editorial

স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও!

সম্পাদকীয়

এমন কিছু ঘটনা কারো কারো জীবনে ঘটে যায়, যেটাকে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণভাবে গ্রহণ করি। হতে পারে সেটা অন্যের কাছে ভালো নয়, হতে পারে সামাজিকভাবে অন্যায়; তবুও সেটা মানুষ করে। তবে সেইসব মুহূর্তগুলো যদি রেকর্ড করা হয় এবং তা ছড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে সেটার আপত্তিকর বিষয়টি আরো বেড়ে যায়। সমাজের মানুষ কোনোভাবে সেটা গ্রহণ করে না।

উঠতী বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রেম ঘটিত অনেক কিছুই হয়ে থাকে। এটা তাদের নিজস্ব বিষয়ই বলা চলে। যদিও এসবকে তারা নিজস্ব বলে গ্রহণ করে নেয় ও মেনে নেয় তবুও এগুলো যখন চারিদিকে ছড়িয়ে যায় এবং একপক্ষ এগুলোকে হাইলাইটস্ করে তখন সেগুলো সমাজের দৃষ্টিতে আপত্তিকর বলেও ধরা যায়। তখন সেগুলো অন্যায় ও লজ্জাজনক হিসেবেই গ্রহণ করা হয়। তবে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়া দুঃখজনক ও লজ্জাজনকই বলতে হবে। কিন্তু এসব যখন গোপন থাকে তখন এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা থাকে না, কেউ এসব নিয়ে চিন্তাও করে না। তবে একশ্রেণীর দুষ্টলোক রয়েছে যারা এগুলোকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে বা চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে দারুণভাবে পছন্দ করে থাকে। পাশাপাশি কেউ কেউ কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।

চাঁদপুর রিপোর্টে ‘আত্মহত্যার ২ মাস পর ছড়ানো হলো স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও, অভিযুক্ত পলাতক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমরা জেনেছি। পাঠকমাত্রই প্রশ্ন যে, তাহলে অভিযুক্ত কেনই বা পলাতক রইলো। তার ভয় কীসের? সে তো নির্ভয়েই আপত্তিকর ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছে! অথবা সে কোন উদ্দেশ্যে এভাবে আপত্তিকর বিষয়গুলো চারিদিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরেছে?

আমরা প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ‘রংপুরের বদরগঞ্জে আত্মহত্যার দুই মাস পর নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫) আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে ওই ছাত্রী বিষপান করে। মোবাইল ফোন কিনে না দেয়ায় মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যা করে বলে তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। ভিডিওটিতে স্থানীয় হাফিজুর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে দেখা যায়। এলাকাবাসীর ধারণা, হাফিজুর প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েটিকে বø্যাকমেইল করতে ভিডিওটি ধারণ করে। এ নিয়ে ক্ষোভ-লজ্জায় মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে।’ যদি বিষয়টি সেরকমই হয়ে থাকে তাহলে আসল দোষী ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যমে আরো জানা গেছে, ‘অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিও ধারণ করেছেন বিপুল চন্দ্র (২৬) নামের একজন। বিপুলের সঙ্গে হাফিজুরের বন্ধুত্ব আছে।’ অর্থাৎ এ বিষয়ে বন্ধুরও সহযোগিতা ছিলো। সুতরাং এসব বিষয় বিচার বিশ্লেষণ করে সত্যিকারে কারা কারা এ ঘটনায় জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। ‘জানা যায়, ভিডিওটি এলাকায় ভাইরাল হয়েছে ১৫ দিন আগে। এরপর থেকে তাদের বাড়িতে কেউ নেই। কোথায় গেছে, প্রতিবেশীরা কেউ জানেন না। বাড়িতে তালা ঝুলছে। ওই এলাকার ইউপি সদস্য ফজু মিয়া বলেন, ওই ছাত্রীর একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনার কথা শুনেছি। মানসম্মানের ভয়ে মেয়েটি নাকি আত্মহত্যা করে। তার পরিবার হতদরিদ্র।’

অপরদিকে যে এই ভিডিও ছড়িয়েছে তারই বা উদ্দেশ্য কী সেটা পরিস্কার বলা যাচ্ছে না। নাকি তৃতীয় কোনো শত্রæ এর সাথে জড়িত সেটা একটা চিন্তার বিষয়। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারলাম যে, ‘মেয়েটি আত্মহনন করার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিপুল চন্দ্রের মুঠোফোনে হাফিজুর রহমান ও আত্মহত্যা করা কিশোরীর ভিডিও আছে। তিন যুবক ১৫-১৬ দিন আগে স্থানীয় বাজারে বিপুলকে আটক করে তার মুঠোফোন থেকে মেমোরি কার্ড খুলে নেয়ার পর এলাকায় ওই ভিডিও ভাইরাল হয়।’ সুতরাং বিষয়টি আরো তদন্ত করা দরকার। তাহলে আসল সত্য বেড়িয়ে আসবে। তবে এটাও পরিস্কার যে, যেহেতু আত্মহত্যাকারী মেয়েটির পরিবার খুবই দরিদ্র; তাই তারাও মুখবুজে সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছে। দারিদ্রতা তাদেরকে দুর্বল করে রেখেছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের অপেক্ষা না করে এমন পরিস্থিতিতে এই ঘটনার জন্যে তদন্ত করা দরকার। প্রশাসনকেই ঐ পরিবারের পক্ষে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি। যদি সেটা যুক্তিযুক্ত হয় তাহলে অবশ্যই ঐ দরিদ্র পরিবার সুষ্ঠু বিচার পাবে। সেই সাথে আমরাও আশা করবো, এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্যে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।

শেয়ার করুন