chandpur report 1698

দুই ভাইয়ের ৬০ বছরের বিরোধ নিস্পত্তি করলেন হাইমচর থানা ওসি

সাহেদ হোসেন দিপু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, হাইমচর : হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিন ইউনিয়নের গন্ডামারা গ্রামের দুই চাচাতো ভাইয়ের দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে চলে আসা সৃষ্ট সম্পত্তিগত মামলা হামলা বিরোধের নিস্পত্তি করে দিলেন হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

গন্ডামারা গ্রামের মৃত ইউনুছ মজুমদারের ছেলে মনির হোসেন গং ও আঃ রফিক মজুমদারের ছেলে সহিদ উল্লাহ গং এর মধ্যে জমিন সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে মামলা হামলা হয়। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে রায়পুর থানা, হাইমচর থানা, চাঁদপুর কোর্ট, রায়পুর কোর্টে একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। এমনকি এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার গন একাধিকবার শালিশ বসলেও তা সমাধান করতে ব্যার্থ হয়। ৬০ বছর ধরে উভয় পক্ষ মামলার ঘানি টানতে নিঃস্ব প্রায়।

অবশেষে হাইমচর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লাহ থানায় যোগদানের পর বিষয়টি নিজ দ্বায়িত্বে সমাধানের লক্ষ্যে হাইমচর থানা এ এস আই মো. হেলাল উদ্দিনের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকেন।

১৭ ফেব্রæয়ারি বুধবার বিকেল ৪টায় রায়পুর, বিশকাঠালি ও হাইমচরের সুশিল সমাজ বিশিষ্ট মুরব্বীদেরকে নিয়ে শালিশ বৈঠকে বসেন। উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের জবানবন্দী শুনে উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দেন। হাইমচর থানার ওসির মধ্যস্থতায় নিস্পত্তির আলো দেখলো উভয় পক্ষ। ওসির রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে সকল প্রকার মামলা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে একে অপরের জমিন বুঝিয়ে দিবেন বলেও অঙ্গিকার করেন।

বাদি মনির হোসেন ও বিবাদি সহিদউল্লাহ জানান, দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে আমরা এ মামলা চালাতে গিয়ে উভয় পক্ষ্যে জমির তিন গুন টাকা ব্যায় করেছি। কিন্তু কোন ফল পাইনি। এর মধ্যে কোন বা প্রতিনিধি এ বিরোধের সঠিক সমাধানে এগিয়ে না আসায় আমরা উভয় পক্ষ ব্যাপক ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়েছি। অবশেষে হাইমচর থানার ওসির মাধ্যমে সামাধান হওয়ায় আমরা উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট।

চরআবাবিল এলাকার শালিশ, খোরশেদ আলম,বিশকাঠালি মেম্বার শফিকুর রহমান, ফরিগঞ্জ এলাকার আ. রহমান. হাইমচরের শাহআলম পাটওয়ারীর সাথে আলাপ কালে জানাযায়, দুই চাচাতো ভাইয়ের সম্পত্তিগত বিরোধ দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ যুগ ধরে চলে আসছিল। একাধিক শালিশ বসলেও তা সমাধান করতে পারেনি। এরই মধ্যে অনেক শালিশ মারা যান। জায়গাটি হাইমচর ও রায়পুর বর্ডারের ভিতরে হওয়ায় বিষয়টি অনেকদিন যাবত মামলা হামলায় চলমান ছিল। অবশেষে হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও রায়পুরের শালিশদের উপস্থিতিতে এ বিরোধের নিস্পত্তি হয়েছে। দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় উভয় পক্ষ হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লাহ জানান, আমি সবসময় চেষ্টা করি সম্পত্তিগত সমস্যা গুলো থানায় বসে শালিশদের মাধ্যমে সমাধান করতে। মামলা হামলায় উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়। জেলহাজতে পাঠালেই জায়গা জমিনের নিস্পত্তি হয়না। মন থেকে চেষ্টা করলেই উভয় পক্ষের মধ্যের চলমান বিরোধ নিস্পত্তি করা যায় এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বিবাদি সহিদ উল্লাহ বাদি মনির হোসেনকে মাপ-ঝোপ করে পূর্বের দেয়া .২২০০ শতাংশ জমিন বুঝিয়ে দিবে। উক্ত ব্যাপারটি উভয় পক্ষ আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি করবে। যে সকল বিএস খতিয়ানে সহিদ উল্লাহর নামে বেশি রেকর্ড হয়েছে তাহা আদালতে মাধ্যমে মামলা সমাধান করা হবে। উভয় পক্ষ এতে একমত পোষন করেছেন। দীর্ঘ দিনের সমস্যাটি নিস্পত্তি করতে পেরে নিজের কাছেও ভাল লাগছে।

শেয়ার করুন