chandpur report 1892

শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের অপরাধে আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :  তিন জেলায় শিশু, কিশোরী ধর্ষণের অপরাধে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধর্ষণের অভিযোগে এক ধর্ষককে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃত ধর্ষকের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির বাবা মামলা করলে ধর্ষককে আটক করা হয়। আটক ধর্ষক মহুবর রহমান(৫০) উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের রামধন দাশপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে।

শিশুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত ছিল। ধর্ষিত ওই শিশুটি আহত হয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। পুলিশ বলেছে,শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের রামধন দাশপাড়া গ্রামে।

এলাকাবাসী ও থানা সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের পর ওই গ্রামের গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায়ের শিশু কন্যার করোনায় বিদ্যালয়ে ক্লাস না থাকার সুবাদে পরিবারের নির্দেশে তার এক বান্ধবীসহ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি জমিতে গরুর জন্য ঘাস আনতে যায়।

এসময় আগে থেকে অবস্থান করা ধর্ষক মহুবর রহমান দুই শিশুকে দেখে তাদের কাছাকাছি আসে।কথা বলার এক পর্যায়ে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে দিনে দুপুরে জাপটে ধরে।এরপর তার সাথে থাকা বান্ধবী ভীত হয়ে সেখান থেকে পাশে অপর এক বান্ধবীর বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানায়। এরই মধ্যে ধর্ষক মহুবর জোরপূর্বক শিশুটিকে একটি পানি নিষ্কাশনের নালায় ধরে নিয়ে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এরপর তাকে সেখানে ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে। এরপর শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে বাসায় ফিরে পরিবারের লোকজনকে সব খুলে বলে। এ অবস্থায় শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এ ব্যাপারে উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষিতাকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হলে ধর্ষণের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে আটক ধর্ষক মহুবর রহমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সিরাজদিখানে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার, ধর্ষক আটক হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষক মিজানকে (৩৭) ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। সে পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামের আজগর আলীর বখাটে ছেলে।

ধর্ষিতার মা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মেয়েকে রাতের খাবার দিয়ে পাশের বিল্ডিংয়ে ছোট মেয়ের কাছে যান। রাত ১০টার দিকে ফ্রিজে খাবার রাখার জন্য মেয়েকে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। ভিতর থেকে সাড়া না পেয়ে ধাক্কা দিয়ে দুয়ার খুলে বাতি জ্বালাতেই পাশের বাড়ির মিজানকে মেয়ের থাকার ঘরের ড্রেসিং টেবিলের নিচে দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিক কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে শিকল বন্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ধর্ষিতার ঘর থেকে মিজানকে আটক করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা ওইদিন রাতেই ধর্ষক মিজানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মিজান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সেই সাথে ভিকটিমকে মেডিকেল টেষ্টের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাগেরহাটে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্র গ্রেফতার হয়েছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সবুজ শেখ (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে শরণখোলা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে। প্রতিবেশী বগী গ্রামের লিটন শেখের ছেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ১০ শ্রেণির ছাত্র সবুজ শেখ তাকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ওই ছাত্রী মামা বাড়ি থেকে নানা বাড়ি ফেরার সময় সবুজ শেখ ও তার তিন বন্ধু মিলে জোরপূর্বক পাশের একটি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটির চিৎকারে তার মামি ঘর থেকে বেড়িয়ে এলে ধর্ষকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির মামা বাদী হয়ে সবুজ শেখসহ অজ্ঞাত আরো দুইজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার সকালে প্রধান আসামি সবুজ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটিকে পুলিশি হেফাজতে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন