chandpur report 1675

ফরিদগঞ্জ বাজারে মাত্রাতিরিক্ত যানজটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর বাজারে যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পথচারী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। এ মাত্রাতিরিক্ত যানজট হচ্ছে, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, ফুটপাত হকারদের দখল। কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে দিন দিন যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ।

বাসস্ট্যান্ড থেকে লিংক রোড দিয়ে আম্বিয়া- ইউনুছ ফাউন্ডেশন হয়ে বাজারের পূর্ব মাথা পর্যন্ত। চান্দ্রামুখী কেরোয়া ব্রিজ পর্যন্ত অংশের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অটোরিকশা ও কেরোয়া মোড়ের দু’টি দোকানকে বিশেষভাবে দায়ী করছে পথচারীরা। উপজেলা সদরে অবস্থিত ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, এআর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রি কলেজ, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা, বালিকা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর সরকারি বালক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও মহিলা মাদ্রাসাসহ উপজেলা প্রশাসনের ২২/২৩টি দপ্তর।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও অফিস কাজে আসা শত শত লোকজন প্রতিদিন সময়ের অপচয়সহ ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বিশ^ব্যাংকের গবেষণামূলক তথ্য সূত্রে প্রকাশ, যানজটের কারণে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। বছরে তাতে আর্থিক ক্ষতি হয়, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার।

ব্যাপক হারে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌরসভার অনুমতি নিয়ে কিছু অটোবাইক/রিক্সা রাস্তায় চলাচল করলেও বেশীর ভাগেরই গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স নেই। শত শত ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলাচলে জানযটের মাত্রা আশংকাহারে বেড়ে চলছে।

নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের অভাব রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের। অপরদিকে ফুটপাত দখল করে যানবাহন রাখা ও হকারদের অস্থায়ী দোকান বসানোর কারণে পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছে না।

যাত্রী ও পথচারীরা জানান, সড়কের ওপর যত্রতত্র পার্কিং, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান স্থাপন, সড়কে ও ফুটপাতে মালামাল রাখায় যানজট সৃষ্টির মূল কারণ। একে তো সরু রাস্তা তারউপর যে যার মতো করে কার্গো, ট্রাক, পিকাপ এবং ট্রলি থেকে মালামাল লোড-আনলোড করছে। ফলে প্রতিনিয়ত প্রায় অর্ধকিলো মিটার বাজারের পূর্ব ও পশ্চিমে যানজট লেগেই আছে। যানজটের কারণে যাত্রী ও পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএনজি স্কুটার চালকরা জানান, ‘আমাদের গাড়ি রাখার জন্য কোথায়ও পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই মোড়ে মোড়ে এবং ফুটপাতে গাড়ি রাখছি। পৌরসভাকে প্রতিটি গাড়ি থেকে পৌর কর দিয়েও কোন সুবিধা পাচ্ছিনা।

যানজট বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদ হোসেন যানজট বৃদ্ধির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অটো রিক্সার অনুমতি দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। তারপরেও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে ।

এ বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, পৌর মেয়রের সাথে আলোচনা করে যানজট নিরসনে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পৌর মেয়র মাহফুজুল হক বলেন, যানজট নিরসনে উপজেলা প্রসাশন ও থানা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন