editorial

তরুণীর ভবিষ্যৎ কী হবে?

সম্পাদকীয়…

লজ্জা মানুষের শোভা, মনুষ্যত্বের অহঙ্কার, মানবতার আবরণ। কিন্তু লজ্জা যদি হারিয়ে যায়, লজ্জার যখন মৃত্যু হয় তখন তার মধ্যে বিবেক লোপ পায়। আর বিবেক লোপ পেলে তার জীবন অন্ধ গলির দিকে চলমান থাকে। অন্ধ গলিতে চলতে চলতে সে তার জীবনে কী করছে সেটা সে মোটেও বুঝতে পারে না। যেমন পারেনি দুই সন্তানের জনক!

চাঁদপুর রিপোর্টে ‘নবীগঞ্জে ২সন্তানের জনকের ধর্ষণে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত¡া তরুণী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। নির্লজ্জ বলেই স্ত্রী সন্তান থাকতেও প্রতিবেশী তরুণীর দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, ‘নবীগঞ্জে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে। হত্যার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের কারণে ওই তরুণী এখন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত¡া হয়ে পড়েছেন।’ এখন প্রশ্ন হলো-ঐ তরুণীর ভবিষ্যৎ কী হবে? তার জীবনের সুন্দর সমাধান কী হতে পারে? একজন মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়, সুখে থাকতে চায়, প্রতিবেশীর সাথে মিলেমিশে ও মহব্বতে বেঁচে থেকে জীবনধারণ করতে চায়; কিন্তু ঐ তরুণী এখন কীভাবে বেঁচে থাকবে?

কথা হলো, কীভাবে সমাধান হবে ঐ তরুণীর জীবনের? যেহেতু ঐ কথিত ব্যক্তি জসিম মিয়া (৩৮) একজন দুই সন্তানের জনক। যেহেতু তরুণী বিচার চেয়েছে ও স্ত্রীর মর্যাদার পাশাপাশি ও অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চেয়েছে; সেহেতু আইন কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করবে? যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে তার দুই সন্তান বিষয়টি কীভাবে মেনে নিবে? তাদের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি ও সম্মানটা কোথায় থাকবে? কিম্বা তার স্ত্রীর বিষয়টি মেনে নেবে কীভাবে? এর সাথে জড়িত আত্মীয়স্বজনদেরই বা বিষয়টি নিয়ে ভাবনা কী হতে পারে?

আমরা মনে করি, লজ্জাজনক একটি ঘটনা যখন ঘটে যায়, তখন এর প্রভাব আত্মীয়স্বজনসহ বন্ধুমহলেও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্মান সেখানে ধুলিসাৎ হয়ে যায়। সমাজের কাছে আত্মীয়স্বজনরা লোক দেখাতে পারে না-যেহেতু বিষয়টি লজ্জাস্কর ও ঘৃণিত!

যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই সন্তানের জনক, সেহেতু তার স্ত্রী সন্তানদের সম্মানের কথা চিন্তা করা উচিত ছিলো। তাছাড়া জোরপূর্বক অসহায়তার সুযোগে একটি তরুণীকে ধর্ষণ করা ব্যভিচারের নামান্তর। সামাজিক দৃষ্টিতে কেউ এটা মেনে নিতে পারে না। জানাজানি হওয়ায় চারিদিকে ‘ছি! ছি!’ শব্দটি ছড়িয়ে পড়ে। আর এই শব্দটি স্ত্রী সন্তানের কানে পৌঁছালে তারাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না।

সেই অসহায় তরুণী স্ত্রীর মর্যাদা চেয়েছে ও সন্তানের স্বীকৃতি চেয়েছে। তবে দুই সন্তানের জনক যখন নির্লজ্জ (!); তখন সুন্দর সমাধান কীভাবে হতে পারে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষার। আমরা আইনত সুষ্ঠু সমাধানের প্রত্যাশা করছি।

শেয়ার করুন