chandpur report 1795

হাজীগঞ্জে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ চলছে

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জে ১১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।

গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদার নিয়োগ করে মসজিদের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অবকাঠামো নির্মান কাজ প্রায় ২৫ ভাগ শেষ হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে মডেল মসজিদ নির্মান কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশন ফিল্ড সুপার ভাইজার মো. জাহিদুল হক বলেন, মসজিদগুলো ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করবে। মসজিদগুলোতে নারী-পুরুষের আলাদা অজু করা ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি মসজিদ হবে একই মডেলের। বর্তমানে ৪৩ শতক জায়গায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। শহরের মধ্য মসজিদের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা না পেয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পরে মডেল মসজিদ নির্মান করার জন্য এগিয়ে আসেন উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের সমাজ সেবক ও ধার্মিক ব্যাক্তি আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া।

তিনি জমির মূল্য না নিয়েই ইসলামী ফাউন্ডেশনের নামে ৪৩ শতাংশ সম্পত্তি লিখে দেন বা দানপত্র দলিল করে তাঁর নামীয় জমি হস্তান্তর করেন। আর ওই জমির উপর নির্মিত হচ্ছে মডেল মসজিদ এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ওই ইউনিয়নের পূর্ব কাজিরগাঁও গ্রামের হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের দক্ষিন পার্শ্বে এক মনোরম পরিবেশে মডেল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জি. রিপন বলেন, নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই অবকাঠামো নির্মান কাজ প্রায় ২৫ ভাগ শেষ হয়েছে। কার্যাদেশে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় সীমা থাকলেও বর্ষণজনিত কারনে নির্মাণ কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সময়মত কাজ শেষ না হলেও ২০২২ সালের মধ্যে নির্মান কাজ শেষ হবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এই ব্যাক্তি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে মসজিদগুলো একই মডেলে নির্মিত হচ্ছে সারা দেশে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এগুলো নির্মিত হবে। জেলা পর্যায়ে চারতলা এবং উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা মসজিদ নির্মিত হবে। প্রতিটি মসজিদে নারী ও পুরুষদের আলাদা আলাদা সুবিধা থাকবে। এছাড়াও থাকবে পৃথক পৃথক অজুখানা ও নামাজের ঘর। অন্যান্য সুবিধাগুলো হচ্ছে-পবিত্র কুরআন পাঠ, লাইব্রেরি, শিশুদের শিক্ষা, অতিথিশালা, মৃতদের গোসল করানো এবং হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষনের সুবিধা। উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফিল্ড সুপার ভাইজার মো. জাহিদুল হক আরো বলেন, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রসারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সরকারের বিশেষ উদ্দ্যেগ।

এসব মসজিদ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেই কাজ করবে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশী অর্থায়ন ছাড়াই মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এইসব মসজিদের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। ফলে উপজেলা সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ইসলাম ধর্মের উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রসারের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গঠন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে রয়েছে এই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়। ইসলামী গ্রন্থের প্রকাশনা, দেশব্যাপী ইসলামী পাঠাগার পরিচালনা, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ ইসলামী তাহজিব তমদ্দুন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

শেয়ার করুন