হলে তাকে অন্যের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। কিশোরের উপর নির্যাতন হয়েছে বলে কিশোর তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন।

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, “নিপীড়নমূলক আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক ও কারাবন্দী অবস্থায় মৃত লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর তদন্ত দাবি করছি। পাশাপাশি অসুস্থ কার্টুনিষ্ট আহমেদ কবির কিশোরের নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার জোড় দাবি জানাচ্ছি।“

ফারুখ ফয়সল আরও বলেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের বাক্ স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যামের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ে সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক এই কালো আইনের যথেচ্ছা ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। এই আইনটি দেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রক্রিয়ার বড় অংশ হিসাবে আমাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। আর্টিকেল নাইনটিন শুরু থেকেই এই আইনটি পরিবর্তনে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছে। তবে পরিবর্তনের কোন উদ্যোগ এখনও সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। ফলে, আইনটি পরিবর্তনে এখনই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন, বার কাউন্সিলসহ মানবাধিকার সংগঠণগুলোর সম্মিলিত উদোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করে আর্টিকেল নাইনটিন।

উল্লেখ্য, আর্টিকেল নাইনটিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারসংস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এর কার্যক্রম শুরু করে।

13 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন