dreser report

ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজিং চলছেই : নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

 

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে সরকারি নদী, খাল, কৃষি জমি, বদ্ধজলাশয়, পুকুরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা খামখেয়ালীপনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায়, হুমকির মুখে রয়েছে সরকারের শত শত কোটি টাকার রাস্তা, বসত বাড়ি ও ফসলী জমি। প্রশাসনকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেই চলছে।

সরেজমিনে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া মিনি হাওড়ের পাশে মাছের ঘেরে ড্রেজার চালাচ্ছে স্থানীয় সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও ঝিলের ইজাড়াদার জাহাঙ্গীর, আবদুস সালাম। গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সিংহেরচর এলাকায় জনৈক আবদুল মমিন সাংবাদিক পরিচয়ে ড্রেজিং চালাচ্ছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ ড্রেজিংয় করে চলছে। উপজেলার শোভান এলাকার লিটন নামের এক ব্যাক্তি তার বাড়ির পাশের্^ কৃষি জমিতে ড্রেজিং করছে।

সে উপজেলার সর্বত্র বেপরোয়া ড্রেজিং চালালেও প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায়ও ড্রেজিং করেছে লিটন নামের এ ব্যাক্তি।

১২ নং চরদুখিয়া ইউনিয়নের পুটিয়ারচরে জৈনক আল-আমিন নামক এক ব্যক্তি একাধিক ড্রেজার চালাচ্ছে ও ১১ নং চরদুখিয়া ইউনিয়নের পূর্ব পোঁয়া এলাকায় এরশাদ নামক ব্যক্তি ও একই ইউনিয়নের সন্তোষপুর এলাকায় জয়নাল চৌকিদার ড্রেজিং চালিয়ে আসছে।

এদিকে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব, সুবিদপুর পশ্চিম, গুপ্টি পূর্ব, গুপ্টি পশ্চিম, রুপসা উত্তর ও চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও নেতার অনুসারী পরিচয়ে ড্রেজিং করে চলছে। এ সকল ড্রেজার সন্ত্রাসের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে প্রশাসনকে নিয়ে ম্যানেজ মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম মেম্বার বলেন, আমি এলাকার জনগণের জন্য ড্রেজিং করছি, নিজের জন্য নয়, তাতে দোষের কি?

এ বিষয়ে মমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পারছি ড্রেজিং করতে। কারো কিছু করার থাকলে করতে পারেন। আমি সব ম্যানেজ করেই ড্রেজিং চালাচ্ছি।

অন্যদিকে অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে কঠিন আইনের বিধান থাকলেও মানছে না কেউই এবং আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতাই কি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বৈধতার কারণ? এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল।

বিভিন্ন এলাকার সাধারণ জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের জোগসাজশে অবৈধ ড্রেজিং করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। প্রশাসন এভাবে নীরব থেকে কি অবৈধ ড্রেজিংকে বৈধতা দিচ্ছে? উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যবস্থা নিবেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন, সংশ্লিষ্ট উইনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজনকে আর্থিক সুবিধা দিয়েই চলছে ড্রেজিং।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করলেই আমরা সাথে সাথে তা বন্ধ কারতে পদক্ষেপ নিচ্ছি। তারপরও যদি কোনো স্থানে ড্রেজিং করে থাকে তা হলে আমরা খোঁজ নিয়ে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও কেউ যদি ড্রেজার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

13 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন