DIP UNNON

হাজীগঞ্জের রামপুরে জামায়াতপন্থী এনজিও দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার বেআইনী কার্যকলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ  ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে জামায়াতপন্থী এনজিও দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার  বেআইনী কার্যকলাপ চলছে। এসব বিষয় নিয়ে রামপুর শাখার ফিন্ড অফিসার আ. আজিজ (মোবাইল নং 01687603894) নাম্বারে জানার জন্যে ফোন দিলে সাংবাদিকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

গতকাল ২৮ মার্চ ২০২১ খ্রি. তারিখে এলাকার লোকজনের ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর রিপোর্টে প্রতিবেদক ওই মাঠকর্মীকে বিষয়টি জানার জন্যে কথা বলতে চান। এ সময় ওই ফিন্ড অফিসার আ. আজিজ  এ প্রতিবেদককে পরদিন কথা বলার জন্যে বলেন।

পরদিন কিছু গ্রাহক ওই অফিসে গেলে তিনি তাদের কাছে সাংবাদিকদের কথা বলার বিষয়ে গালিগালাজ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করে তাকে বিষয়টি সম্পর্কে  জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। প্রতিবেদক তাকে বিষয়টি প্রমানের জন্যে অফিসে আসতে বলতে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

জানা যায়, জামায়াতপন্থী এনজিও দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা গত কয়েক বছর যাবত রামপুরে কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। তারা প্রথমে ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক মাসে কয়েক হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে নেন। এরপর গ্রাহককে ঋণ না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন।

এ বিষয়ে গতকাল দু’জন গ্রাহক চাঁদপুর রিপোর্ট অফিসে অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নিয়েছে ঋণ দিবে বলে, এখন তারা আমাদেরকে ঋণ না দিয়ে ঘুরাচ্ছে। শুধু আমরাই নয়, এমন  অনেক গ্রাহকের সাথে তারা করছে।

বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনায় জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গত  বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। সাইবার অপরাধে সংস্থার এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশের কাছে দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহের দৃষ্টিতে আসে – এমনটিই জানালেন মনপুরা থানার ওসি হানিফ শিকদার।

সূত্রে প্রকাশ, গত ২৯ অক্টোবর দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার মনপুরার একটি শাখা অফিসের মাঠকর্মী জাকির হোসেন (ভুয়া নাম)-কে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতকরে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে ফেসবুকে প্রচারের অভিযোগে মনপুরা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা ( ০৪ তাং ২৯/১০/১৪) দায়ের করে।

এসময় সংস্থার মনপুরা অফিসের মেফতাহ উদ্দিন ও রসেদা নামে দুই কর্মকর্তাকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওসি হাকিম শিকদার জানান, সাইবার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। জাকির হোসেনের প্রকৃত নাম মনির হোসেন। তার বয়স হবে ১৪/১৫ বছর। সে এবার কলাতলি খালেক জুনিয়র স্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা, তার রোল নং ১৮০০৪৬ । জাকির হোসেন নামে আলীম পাস এক ছেলের সনদ দিয়ে সে দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থায় চাকরী নিয়েছে।

জাকির হোসেন ওরফে মনির হোসেন জানায়, সংস্থাটি জামায়াত পন্থী হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কর্মচারী নিয়োগে মাদ্রাসা সনদের খুবই মূল্যায়ন করে।

মনপুরা থানারওসি হানিফ শিকদার জানান, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা একদিকে স্কুল ছাত্রকে চাকরি দিয়ে শিশু শ্রম আইন লংগন করেছে অপর দিকে তাদের নিয়োগ কৃতকর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপিদের ছবি বিকৃত করে প্রতিনিয়ত ফেসবুকে প্রচার করলে ওসংস্থাটি এদের বিরুদ্বে কোনব্যবস্থা না নিয়ে আরো উৎসাহিত করছে এমনটি জানা গেছে আটককৃত জাকির হোসেনের কাছ থেকে। তাই মনপুরায় কর্মরত তাদের সকল অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজর দারিতে রাখা হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়,এনজিও আড়ালে এনজিও ব্যুরোর ডিজি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডোনেশনের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদানে লুটপাট করে এক সময়ের রাস্তার ছেলে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলম মুক্তিযোদ্বা পরিচয়ে অল্প দিনেই কোটিপতি বনে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে রফিকুল আলমের জামায়াতপন্থী মুক্তিযোদ্বা হিসেবে এলাকায় বেশ খ্যাতি রয়েছে।

শেয়ার করুন