ambulance logo

অ্যাম্বুলেন্সে ‘প্রেমিকার লাশ’ রেখে পালাল প্রেমিক

নিউজ ডেস্ক :
অ্যাম্বুলেন্সে ‘প্রেমিকার লাশ’ রেখে কথিত প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মৃত অবস্থায় উদ্ধার নারী ফরিদা বেগম (৩৮) বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইশারী এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের মেয়ে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার শহরের শহীদ সরণির জইল্ল্যার দোকান এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা নারীর লাশটি উদ্ধার করা হয়।

তবে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস।

নিহত নারী ফরিদার ভাবী রাফিজা ইয়াসমিন বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে ফরিদা বেগমের সঙ্গে স্বামীর বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। তাদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানও রয়েছে। এরপর সে (ফরিদা) মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইতে চাকরি নিয়ে পাড়ি জমান। পরে গত ৩/৪ বছর আগে সে দেশে ফিরে আসে।

‘বিদেশ থাকতেই ফরিদা বেগমের সঙ্গে বাইশারীর মো. নোমান নামে স্থানীয় এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিদেশ থেকেও নোমানের কাছে ফরিদা টাকা পাঠাত। তার (ফরিদা) এসব টাকা দেশে নোমানের ব্যাংক একাউন্টেই জমা থাকত। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বারণ করা সত্ত্বেও ফরিদা অবাধ্য ছিল।’

ইয়াসমিন বলেন, দেশের আসার পরও ফরিদার সঙ্গে নোমানের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হলেও ফরিদা বরাবরই অমান্য করেছে।

‘শনিবার (১৩ মার্চ) সকালে জ্বর অনুভব করার কথা জানিয়ে ফরিদা বেগম কক্সবাজার শহরে চিকিৎসা কথা জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সে ওইদিন রাতেও বাড়ি ফিরেনি। পরদিন রোববারও বাড়ি না ফেরায় মনে সন্দেহ জাগে প্রেমিক নোমানের সঙ্গে পালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকবার কল সকালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে রিসিভ করেনি।’

Night King Sexual Animation
বিজ্ঞাপণ

পরে সোমবার সকালে এ্যাম্বুলেন্সটির চালক কল দিয়ে ফরিদার মৃত্যুর খবর জানায় বলে জানান নিহতের ভাবী।

এ্যাম্বুলেন্স চালক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, রোববার সকালে নোমান নামের এক ব্যক্তি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে এক নারীর লাশ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী এলাকায় নিয়ে যাবার কথা জানিয়ে তার অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া করে। পরে মরদেহ নিয়ে গাড়ি কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে নোমান মিনারেল পানি কেনার কথা জানায়।

‘এতে নোমান গাড়ি থেকে নামার পর আর ফিরেনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় আমি সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ি। পরে লাশটি নিয়ে শহরের জইল্ল্যার মোড় গাড়িটি রেখে দিই। সোমবার সকাল পর্যন্ত মরদেহসহ গাড়িটি সেখানেই ছিল।’

অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, ‘সোমবার সকালে লাশের সঙ্গে গাড়িতে একটি হ্যান্ডব্যাগের ভিতর একটি মোবাইল পাওয়া যায়। মোবাইলটিতে একটি নম্বর থেকে বেশ কয়েকটি মিসকল দেখতে পাই। পরে ওই ফোন নম্বরে কল দিয়ে এক নারীর মরদেহ গাড়ি পড়ে থাকার কথা জানাই।’

এ নিয়ে নিহতের স্বজনরা পুলিশসহ শহরের জইল্ল্যার মোড় এলাকায় পৌঁছে লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানান অ্যাম্বুলেন্স চালক আলমগীর।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস বলেন, অ্যাম্বুলেন্স থেকে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওই নারীর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হাতে পাওয়ার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেয়া হলে তদন্তের পর মামলা নথিবদ্ধ করা হবে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন